
নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: নবীগঞ্জে সরকারিভাবে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এখানে সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও সমন্বয়কদের প্রভাব বিস্তারের কারণে সাধারণ কৃষকরা নিজে গিয়ে ধান দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে কৃষকদের কার্ড দিতে হচ্ছে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি সংশ্লিষ্ট একটি সিন্ডিকেটের সদস্যদের হাতে। সেই কার্ড দিয়েই নেতারা গুদামে ধান প্রবেশ করাচ্ছেন, আর বিনিময়ে কৃষকরা পাচ্ছেন নামমাত্র কিছু হাদিয়া। এসব কর্মকাণ্ডে গুদাম কর্মকর্তা নীল রতন রায়সহ কর্মচারীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে।
সূত্রে জানা যায়, সারা দেশের মতো নবীগঞ্জ উপজেলায় ১ হাজার ২৪০ টন ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত ৬১৫ জন কৃষকের তালিকা অনুযায়ী ধান নেওয়ার নিয়ম থাকলেও বাস্তবে কৃষকরা ধান নিয়ে গুদামে গেলে সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও সমন্বয়কদের ব্যারিকেডের মুখে পড়েন। তাদের ম্যানেজ করেই ধান দিতে হয়, নইলে সম্ভব হয় না।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির কয়েকজন সমন্বয়ককে নিয়ে ধান সংগ্রহ ঘিরে ১২ থেকে ১৪ জনের একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তারা গ্রামাঞ্চল থেকে কৃষি কার্ড সংগ্রহ করে দলীয় প্রভাব ও খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ইতিমধ্যে প্রায় ৩৪০ টন ধান গুদামে দিয়েছে। এ কাজে গুদাম কর্মচারী কাশেম মিয়া ও গুদাম সর্দার আব্বাছ মিয়ার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ধানের সর্বোচ্চ আদ্রতা ১৪ শতাংশ থাকার কথা থাকলেও ১৫, ১৬ ও ১৭ শতাংশ আদ্রতার ধানও সঠিকভাবে পরিমাপ না করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
এ বিষয়ে গুদাম কর্মকর্তা নীল রতন রায় বলেন, সরকারের নিয়ম অনুসরণ করেই ধান নেওয়া হচ্ছে। কেউ কৃষি কার্ড নিয়ে এসে ধান দিলে এবং তিনি প্রকৃত কৃষক না হলে, বিল দেওয়ার সময় প্রকৃত কৃষকের হাতেই চেক দেওয়া হবে। পরে তিনি স্বীকার করেন, অকৃষি ব্যক্তিদের কাছ থেকে কৃষকের কার্ড দেখে ধান নেওয়া হয়েছে এবং এতে দলীয় প্রভাব রয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিদুর করিম মজিদ বলেন, দলীয় প্রভাব কাটিয়ে কেউ ধান সংগ্রহ অভিযানে বাধা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কাজ বিএনপি বরদাশত করবে না।
কৃষক গিয়াস উদ্দিন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে জমির ধান নষ্ট হয়েছে এবং সরকারি কৃষি প্রণোদনা থেকেও তিনি বঞ্চিত হয়েছেন। যে কিছু ধান পেয়েছিলেন, বাজারদর কম থাকায় সরকারি গুদামে দিতে গিয়েও সুযোগ পাননি।
দ.ক.সিআর.২৬