
দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ইসলামী বক্তা, মুফাসসির এবং জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিক।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ওয়াজ মাহফিলে কোরআনের তাফসির পেশ করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর সাবলীল ও আকর্ষণীয় বক্তৃতার জন্য অনুসারীদের কাছে তিনি “কোরআনের পাখি” হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তিনি ১৯৪০ সালে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার সাঈদখালী গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী চিন্তাবিদ ও বিশিষ্ট মুফাসসির হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তাঁর ওয়াজ মাহফিলে প্রচুর মানুষের সমাগম হতো।
তিনি ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পিরোজপুর-১ আসন থেকে দুই মেয়াদে সংসদ সদস্য ছিলেন।
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, যা পরে ২০১৪ সালে আমৃত্যু কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়। তাঁর রায় ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে দেশে-বিদেশে তীব্র বিতর্ক, পক্ষে-বিপক্ষে রাজনৈতিক সংঘাত ও প্রতিবাদ হয়েছিল। ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
তাঁর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক শোক ও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিলো। কারণ তাঁর সমর্থক এবং অনুসারীদের কাছে তিনি একজন বিখ্যাত ইসলামি বক্তা, কুরআনের তাফসিরকারক এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক শীর্ষ নেতা হিসেবে গভীরভাবে সমাদৃত ছিলেন।
তাছাড়া তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ধর্মীয় ওয়াজ ও তাফসির মাহফিলগুলোর কারণেও এ দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর হৃদয়ে তিনি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছেন। তাঁর ইন্তেকালের পর এবং বিভিন্ন স্মরণসভায় তাঁর অনুসারীরা তাঁকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে স্মরণ করেন।
আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর কর্ম, জীবন এবং রাজনৈতিক অবস্থানকে ঘিরে শক্তিশালী দৃষ্টিভঙ্গি সমাজে আজও সমানভাবে বিদ্যমান।
লেখক: কবি ও সাংবাদিক
দ.ক.২৬