
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। একের পর এক ডাকাতি, ছিনতাই, কুপিয়ে জখম ও মাদকের অবাধ বিচরণে সাধারণ মানুষ এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই লস্করপুর ও সাটিয়াজুরী পরিত্যক্ত রেলস্টেশন এলাকা পরিণত হচ্ছে মাদকসেবীদের অভয়ারণ্যে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় জনমনে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঘরে ঢুকে ৩ জনকে কুপিয়ে জখম।
গত কয়েকদিনের মধ্যে বাহুবলের এক বাড়িতে দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ৩ জনকে গুরুতর জখম করেছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও এখনো হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা যায়নি।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিজের ঘরেও এখন নিরাপত্তা নেই বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
স্কুলে যাওয়ার পথে শিক্ষিকা ছিনতাইয়ের শিকার।
সকাল বেলাতেও রেহাই নেই। সম্প্রতি এক শিক্ষিকা স্কুলে যাওয়ার পথে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। দুর্বৃত্তরা তার কাছ থেকে সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
দিনের আলোয় এভাবে একজন শিক্ষিকার উপর হামলা প্রমাণ করে বাহুবলে এখন দুর্বৃত্তদের কোনো ভয়ই নেই।
রাত হলেই রেলস্টেশন এলাকায় গাঁজার রাজত্ব।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই বাহুবলের লস্করপুর ও সাটিয়াজুরী পরিত্যক্ত রেলস্টেশন এলাকা থেকে ভেসে আসে গাঁজার তীব্র গন্ধ। মাদকসেবী ও কারবারিদের দৌরাত্ম্যে ওই এলাকা দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল এখন প্রায় বন্ধ।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, প্রশাসন কি এই দৃশ্য দেখে না? নাকি দেখেও না দেখার ভান করছে?
জনমনে ক্ষোভ, প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি।
একদিকে ঘরে ঢুকে হামলা, অন্যদিকে রাস্তায় ছিনতাই, আর রাত হলেই প্রকাশ্যে মাদকের আসর। এই তিনে মিলে বাহুবলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন চরমে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী বলেন, “আমরা আর কত ভয়ে থাকব? পুলিশের টহল নেই, মাদকের আড্ডা বন্ধ হয় না। প্রশাসন যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।”
বাহুবলবাসী অবিলম্বে পরিত্যক্ত রেলস্টেশন এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল, ছিনতাই ও কুপিয়ে জখমকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাহুবল মডেল থানার ওসির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
বি.দ্র: বাহুবলবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
দ.ক.২৬