1. live@kaalnetro.com : কালনেত্র : কালনেত্র
  2. info@www.kaalnetro.com : দৈনিক কালনেত্র :
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
হ‌বিগঞ্জ মেডি‌কেল ক‌লে‌জে লিটন দাশের মরণোত্তর দেহ দান তারুণ্যকে ইতিবাচক কাজে লাগাতে খেলাধুলার বিকল্প নেই : জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধায় হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস সেবার উদ্বোধন মানুষের নীরব কান্নার পাশে দাঁড়ানো এক অদম্য জলযোদ্ধার গল্প: আসাদ ঠাকুর কলমের কালি বৃথা যায়নি জনদুর্ভোগের বিরুদ্ধে জনতার বিজয় রাজার বাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত চুনারুঘাটে ইসলামী আন্দোলনের দ্বী-বার্ষিক অধিবেশন ১৬ সেপ্টম্বর  উলামা পরিষদের সীরাত ও হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের তালিকা  সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নসহ জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চাই: সাইফুল ইসলাম বাহুবলে দুই প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ-অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

বাবা নেই, মায়ের কাছেও ঠাঁই হয়নি: শেষ আশ্রয়ের খোঁজে সরাইল থানায় দুই অবুঝ শিশুর কান্না 

পারভেজ হাসান, লাখাই
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

সরাইল উপজেলার বড্ডাপাড়া গ্রামের দুই অবুঝ শিশু। যে বয়সে হাতে বই-খাতা আর বন্ধুদের সাথে খেলার কথা, সেই বয়সেই জীবন তাদের এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে করেছে।

বাবার মৃত্যুর পর যেন তাদের জীবন থেকে নিরাপত্তা, ভালোবাসা আর আশ্রয়ও হারিয়ে গেছে। তাদের মাও ভিন্ন জায়গায় চলে গেছেন, সন্তানদের দায়িত্ব থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই দুই ভাই চরম অবহেলা, অনিশ্চয়তা ও কষ্টের মধ্যে ভবঘুরের মতো জীবনযাপন করছে। কখনো মানুষের দয়া, কখনো প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় কোনোমতে দিন কাটছিল তাদের।

কিন্তু একপর্যায়ে আর কোনো উপায় না দেখে, স্থানীয় কয়েকজন স্কুলপড়ুয়া শিশুর সহায়তায় তারা সাহসী এক সিদ্ধান্ত নেয়—সরাসরি সরাইল থানায় চলে আসা। তাদের একটাই আবেদন: “আমাদের একটা ব্যবস্থা করে দিন, আমরা এভাবে আর থাকতে চাই না।”

থানায় দায়িত্বরত এএসআই কারুন বিল্লাহ-এর কাছে তারা নিজেদের অসহায় জীবনের কথা খুলে বলে। ছোট্ট এই শিশুদের মুখে জীবনের নির্মম বাস্তবতার গল্প শুনে তিনিও মানবিকতার পরিচয় দেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাবার মৃত্যুর পর থেকেই শিশুরা অভিভাবকহীন এবং তাদের মা দায়িত্ব পালন করছেন না। অনেক সময় তাদের না খেয়ে থাকতে হয়েছে, মানুষের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে রাত কাটাতে হয়েছে।

এই ঘটনা শুধু দুই শিশুর ব্যক্তিগত কষ্ট নয়, এটি আমাদের সমাজের প্রতিও একটি প্রশ্ন: একটি শিশু যখন নিজের অধিকার আদায়ের জন্য থানার দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়, তখন আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা কোথায়?

ভয় না পেয়ে নিজেদের সমস্যার কথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে পারা এবং পুলিশের মানবিক আচরণ প্রশংসিত হলেও, আমরা আশা করি প্রশাসনের উদ্যোগে এই শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হবে।

প্রতিটি শিশুরই নিরাপদ আশ্রয়, শিক্ষা, স্নেহ ও ভালোবাসা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কোনো শিশুই যেন বাবা-মায়ের অবহেলায় কিংবা ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ভবঘুরে জীবন কাটাতে বাধ্য না হয়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

সাংবাদিক পারভেজ হাসান, লাখাই

দ.ক/পিএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© 𝐰𝐰𝐰.𝐤𝐚𝐚𝐥𝐧𝐞𝐭𝐫𝐨.𝐜𝐨𝐦
Theme Customized BY LatestNews