বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
হবিগঞ্জে প্রাথমিক বৃত্তির ফলাফলে নাম না থাকায় ক্ষোভ: অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বিলীন হচ্ছে শতবর্ষের ছাতা মেরামতের পেশা বাহুবলে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি: শিক্ষিকা ছিনতাই, জনমনে তীব্র উদ্বেগ জাবেদ আলীকে জানতাম বিএনপি নেতা ও উন্নয়ন কমিটির সদস্য; সম্প্রতি করলেন মাদক বিরোধী সভাও। কিন্তু অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো- ৩টি মাদক মামলাসহ সীমান্তের এক গরু চোরাচালান মাফিয়া সে! মাদকনির্মূলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে বিরল কালো মথুরা জাবেদ আলীকে জানতাম বিএনপির নেতা ও উন্নয়ন কমিটির সদস্য; কিন্তু অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো- ৩টি মাদক মামলসহ সীমান্তের এক চোরাচালান মাফিয়া! ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচীর আওতায় রাজার বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ বেহাল আহম্মদাবাদের গ্রামের রাস্তা, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ মেম্বার পদে লড়তে চান রুমেল আহমেদ

বিলীন হচ্ছে শতবর্ষের ছাতা মেরামতের পেশা

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

 

আধুনিকতার ছোঁয়া, কম দামে নতুন ছাতার সহজলভ্যতা এবং আয় কমে যাওয়ার কারণে কালের স্রোতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শতবর্ষের ছাতা মেরামতের ঐতিহ্যবাহী পেশা। একসময় বর্ষা মৌসুমে যার ছিল ব্যাপক চাহিদা, সেই পেশায় এখন নতুন প্রজন্মের আগ্রহও কমে গেছে।

স্থানীয় বাজার ও বিভিন্ন হাটে এখনো কয়েকজন ছাতা মেরামতের কারিগর বসেন। তাদের দক্ষ হাতে ভাঙা শিক, ছেঁড়া কাপড়, নষ্ট স্প্রিং কিংবা হাতল বদলে পুরোনো ছাতা আবারও ব্যবহার উপযোগী হয়ে ওঠে। তবে আগের তুলনায় কাজের পরিমাণ ও আয় দুটোই কমে যাওয়ায় পেশাটি টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়নের ফান্দাউক গ্রামের গাইনহাটির বাসিন্দা আবেদ আলী প্রায় ৩৮ বছর ধরে ছাতা মেরামতের কাজ করছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই পেশাই ছিল তার পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। তিনি জানান, আগে বর্ষা মৌসুমে দিনে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় হতো। বর্ষার তিন মাসের আয়েই বছরের বড় একটি সময় সংসার চালানো যেত। এখন দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় বর্ষার দিনে গ্রামে গ্রামে ছাতা মেরামতকারীদের হাঁকডাকে পরিবেশ মুখর থাকত। কিন্তু বর্তমানে বাজারে কম দামে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের নতুন ছাতা সহজেই পাওয়া যায়। ফলে মানুষ পুরোনো ছাতা মেরামতের পরিবর্তে নতুন ছাতা কিনতেই বেশি আগ্রহী হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি অনেক ছাতা সহজে মেরামত করা সম্ভব হয় না। পাশাপাশি কাজের অনিয়মিততা ও আয় কমে যাওয়ায় নতুন প্রজন্মও এই পেশায় যুক্ত হতে আগ্রহ হারাচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা বলেন, ছাতা মেরামতের মতো ঐতিহ্যবাহী পেশা সংরক্ষণ করা মানে শুধু কিছু মানুষের জীবিকা রক্ষা করা নয়; বরং দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, দক্ষ কারিগরি এবং পরিবেশবান্ধব জীবনধারাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।

স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এই পেশা টিকিয়ে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ, সামাজিক সহায়তা এবং দক্ষ কারিগরদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্রয়োজন। অন্যথায় একসময় শতবর্ষের এই পেশা শুধু স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।

দ.ক.সিআর.২৬

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© 𝐰𝐰𝐰.𝐤𝐚𝐚𝐥𝐧𝐞𝐭𝐫𝐨.𝐜𝐨𝐦
Theme Customized By BreakingNews