
আসাদ ঠাকুর : চুনারুঘাট উপজেলায় লাগামহীন লোডশেডিং জনজীবনকে বিপর্যন্ত করে তুলেছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোলট্রি জোন হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা পড়েছেন মারাত্মক সংকটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে চুনারুঘাটে বিদ্যুতের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। একের পর এক লোডশেডিংয়ের কারণে দিনের পাশাপাশি রাতেও জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।
গত এক সপ্তাহে দিন এবং রাতের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। সকাল, বিকেল সন্ধ্যা, রাত ও গভীর রাতেও একাধিকবার বিদ্যুৎ বন্ধ ও চালু হয়। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে স্থানীয়রা।
তীব্র গরমে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পোলট্রি খাত। বিদ্যুৎ না থাকায় খামারগুলোতে বাধ্য হয়ে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে কয়েকগুণ। পাশাপাশি অতিরিক্ত গরমে অনেক মুরগি অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানান খামারিরা।
স্থানীয় গোলট্রি খামারি জিতু মিয়া জানান, ‘নিয়মিত লোডশেডিং ও তীব্র গরমে পোলট্রি খামারিরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। জেনারেটর চালিয়ে খরচ সামলানো অসম্ভব হয়ে উঠছে। অনেক খামার বন্ধ হওয়ার পথে।’
হাসপাতালে বাড়ছে দুর্ভোগ লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্যসেবাতেও। চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর ও সোলার থাকলেও সেটা ল্যাবের কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় রোগীরা গরমে অস্বস্তিতে আছেন। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কিছি জেনারেটর দীর্ঘদিন ধরে তেল সংকটে বিকল পরে আছে। এতে লোডশেডিংয়ের কারণে চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীরা একই অভিযোগ করেছেন। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট ও ব্যয়স্ক রোগীরা গরমে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় একই চিত্র। তবে গ্রাম্য এলাকায় পল্লি বিদ্যুতের অবস্থা আরও খারাপ। সারাদিন ও রাতের গরমে শিশুরা ঠান্ডা কাশির মতো রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, বাড়ছে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা।
তাছাড়া সাধারণ ছাত্র ছাত্রীরা পড়াশোনা করতে পারছে না। এইচ এস সি পরীক্ষা সদ্য শেষ হলেও এখনো রয়েছে প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা। রাতের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অনেককে মোমবাতি বা চার্জলাইটের আলোয় পড়তে হচ্ছে।
অধিকাংশ বিদ্যালয়ে জেনারেটর না থাকায় শ্রেনী কার্যক্রম চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ছাত্র ছাত্রী শ্রেনীকক্ষে টিকতে পারছে না।
অন্যদিকে অধিকাংশ অটোরিকশাচালক অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাটারি চার্জ দিতে পারেন না। এক বেলা গাড়ি চালালে আরেক বেলা বসে থাকতে হয়। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চুনারঘাট জোনাল অফিসের এজিএম বলেন, চুনারুঘাটে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩০ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ১২/১৩ মেগাওয়াট। চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে।’
উল্লেখ্য যে, চুনারুঘাট জোনাল অফিসের অধীনে প্রায় ৭০ হাজার পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে।
দ.ক.সিআর