সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
চুনারুঘাটে পুলিশের অভিযানে ভারতীয় গরু জব্দ চুনারুঘাটে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মৃত্যু  শিল্পকলার কোন কলাটা উদ্ধারে ব্যস্ত অসিত : সাইফুর রহমান কায়েস  বাহুবলের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নিয়ে বিতর্ক: চুক্তি নবায়নের কথা বলছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মাধবপুরে ডিবির অভিযানে ৩৬টি চোরাই মোবাইলসহ যুবক আটক মনি’র অফিস থেকে তালিকা যেত থানায় : বাহুবলে স্বৈরাচারী সরকারের শাসনামলে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলার হোতা কারা? এখনো কেন ব্যবস্থা নেই? অসুস্থ সাবেক চেয়ারম্যান মাও: তাজুল ইসলামের জন্য ছাত্রদল নেতাদের দোয়া প্রার্থনা চুনারুঘাটে ভোটের মাঠে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ করাঙ্গী নদীর বন্যায় ধসে পড়লো বাহুবল-রামপুর সড়ক, ২০ গ্রামের মানুষ চরম ভোগান্তিতে চুনারুঘাট-বাল্লা সড়কের জারুলিয়া মাজার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

শিল্পকলার কোন কলাটা উদ্ধারে ব্যস্ত অসিত : সাইফুর রহমান কায়েস 

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

সাইফুর রহমান কায়েস : হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার অসিতবরণ দাশগুপ্ত যার জন্মই হয়েছে আজন্মের পাপের মধ্য দিয়ে। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলি ফেসবুক বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিফিকেশন বোর্ডে এখন ট্রেণ্ডিংয়ের শীর্ষে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী কর্মস্থল বরিশালে রয়েছে পাচ লাখ টাকার বিল নয়ছয়ের অভিযোগ। শিল্পকলা একাডেমিকে সে লুটপাট অনিয়ম আর স্বজনপ্রীতির একাডেমিতে পরিণত করেছে।

সে যখন নিয়োগ পেয়েছে তখন শিল্পকলার ডিজি ছিলেন নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকী। যে লাকি এই বয়সেও তার দুর্নীতির আমলনামা নিয়ে দুদকে নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।

অসিত কিভাবে নিয়োগ পেলো? অভিজ্ঞ মহলে এ নিয়ে তরজা চলমান রয়েছে।অনুসন্ধান বলছে সে স্থানীয় জীবন সঙ্কেত থিয়েটার থেকে নাট্যকর্মী হিসেবে দশ বছরের অভিজ্ঞতার সনদ নিয়ে নিয়োগ পেয়েছে। শুধুই কি অভিজ্ঞতার সনদ? সাবেক মন্ত্রী মাহবুব আলীর পিএস বেলা এবং একজন অঘটন ঘটন পটিয়সী হিন্দু মৌলবাদীর মাধ্যমে সাত লাখ টাকার নজরানা দিয়ে লিয়াকত আলী লাকীর আমলে শিল্পকলার মতো লাভজনক এবং জনগুরুত্বপূর্ণ পদ জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ বাগিয়ে নিতে সমর্থ হয়েছে। তাকে কোনোদিনই কেউ কোনো মঞ্চে অভিনয় করতে দেখেন নি। দুকলম লেখার কোনো যোগ্যতা নাই। অথচ সবাই জানতেন মেধা তালিকায় এগিয়ে থাকা খোয়াই থিয়েটারের নিবেদিতপ্রাণ নাট্যকর্মী মুক্তাদির হোসেন নিয়োগ পাবার কথা। কিন্তু টাকার কাছে মেধা পদদলিত হওয়ায় মুক্তাদির নিয়োগবঞ্চিত হন। বিষয়টি নিয়ে বোদ্ধামহলে তখন দারুণ ক্ষোভের সৃস্টি হয়েছিলো। তিনি হবিগঞ্জ জেলা কালচারাল অফিসার হিসেবে হবিগঞ্জ শিল্পকলায় যোগদানের পর থেকেই স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত হতে থাকেন। দুস্থ শিল্পীদের সহায়তা দেয়ার নামে বহুতল ভবনের মালিকদেরকে দুস্থ সহায়তা দিয়ে দুর্নীতিতে হাতেঘড়ি নেয়।শিল্পকলা একাডেমিকে তিনি স্বজনপ্রীতির আখড়ায় পরিণত করে মেধাবিকাশের মতো বিতর্কিত সংগঠনকে পঞ্চাশ হাজার টাকা অনুদান পাইয়ে দিয়ে আবার নিজেকে বিতর্কের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। লোক সাহিত্য গবেষক কাজী শাহেদ বিন জাফরকে সম্মাননা বঞ্চিত করে সকলের নিন্দাও কুড়িয়েছে। লোকসাহিত্য গবেষক হিসেবে যাদের সম্মাননা এবিং নিয়োগ দিয়েছে তাদের লোকসাহিত্যের ল সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা নাই। আমরা তার অযোগ্যতা নিয়ে তাই প্রশ্ন তুলতেই পারি। শিল্পকলা একাডেমির পাবলিক ফাণ্ডের অপচয় ও তছরুপ কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
অযোগ্য,অদক্ষ, আওয়ামী দলদাস, সাংস্কৃতিক নিম্ন রুচিজ্ঞানহীন এবং দুর্নীতিবাজ অসিত কিভাবে দাপ্তরিক কাজ চালায়? তাকে দেখার কেউ নেই। বর্তমান সরকার দলীয় স্থানীয় জনৈক নেতাকে সম্মাননা দিয়ে বৈতরণী পার হবার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়ভাবে যারা সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত তাদেরকে মূল্যায়নে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। সম্প্রতি নজরুল গবেষক হিসেবে যাকে নিয়োগ সম্মাননা দিয়েছে তার নজরুলের উপরে দুলাইন লিখার কোনো বাস্তব প্রমাণ নাই। সে শিল্পকলাকে আত্মীকরণের দৃষ্টান্ত হিসেবে গৌরী রায়দের সংঘটনকে অনুদান কফিনে শেষ পেরেক মেরেছে। অথচ হবিগঞ্জে আরো অনেক সংগঠন রয়েছে যারা অনুদান পেতে পারতো। একউ সংগঠনকে বারবার অনুদান দিয়ে এবং বছরে দুইবার অনুদান দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হবার কথাও শোনা যাচ্ছে।

তার সকল কর্মস্থলেই দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির নজির স্থাপন করেছে। সংস্কৃতি তার কাছে জাগতিক লাভের বিষয়। এটিএম মেশিনের মতো। তাকে আর কেউ এই পদে দেখতে চান না। জাগায় জাগায় আযান দিয়ে আর্থিক কেলেঙ্কারির করে বেড়ানো এই অসিতের নিয়োগ বাতিল করে অধিকতর যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষকেই এই পদে নিয়োগ দেয়া উচিৎ। দুর্নীতির মাধ্যমে যে চাকুরি পেয়েছে তার কাছে ভালোকিছু আশা করা আর বোকার স্বর্গে বাস করা একই কথা। তার নিয়োগে যেহেতু বিতর্ক আছে সেহেতু তার এই পদে থাকার কোনো সুযোগ রাখা যাবে না। অভিজ্ঞ মহলের মতে তাকে প্রত্যাহারের মতো তামাশাভরা পদক্ষেপ নয় বরখাস্ত করাই শ্রেয়।

শিল্পকলাকে শিল্পের চর্চার মানভূমি নয় দুর্নীতির আতুর ঘরে রূপান্তরিত করে সে শিল্পের বারোটা বাজিয়েছে। তাই এখন লোকমুখে ছড়িয়ে পড়েছে যে, অসিত তাহলে শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার হিসেবে শিল্পের কোন কলাটা উদ্ধারে ব্যস্ত? ইনসাফের জমানায় বেইনসাফি কাম্য নয়।

লেখক: কবি, প্রাবন্ধিক ও গবেষক

দ.ক.সিআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© 𝐰𝐰𝐰.𝐤𝐚𝐚𝐥𝐧𝐞𝐭𝐫𝐨.𝐜𝐨𝐦
Theme Customized By BreakingNews