
চুনারঘাটে মাদক, জুয়া, চুরি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষ্যে এক সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন শুরু হয়েছে। যা সামাজিক অপরাধের বিরোদ্ধে এত বড়আকারে প্রতিবাদ শোডাউন এর আগে চুনারুঘাটবাসী দেখে নাই।
সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে বড়াইল বাসীর প্রতিরোধ, গণ-সচেতনতামূলক লিপলেট বিতরণ ও লাঠি মিছিল সর্বত্র প্রশংসা খোড়াচ্ছে।
আর এতে নানান অপরাধের বিরুদ্ধে দিকনির্দেশা দিচ্ছেন এনটিসির পরিচালক সাংবাদিক সালেহ উদ্দিন, সাবেক মেয়র নাজিম উদ্দিন শামছু, সেবা ডায়াগনস্টিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুল ইসলাম, ব্যবসায়ী আলহাজ্ব কামাল উদ্দিন, সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুর কাদির সরকার, সিসিটিএন এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির উদ্দিন ও তরুণ ব্যবসায়িক মাজেদুল ইসলান লুবনসহ প্রমুখ।
ভলন্টিয়ার হিসাবে আছেন বড়াইল গ্রামের প্রত্যেক ফ্যামেলি থেকে একজন করে আন্দোলনকর্মী। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে দেবাশীষ দাস শিবু, সত্যজিৎ রায়, শাহনেওয়াজ, প্রান্ত, নিপু, রাকিব, পারভেজ, মামুন মহালদার, জমির আলী, শাহ্ শরীফ, ইসলাম উদ্দিন, রায়হান মাসুম ও ইকরামুল হাসানসহ আরও অনেকে।
এনটিসির পরিচালক সালেহ উদ্দিন অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, একটি সুন্দর ও নিরাপদ সমাজ গঠনে যেকোনো মূল্যে মাদক জুয়া ও কিশোর গ্যাং বন্ধ করতে হবে।
সাবেক মেয়র নাজিম উদ্দিন বলেন, “সমাজ থেকে মাদক, জুয়া, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ নির্মূল করতে পুলিশ ও সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে কিশোর গ্যাং কালচার রোধে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে এবং সন্তানদের চলাফেরার ওপর নজরদারি রাখতে হবে।”
সেবা ডায়াগনস্টিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ কামরুল ইসলাম জানান, বড়াইল বাসীর এই ব্যতিক্রমী সচেতনতামূলক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একে একে অনেকেই যুক্ত হচ্ছেন আন্দোলনে। এলাকাকে অপরাধমুক্ত রাখতে আন্দোলনকে আরও গতি দিতে উৎসাহও জোগাচ্ছেন অনেকেই। মসজিদের ইমাম, খতিব ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় বিপুলসংখ্যক বাসিন্দারা এতে একাত্বতা জানিয়েছেন।
দেবাশীষ দাস শিবু বলেন, মাদক, চুরি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং এর বিরুদ্ধে বড়াইল গ্রামবাসীর এই ব্যতিক্রমি উদ্যোগে প্রত্যেকের অক্লান্ত পরিশ্রম সত্যিই অনীস্বীকার্য।
উল্লেখ্য যে, বড়াইল বাসী মাদক, কিশোর অপরাধ এবং অন্যান্য সামাজিক অনাচার রোধে একটি প্রতিরোধ কমিটি গঠনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন-
১। বড়াইল গ্রাম ও সংলগ্ন এলাকাকে মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা, পরিবহন, মজুত ও সেবনের বিরুদ্ধে গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।
২) রাত ৯টার পর চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজন, বৈধ শিক্ষা/কোচিং বা অন্য কোনো জরুরি ও যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া শিক্ষার্থী এবং ২০ বছরের নিচের কর্মহীন তরুণদের অকারণে বাইরে ঘোরাফেরা করতে নিষেধ করা হয়েছে।
৩) যুক্তিসঙ্গত জরুরি প্রয়োজনে কোনো শিক্ষার্থী বা তরুণকে রাত ৯টার পর বাড়ির বাইরে থাকতে হলে অভিভাবকের সম্মতি লাগবে।
৪) অন্য গ্রামের কোনো ব্যক্তি রাত ৯টার পর যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া বড়াইল গ্রামে প্রবেশ না করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
৫) কোনো সন্তান নিয়মিতভাবে রাত করে বাড়ির বাইরে থাকলে অভিভাবক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন এবং সন্তান অবাধ্য হলে প্রতিরোধ কমিটিকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
৬) যেসব তরুণ অতিরিক্ত মাদকাসক্ত হয়েছেন, তাদের সংশোধনের জন্য একটি সংশোধন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। তাদের কিছুদিন এই সংশোধন কেন্দ্রে রেখে মানসিক পরিচর্যা করা হবে।
৭) বড়াইল গ্রামকে সিসিটিভির আওতায় আনা হবে।
তাই আসুন, মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই।
আসুন, আমাদের সন্তানদের রক্ষা করি।
আসুন, আমাদের গ্রামকে নিরাপদ করি।
আসুন, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলি।
নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল সমাজ বিনির্মাণে আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।
অপরদিকে বড়াইল বাসীর অপরাধ প্রতিরোধ আন্দোলন প্রত্যেক সমাজেই গড়ে উঠুক এমনটাই আশা করছেন চুনারুঘাটের সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গরাও-
দ.ক.সিআর.২৬