
আসাদ ঠাকুর, অমনিবাস: কৃষিই ভবিষ্যৎ কৃষিই ভরসা। কৃষিবিদদের মতে, দেশে আবাদযোগ্য পতিত জমিসহ উপকূল ও হাওর অঞ্চলের জলাবদ্ধ এক ফসলি জমিকে দুই বা তিন ফসলি জমিতে পরিণত করতে পারলে বছরে ৫০ লাখ টন বাড়তি খাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব। আর খাল খনন বা পুনঃখনন জমির ফসল উৎপাদনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং উৎপাদন খরচ কমিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
ফসল উৎপাদনে খাল খননের মূল সুবিধাসমূহ:
★ শুকনো মৌসুমে খালের সংরক্ষিত পানি সেচের কাজে ব্যবহারের ফলে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
★ বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন করে জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব হবে, যা ফসলের ক্ষতি কমাবে।
★ খালের পানির সহজলভ্যতা সেচের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনবে, ফলে চাষাবাদের খরচ কমবে।
★ অনেক পতিত বা এক ফসলি জমি সেচের আওতায় এসে দুই বা তিন ফসলি জমিতে পরিণত হবে।
★ অধিক ফসল উৎপাদনের ফলে কৃষকের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।
দেশের কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ঘোষিত দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন শুরু করা হয়েছে। কৃষি,খাদ্য,মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন জানান, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার নদী-খাল পুনঃখননের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকদের সেচ সুবিধা বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেখানো পথে ৪৫ বছর পর দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে. দেশের ৫৪টি জেলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচির কাজ শুরু করেছে বর্তমান বিএনপি সরকার।
সারসংক্ষেপে, এই খাল খনন কর্মসূচি টেকসই কৃষি ব্যবস্থা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
দ.ক.সিআর.২৬