নাজমুল ইসলাম হৃদয়ঃ হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় দীর্ঘ প্রায় ১১৪ দিন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড পদ শূন্য থাকার পর অবশেষে নবযোগদান করেছেন সায়ীদ মুহাম্মদ। তাঁর যোগদানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের সেবা জট নিরসন হবে এবং ভূমি সেবায় স্বাভাবিক গতি ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
সোমবার (২২ জুন) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নবাগত এ কর্মকর্তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায়সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল ইসলাম বদলি হওয়ার পর থেকে টানা ১১৪ দিন এ গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য ছিল। ফলে উপজেলার নামজারি, খারিজ, জমির রেকর্ড সংশোধন, ভূমি উন্নয়ন কর সংক্রান্ত কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ভূমি সেবায় ধীরগতি দেখা দেয়। সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং প্রশাসনিক তৎপরতায় কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে সকল কার্যক্রম সচল রাখেন এবং জনসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন।
এ ছাড়া এসিল্যান্ড পদ শূন্য থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমও কিছুটা ব্যাহত হয়। বিশেষ করে অবৈধ বালু উত্তোলন, পাহাড় কাটা ও সরকারি খাস জমি দখলসহ বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধে প্রশাসনিক তৎপরতায় কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে বিভিন্ন কার্যক্রম সচল রাখেন এবং জনসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) যোগদানের ফলে অবৈধ বালু উত্তোলন প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি ভূমি সেবার বিভিন্ন কার্যক্রমে গতি ফিরবে এবং জনগণ দ্রুত সেবা পাবে।”
তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসন জনসেবার মানোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নতুন এসিল্যান্ডের যোগদানের মাধ্যমে ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তারাও আশা প্রকাশ করেন, নবাগত সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়ীদ মুহাম্মদের নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের সেবা জট দ্রুত নিরসন হবে এবং উপজেলার ভূমি সেবায় নতুন গতি সঞ্চার হবে। ফলে সাধারণ মানুষ আরও দ্রুত ও সহজে ভূমি সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
দ.ক.সিআর.২৬