
কালনেত্র ডেস্ক: টানা ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যার শঙ্কায় দেশের হাওরাঞ্চলে কৃষকদের দুর্ভোগ বাড়ছে। সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা এবং ময়মনসিংহের বিস্তীর্ণ এলাকায় পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য তিন মাসের সরকারি সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার জাতীয় সংসদে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাওরাঞ্চলে যেসব কৃষকের ফসল ভারী বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আগামী তিন মাস সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, স্থানীয় প্রশাসনকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা দ্রুত প্রস্তুত করা যায়।
সংসদে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ হাওরাঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, প্রবল বর্ষণে বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা প্লাবিত হচ্ছে এবং কৃষকেরা জীবনঝুঁকি নিয়ে ধান কাটতে মাঠে কাজ করছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিন দিন আগেই আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট জেলার প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছিল। তিনি জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য জরুরি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র ইতোমধ্যে পাঁচটি জেলার জন্য বন্যার ঝুঁকির সতর্কবার্তা দিয়েছে। সিলেট বিভাগের কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এতে চলতি বোরো মৌসুমের ধান ঘরে তোলার আগেই কৃষকের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কৃষি বিশ্লেষকদের মতে, হাওরাঞ্চলের অর্থনীতি মূলত এক ফসলনির্ভর। তাই এই মৌসুমের ধান নষ্ট হলে কৃষকের সারা বছরের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ে। সরকারের তিন মাসের সহায়তার ঘোষণা তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিলেও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন পরিকল্পনাও জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দ.ক.সিআর.২৬