
আসাদ ঠাকুর: অক্টোবরে শুরু হওয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন দিয়ে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সে লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জোর প্রস্তুতি শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরাও। কেউ প্রকাশ্যে, কেউ নীরবে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের কেউ কেউ এ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অন্তঃকোন্দল প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। কোথাও কোথাও জামায়াতে ইসলামীও এ পরিস্থিতির বাইরে নয়। যদিও এবারের নির্বাচন আইনত নির্দলীয়, তবু দলের সমর্থনই নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা। সে কারণে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, অন্তঃকোন্দল দূর করে দলীয় সমর্থনে একক প্রার্থী না দেওয়া গেলে নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ভোটের মাঠের পরিবেশ ঠিক রাখাও কঠিন হতে পারে। বিষয়টি ক্ষমতাসীন দল বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ। জামায়াতও এই চ্যালেঞ্জের বাইরে নয়। বিএনপি সমর্থন জানিয়ে এখনো কোনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে জামায়াত তাদের সমর্থিত প্রার্থীদের নাম-পরিচয় জানিয়ে দিচ্ছে।
চুনারুঘাট উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে বিভাজনের রাজনীতি স্পষ্ট। এ উপজেলার একটি ইউনিয়ন আহম্মদাবাদ। আহম্মদাবাদে বিএনপির দুই গ্রুপ থেকে চেয়ারম্যান পদে ছালেহ উদ্দিন ও আঃ আওয়াল দলীয় সমর্থনপ্রত্যাশী। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন পলাশও প্রার্থী হতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী মস্তোফা হোসেন মস্তু।
জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মোঃ ফয়সল বলেন, বেশ কিছু ইউনিয়নে গ্রুপিং আছে। আমি এটাকে প্রতিযোগিতা বলি। তাই বিএনপি সরকার যেহেতু দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করবে না। তাই নির্বাচন করার অধিকার সবার আছে। সবার প্রতি আমার দোয়া রইলো, দয়া করে কেও এককভাবে আমার সমর্থন আশা করবেন না। আমি চাই সবার স্বপ্ন পূরণ হোক। জনগণের ভোটে যোগ্যনেতা বেরিয়ে আসুক।
জেলা জামায়াতের আমির জানান, ‘জেলার কোনো কোনো ইউনিয়নে আমাদের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী প্রচার চালালেও একক প্রার্থী দেওয়া হবে। তবে আমরা খবর পাচ্ছি, দু-একটি ইউনিয়নে জামায়াতের বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারেন। তবে দলীয় আদর্শ ভঙ্গ করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলার দেওরগাছ ইউনিয়নের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা যায়, সেখানে বিএনপি-জামাতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ভোটের মাঠে সক্রিয়। আওয়ামীলীগের কার্যক্রম সেখানে নেই। দেওরগাছ ইউনিয়ন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তা দৃশ্যমান। কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, সেখানে গ্রুপিংয়ের মাত্রা এতটাই বেশি যে বিএনপির এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের প্রার্থীদের ফেল করাতে সব চেষ্টা চালাবে। দুই গ্রুপ থেকে চেয়ারম্যান পদে সৈয়দ আবু নাঈম হালিম ও মোঃ মারুফ মিয়া দলীয় সমর্থন প্রত্যাশী। জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থীর দাবি, ‘বিএনপির মধ্যে বিভক্তির কারণে জয়ের ব্যাপারে জামায়াত আশাবাদী।’ এ ছাড়া চুনারুঘাট উপজেলার দেওরগাছ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মহিতুর রহমান রুমনও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
১নং গাজীপুর ইউনিয়নে বিএনপি থেকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর শওকত আলী সেলিম আলোচনায়। এছাড়া ছাত্রনেতা কাজী রিমনও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। সব মিলিয়ে এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা ডজনের মতো।
গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রফেসর আব্দুল হামিদ বলেন, ‘ইউপি নির্বাচনে যদি আমরা একক প্রার্থী দিতে না পারি, তাহলে বিপর্যয় ঘটবে। চুনারুঘাটের প্রায় সব ইউনিয়নে বিএনপির অন্তত দুটি গ্রুপ সক্রিয়। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। এ বিষয়ে দলকে দ্রুতই কঠোর হতে হবে। নতুবা প্রতিপক্ষরা এ সুযোগ কাজে লাগাবে।
চুনারুঘাটের ১০টি ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রতি ইউনিয়নে বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী সক্রিয়। এতে দলীয়ভাবে কিছু বিভাজনও দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও আওয়ামী লীগ নেতারা নির্দলীয় পরিচয়ে ভোট চাইছেন। জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীরা অনেকটা নীরবে কাজ করছেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। এনসিপিও ইউনিয়নে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মীর সিরাজ আলী বলেন, ‘উপজেলা কমিটি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী ঠিক করা হবে।’
স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, ‘গত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যেহেতু বিএনপির কেউ প্রার্থী হতে পারেননি, তাই অনেকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী।
দ.ক.২৬