প্রতিবেদক মোঃ বাচ্চু মিয়া: চুনারুঘাট উপজেলার ৫নং শানখলা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম গত চার বছরেরও বেশি সময় ধরে যে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছেন, তা আজ শানখলা ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের মুখে মুখে। উন্নয়ন, সুশাসন, ন্যায়বিচার এবং জনসেবার মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন জনপ্রিয় ও সফল জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
এক সময় যে শানখলা ইউনিয়নের অনেক রাস্তা কাঁচা ছিল, বর্ষা মৌসুমে যেখানে মানুষের চলাচল ছিল দুর্বিষহ, আজ সেই এলাকাগুলোতে নির্মিত হয়েছে নতুন নতুন সড়ক। বিভিন্ন গ্রামে ইট সলিং, রাস্তা সংস্কার, নতুন রাস্তা নির্মাণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে মানুষের জীবনযাত্রায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। কৃষকরা সহজে তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পারছেন, শিক্ষার্থীরা সময়মতো বিদ্যালয়ে যেতে পারছে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত যাতায়াতের সুবিধা পাচ্ছেন।
শুধু রাস্তা নয়, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে এসব কালভার্ট মানুষের চলাচল সহজ করেছে এবং বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগগুলো স্থানীয়দের কাছে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়নেও নজরুল ইসলামের অবদান উল্লেখযোগ্য। ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদে অজুখানা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এখন আরও সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে ইবাদত করতে পারছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তার সহযোগিতা মানুষের কাছে তাকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় পরিচয় শুধু উন্নয়ন নয়, মানুষের সঙ্গে তার আচরণ। এই ক্ষেত্রে অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার সহজ-সরল ব্যবহার, সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং সমস্যার সমাধানে আন্তরিক উদ্যোগ তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন সাধারণ মানুষও প্রয়োজনে তার কাছে গেলে সহযোগিতা ও পরামর্শ পেয়ে থাকেন বলে স্থানীয়রা জানান।
সালিশ ও বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা প্রশংসনীয়। বহু পারিবারিক, সামাজিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ তিনি ন্যায়ভিত্তিকভাবে নিষ্পত্তি করেছেন। ফলে অনেক মানুষ আদালতের দীর্ঘসূত্রিতা ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া এড়িয়ে দ্রুত সমাধান পেয়েছেন। তার নিরপেক্ষতা ও ন্যায়পরায়ণতার কারণে উভয় পক্ষই সাধারণত তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন।
শিক্ষা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তিনি বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত পরিবেশ তৈরিতে কাজ করেছেন। অনেক দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী তার কাছ থেকে সহায়তা পেয়েছে বলে জানা যায়।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তার কার্যক্রম প্রশংসিত। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি সচেষ্ট ছিলেন। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সেবাগ্রহণ প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়েছে।
দুর্যোগ ও সংকটময় সময়েও তিনি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বন্যা, ঝড় কিংবা ব্যক্তিগত বিপদের সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেওয়া এবং যথাসম্ভব সহায়তা প্রদান তার জনবান্ধব নেতৃত্বের পরিচয় বহন করে। অনেক অসহায় পরিবার তার সহযোগিতায় নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, নজরুল ইসলামের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার সততা ও জবাবদিহিতা। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিতার মানসিকতা তাকে একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত করেছে। তার নেতৃত্বে ইউনিয়ন পরিষদের সেবার মানও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন।
তার জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ হলো দল-মত নির্বিশেষে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও উন্নয়নের প্রশ্নে তিনি সকলকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। ফলে ইউনিয়নের সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রমে একটি ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় জনগণের দাবি, শানখলা ইউনিয়নের ইতিহাসে এত ব্যাপক ও দৃশ্যমান উন্নয়ন খুব কম সময়েই দেখা গেছে। বিভিন্ন গ্রামে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে গেছে এবং মানুষ বাস্তব পরিবর্তন অনুভব করতে পারছে। অনেক প্রবীণ নাগরিকও মনে করেন, বর্তমান সময়ে ইউনিয়নের যে উন্নয়ন হয়েছে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে।
উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক গুণাবলীর কারণেও নজরুল ইসলাম মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন। অসুস্থ মানুষের খোঁজখবর নেওয়া, সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা, গরিব-দুঃখীদের পাশে দাঁড়ানো এবং মানুষের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়া তাকে একজন জনদরদী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সম্প্রতি উপজেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, সততা এবং উন্নয়নমুখী নেতৃত্বেরই প্রতিফলন বলে মনে করেন এলাকাবাসী। এই অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পুরো শানখলা ইউনিয়নের জন্য গৌরবের বিষয়।
আজ শানখলা ইউনিয়নের মানুষ যখন নিজেদের এলাকার পরিবর্তনের কথা বলেন, তখন উন্নত সড়ক, নতুন কালভার্ট, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি, ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্ব এবং জনসেবার কথা একসঙ্গে উঠে আসে। আর এসব অর্জনের কেন্দ্রে রয়েছে অ্যাডভোকেট মো. নজরুল ইসলামের নেতৃত্ব।
এলাকাবাসীর বিশ্বাস, উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে অভিজ্ঞ, সৎ ও জনবান্ধব নেতৃত্বের বিকল্প নেই। তাদের প্রত্যাশা, আগামী দিনেও শানখলা ইউনিয়ন আরও আধুনিক, উন্নত ও সমৃদ্ধ ইউনিয়নে পরিণত হবে এবং সেই যাত্রায় নজরুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
“উন্নয়ন যার পরিচয়, জনসেবা যার অঙ্গীকার, জনগণের আস্থার প্রতীক—অ্যাডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম।”
দ.ক.সিআর.২৬