
হবিগঞ্জে গান, কবিতা, চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় তৃতীয় বারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘শব্দকথা শরৎ উৎসব ২০২৬’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শরৎবন্দনার গান ‘আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরির খেলা’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। গান, কবিতা ও সাহিত্য আলোচনায় ক্রমেই প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। সাহিত্য-সংস্কৃতিবিষয়ক সংগঠন শব্দকথা সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবে সংগঠনের উপদেষ্টা হেলাল আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান তরফদার জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, লেখক ও প্রভাষক হাবিব খোকন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন, বৃন্দাবন সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শব্দকথা সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের উপদেষ্টা ড. সুভাষ চন্দ্র দেব, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আওয়াল, সংগীতগুরু স্বদেশ দাশ, নাট্যকার বাবুল মল্লিক, সংগীতশিল্পী গোপী মোহন দাস, সংগীতশিল্পী সাজিদ পরদেশী, নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অফিসার গোলাম তাওহীদ কাওছার এবং ব্যাংকার শাহ আলম।
অতিথির বক্তব্যে ড. সুভাষ চন্দ্র দেব বলেন, ঋতুবৈচিত্র্য বাংলাদেশের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। প্রকৃতির এই বৈচিত্র্যের সঙ্গে আমাদের লোকজ ঐতিহ্য, সাহিত্য, সংগীত ও জীবনযাপনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। নতুন প্রজন্মকে আবহমান বাংলা সংস্কৃতি ও শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি করা প্রয়োজন। সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে আমাদের ঐতিহ্যের সংযোগ আরও দৃঢ় করা সম্ভব।
উৎসবে গান ও কবিতা পরিবেশন করে দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন নুরুন্নাহার শিমুল, সৈয়দা রিমা, এনি দাস, কুহিনূর ইসলাম স্বপন, জগৎ দাস, সৈয়দা রুম্পা, সৈয়দা বেলী, মৃণাল বাবু, সৌরভ রায় ও মারিয়া। তাঁদের পরিবেশনায় উঠে আসে শরতের প্রকৃতি, প্রেম, বিরহ ও বাংলার চিরায়ত জীবনবোধ। কখনো গানের সুরে, কখনো কবিতার পঙ্ক্তিতে, আবার কখনো পরিবেশনার আবেগে শরতের রূপ যেন ছুঁয়ে যায় উৎসবের দর্শক-শ্রোতাদের। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘শরতের প্রকৃতি’ বিষয়ক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় শিশু-কিশোরদের আঁকা ছবিতে ফুটে ওঠে শরতের নীল আকাশ, সাদা কাশফুল, সবুজ প্রকৃতি, নদী, মাঠ ও বাংলার গ্রামীণ জীবনের নানা দৃশ্য। এতে উৎসবের সাংস্কৃতিক পরিসরে যুক্ত হয় নতুন প্রজন্মের সৃজনশীল অংশগ্রহণ। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ‘শরতের প্রকৃতি’ বিষয়ক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার ও বই তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিশু-কিশোরদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সৃজনশীলতার প্রশংসা করেন অতিথিরা।
আয়োজকেরা বলেন, বাংলা সংস্কৃতির ঋতুভিত্তিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং সাহিত্য-সংস্কৃতিচর্চায় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতেও শব্দকথা সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ-এর উদ্যোগে এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।