
শিক্ষা ও গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য নিজের মৃতদেহ হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে দান করে গেছেন নবীগঞ্জের লিটন দাশ তালুকদার (৩৫)।
দীর্ঘদিন ধরে দুই কিডনি নষ্ট হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় রোববার দুপুরে মৃতু্য বরন করেন।
লিটন দাশ নবীগঞ্জ পৌরসভার শিবপাশা এলাকার মৃত দ্বিজেন্দ্র দাশ তালুকদার এবং রেখা রানী দাশের সন্তান।
লিটন দাশের মৃত্যুর পর তাঁর দেহ যেন হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হয়, এমন ঘোষণা দিয়ে তিনি গত ১৩ আগস্ট আইনী প্রক্রিয়ায় নোটারীকৃত ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে তা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন ।
মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জাবেদ জিল্লুল বারি ও এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সুপার্থ ভট্টাচার্য্য জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে মৃত লিটন দাশের মরতেহ তার বাড়ি থেকে সংগ্রহ করেন।
এ সময় কলেজের পক্ষ থেকে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে নবীগঞ্জে উপস্থিত ছিলেন এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সুপার্থ ভট্টাচার্য্য ও প্রধান টেকনোলজিস্ট প্রশান্ত চন্দ্র দেব।
ছাত্রজীবনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আদর্শে অনুপ্রাণিত লিটন দাশ বিশ্বাস করতেন, মৃত্যুর পর তাঁর দেহ মানবকল্যাণে ব্যবহার হলে তাঁর জীবনের কিছুটা সার্থকতা হবে। তাঁর দেহ নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে মেডিকেল শিক্ষার্থীরা উপকৃত হয়ে ভবিষ্যতে চিকিৎসাসেবায় অবদান রাখতে পারবেন, এমন চিন্তা থেকেই তিনি দেহদানের সিদ্ধান্ত নেন বলে তার ভাই দিপু দাশ তালুকদার জানান।এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সুপার্থ ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘লিটন দাশের এমন পরোপকারী ও সাহসী সিদ্ধান্ত আমাদেরও মানবিক হওয়ার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জোগাবে।’
হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জাবেদ জিল্লুল বারি বলেন, লিটন তাশ মরারর আগে এ মরদেহ হস্তান্তর বিষয়ে আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গেছেন । সে অনুযায়ী রোববার রাতে তার পরিবার হবিগঞ্জ মেডিকেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁর মানবিক অবদানের কথা স্মরণ রাখবে।’
দ.ক/এমআরএন