নাজমুল ইসলাম হৃদয় :হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি ব্রিজের উচ্চতা কম হওয়ায় পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিজের নিচে কচুরিপানা ও আবর্জনা আটকে থাকায় উজানের বিস্তীর্ণ এলাকার পানি দ্রুত নেমে যেতে পারছে না। এতে শত শত কৃষকের ফসলি জমি জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে পড়েছে এবং নৌ-চলাচলও প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে কৃষকসহ কয়েক হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির আশঙ্কায় রয়েছেন।
জানা যায়, উপজেলার বাহুবল-রাজাপুর সড়কের পনারআব্দা খালের ওপর প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ব্রিজ নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
তবে নির্মাণকাজ চলমান অবস্থায় স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটির উচ্চতা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম রাখা হয়েছে। ফলে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ব্রিজের নিচে কচুরিপানা আটকে গিয়ে পানি নিষ্কাশনের গতি আরও কমে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে পনারআব্দা খালটি উজানের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম। কিন্তু বর্তমানে ব্রিজের নিচু কাঠামোর কারণে পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে অল্প বৃষ্টিতেই আশপাশের ফসলি জমিতে পানি জমে থাকছে এবং কৃষকরা আমন ধানের বীজতলা ও অন্যান্য ফসল নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন।
এছাড়া ব্রিজটির নিচ দিয়ে নৌকা চলাচল করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। প্রতিবছর এ খাল ব্যবহার করে হাওর ও জলাবদ্ধ এলাকার কৃষকরা নৌকায় করে ধান বাড়িতে নিয়ে আসেন, মাছ ধরেন এবং বিভিন্ন কৃষি কাজে নৌযান ব্যবহার করেন। কিন্তু ব্রিজের উচ্চতা কম হওয়ায় এসব কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আবেদনে ব্রিজের নকশা পরিবর্তন করে উচ্চতা বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদির চৌধুরী বাবুল বলেন, “ব্রিজটি নিচু হওয়ায় যথাসময়ে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। ব্রিজের নিচে কচুরিপানা আটকে অল্প বৃষ্টিতেই উজানের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এখনই ব্রিজের পরিকল্পনা পরিবর্তন করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা হারুন মিয়া বলেন, “এই ব্রিজের নিচ দিয়ে নৌকা চলাচল করা সম্ভব হবে না। পানি নিষ্কাশনে বিলম্ব হলে কৃষকদের ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হবে। তাই দ্রুত ব্রিজের উচ্চতা বাড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় বলেন, “বিষয়টি অবগত হয়ে আমি সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। ব্রিজটির টেকনিক্যাল বিষয়টি আমরা জেলা এলজিইডি অফিসকে অবহিত করেছি। তারা যদি ডিজাইন পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ব্রিজের উচ্চতা বাড়ানো সম্ভব হবে।”
এদিকে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের দাবি, ভবিষ্যতে ফসলি জমি রক্ষা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নৌ-চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজটির নকশা পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হোক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলেই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
দ.ক.সিআর.২৬