
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের আমুরোড বাজার এলাকায় পরিচালিত ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘প্রতীক সোসাইটির বিরুদ্ধে আমানতের প্রায় ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন এক গ্রাহক। শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, আমানতের টাকার অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছে। পরে জানা যায়- আমানত গ্রহণের বৈধ কোনো অনুমোদনই নেই প্রতিষ্ঠানটির।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী এনামুল হক মাসুদ, যিনি আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের কালামন্ডল গ্রামের মৃত আব্দুল মন্নানের ছেলে। গ্রাহকদের দাবি, অধিক মুনাফার আশ্বাস দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে বড় অংকের আমানত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে আমানতের টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে তাঁরা উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহক মোতাহের আলীর অভিযোগ, তাঁর আমানতের প্রায় ১৭ লাখ টাকা ফেরত না পাওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তার আরও অভিযোগ, প্রথম কয়েক মাস লাখে হাজার টাকা মুনাফা দিলেও পরবর্তিতে চুক্তিপত্রের নিয়ম মাফিক এক মাস আগে আমার আমানতের টাকা ফেরত চাইলে দিচ্ছি দিচ্ছি করে কিছুদিন হেনস্তা করার প্রায় আট মাস পর পূবালী ব্যাংকের কয়েকটি চেকের পাতায় টাকার অংক লিখে দেওয়ার পর ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারি উল্লেখিত একাউন্টে কানা খড়িও নেই!পরবর্তিতে হবিগঞ্জ আদালতে চেক ডিসঅর্নার মামলা দিতে বাধ্য হই!
মোতাহের আলী আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটি অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকারও বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে। তবে মোট কত টাকা সংগ্রহ হয়েছে, কতজন গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের গুরুত্বের সাথে যাচাই করা প্রয়োজন।
তাছাড়া ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় নিবন্ধন বা অনুমোদন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকরা। প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধনসংক্রান্ত নথি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে প্রকৃত তথ্য জানা সম্ভব হবে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকরা তাঁদের আমানতের টাকা ফেরত পেতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তাঁদের দাবি, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন, নিবন্ধনের বৈধতা এবং গ্রাহকদের অর্থের বর্তমান অবস্থান খতিয়ে দেখা হোক।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী এনামুল হক মাসুদ এর বক্তব্য নিতে তাকে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পাওয়া যায়নি। মোবাইল নাম্বারটিও বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ যে, গ্রাহকদের টাকা জমার রসিদ বা চুক্তিপত্র তাদের সংগ্রহে রয়েছে বলেও জানান।
দ.ক/আ