মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
বাহুবলে ১১৪ দিন পর যোগ দিলেন নতুন এসিল্যান্ড, ভূমি সেবায় গতি ফেরার প্রত্যাশা নজরুল বর্ষ ঘোষণা করে সরকারের প্রজ্ঞাপন জারি বাহুবলে পুলিশের বিশেষ মহড়া, ওসির নেতৃত্বে টহল জোরদার জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রমের সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ চুনারুঘাটে শত বছরের পুরনো কবরস্হানের রাস্তা কেটে ফেলার অভিযোগ  চুনারুঘাটে নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ বিক্রেতাকে জরিমানা রানীগাঁওয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব রাজার বাজার স্কুল: অতীত দিনের স্মৃতিগাঁথা- সুভাষ চন্দ্র দেব ইসলামি স্বর্ণযুগের শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক ইবনে সিনার মৃত্যুবার্ষিকী আজ চুনারুঘাটে কাজিরখিল সেতুর কাছেই ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন, সেতুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

লাখাইয়ে হারভেস্টার মালিকদের ‘অদৃশ্য হাতে’ পিষ্ট কৃষক

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

 

পারভেজ হাসান লাখাই: হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় আগাম বন্যায় তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। একদিকে ভারী বৃষ্টি আর বন্যার আতঙ্ক, অন্যদিকে ধান কাটার যন্ত্র ‘কম্বাইন হারভেস্টারের’ মালিকদের সিন্ডিকেটে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ কৃষক। সরকারিভাবে ধান কাটার রেট প্রতি কানি (৩০ শতাংশ) ১৭৫০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও যন্ত্র মালিকরা কৃষকদের জিম্মি করে আদায় করছে ২৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত। অভিযোগ উঠেছে, খোদ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ও তদারকির অভাবে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের এই ‘গলাকাটা’ পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে।

সরেজমিনে জানা যায়, বন্যার আশঙ্কায় দ্রুত ধান ঘরে তুলতে মরিয়া কৃষকদের এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিচ্ছে হারভেস্টার মালিকরা। সরকারি ভর্তুকি দিয়ে কেনা এসব যন্ত্র দিয়ে ধান কাটতে এলাকাভেদে অস্বাভাবিক হারে টাকা দাবি করা হচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, হারভেস্টার মালিকদের এই বাড়তি টাকা আদায় যেন তাদের গলায় অদৃশ্য হাত দিয়ে চেপে ধরার মতো।

অবাক করার বিষয় হলো, মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা সরকারি রেট সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান। এমনকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহেদুল ইসলামও সরকারি রেট জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন। কৃষকদের প্রশ্ন—উপজেলা কৃষি বিভাগ যদি ধান কাটার সরকারি হারই না জানে, তবে কৃষকের অধিকার রক্ষা হবে কীভাবে?

অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, এ বছর প্রতি কানি ধান কর্তনের সরকারি হার ১৭৫০ টাকা। এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফারিয়া আলম বলেন, “সরকারি রেটের চেয়ে বেশি টাকা নিলে কৃষকদের লিখিত অভিযোগ দিতে হবে।”

তবে কৃষকদের দাবি ভিন্ন। তাদের মতে, কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে এসে তদারকি না করার সুযোগেই হারভেস্টার মালিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। বন্যাকবলিত এই দুর্দিনে লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রতিকার পাওয়ার মতো সময় বা মানসিক অবস্থা কৃষকদের নেই।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি নিয়ম কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। কৃষকদের এই সংকটময় মুহূর্তে উপজেলা কৃষি বিভাগকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়কারী হারভেস্টার মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।

দ.ক.সিআর.২৬

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© 𝐰𝐰𝐰.𝐤𝐚𝐚𝐥𝐧𝐞𝐭𝐫𝐨.𝐜𝐨𝐦
Theme Customized By BreakingNews