1. live@kaalnetro.com : কালনেত্র : কালনেত্র
  2. info@www.kaalnetro.com : দৈনিক কালনেত্র :
রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
বানিয়াচংয়ে ফ্যামিলি কার্ড শুমারী: ২পদে ওয়াক-ইন ইন্টারভিউ ৩ আগস্ট যখন মহীরুহ ঝরে পড়ে; বাবা! মোঃ রোকনুজ্জামান শরীফ কাণ্ডের সমাজে দণ্ডের নির্বাসন: ন্যায়বিচারহীনতার অন্ধকারে আমাদের সমাজ হবিগঞ্জের জাবেদ জিলানীর অনন্য অর্জন, এলএলবি ফাইনালে সারাদেশে ৯ম  শ্বশুরের বিরুদ্ধে ছেলের বউকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, হবিগঞ্জ আদালতে মামলা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বাহুবলে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল  চুনারুঘাটে বহুল সমালোচিত ইসলামী বক্তা আফজাল হোসেন আশিকীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকার দাবিতে তেলিয়াপাড়া চা বাগান শ্রমিকদের মানববন্ধন ও গণবিক্ষোভ সংবেদনশীল মানুষ হতে হলে বই পড়তে হবে- মোস্তফা মোরশেদ চুনারুঘাটে ঢুলনা ছড়ার বাঁধ সংস্কার পরিদর্শনে চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ আলী

কাণ্ডের সমাজে দণ্ডের নির্বাসন: ন্যায়বিচারহীনতার অন্ধকারে আমাদের সমাজ

মোঃ রোকনুজ্জামান শরীফ
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬

একটি সভ্য রাষ্ট্রের প্রধান শক্তি তার আইন, আর আইনের প্রাণ হলো ন্যায়বিচার। কিন্তু যখন অপরাধের সংখ্যা বাড়তে থাকে, অথচ শাস্তির নিশ্চয়তা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে যায়, তখন সমাজে এক ভয়ংকর বার্তা ছড়িয়ে পড়ে—অন্যায় করেও পার পাওয়া যায়। সেই বার্তাই ধীরে ধীরে মানুষের বিবেককে অসাড় করে দেয়, আইনের প্রতি আস্থা নষ্ট করে এবং সমাজকে ঠেলে দেয় অনিশ্চয়তার গভীর অন্ধকারে।
আজ আমাদের চারপাশে যেন কাণ্ডের শেষ নেই। প্রতিদিন নতুন কোনো অনিয়ম, প্রতারণা, দুর্নীতি, সহিংসতা কিংবা অব্যবস্থাপনার খবর শিরোনাম হয়। কিছুদিন আলোচনা চলে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে, তদন্তের আশ্বাস আসে; কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অধিকাংশ ঘটনাই হারিয়ে যায় বিস্মৃতির অতলে। অপরাধ থেকে যায়, কিন্তু অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অনেক ক্ষেত্রেই অধরাই থেকে যায়।
স্বাস্থ্য খাতের কথাই ধরা যাক। ভুয়া ক্লিনিক, অননুমোদিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ভুয়া চিকিৎসক কিংবা চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এসব ঘটনার ফলে অসংখ্য মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, কেউ কেউ হারান প্রিয়জনকেও। মাঝে মাঝে অভিযান হয়, প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়, কিন্তু কিছুদিন পরই আবার নতুন নামে একই কার্যক্রম শুরু হওয়ার অভিযোগ ওঠে। প্রশ্ন জাগে—শুধু অভিযানই কি যথেষ্ট, নাকি অপরাধের মূল উৎসে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়াই প্রকৃত সমাধান?
একই চিত্র মাদক ব্যবসা, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, হত্যা কিংবা বিভিন্ন ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। সমাজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করলেও অপরাধের পুনরাবৃত্তি আমাদের ভাবিয়ে তোলে। কারণ, অপরাধ দমনে শুধু গ্রেপ্তারই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর বিচার এবং এমন শাস্তি, যা অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়ায়।
দুর্নীতিও আমাদের সামাজিক বাস্তবতার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। কোথাও সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, কোথাও প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, কোথাও ঘুষের বিনিময়ে সেবা প্রদান—এসব অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের আলোচনার বিষয়। সাধারণ মানুষ যখন ন্যায্য অধিকার পেতে অতিরিক্ত ভোগান্তির শিকার হন, তখন তাদের মনে রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। একটি রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয় এবং ক্ষমতা বা প্রভাবের কারণে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে না পারে।
বর্তমান সময়ে আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় হলো ভুয়া তথ্য ও গুজবের বিস্তার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে তথ্য যেমন দ্রুত পৌঁছে যায়, তেমনি অসত্য তথ্যও মুহূর্তের মধ্যে হাজারো মানুষের কাছে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় যাচাই-বাছাই ছাড়াই মানুষ সেই তথ্য বিশ্বাস করে বিভ্রান্ত হয়, সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয় এবং নির্দোষ মানুষও ক্ষতির মুখে পড়েন। তাই তথ্য প্রচারের স্বাধীনতার পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করাও এখন সময়ের দাবি।
শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রও এই সংকট থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত নয়। মানসম্মত কাজের পরিবর্তে কখনও কখনও ব্যক্তিস্বার্থ, পরিচয় কিংবা পারস্পরিক সমঝোতা প্রাধান্য পায় বলে অভিযোগ শোনা যায়। এর ফলে প্রকৃত মেধাবীরা পিছিয়ে পড়েন এবং সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। একটি জাতির উন্নয়নের জন্য শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, নৈতিকতা ও সাংস্কৃতিক সততাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তবে সমস্যার চিত্র যতই গভীর হোক, সমাধানের পথও রয়েছে। সেই পথের প্রথম ধাপ হলো ব্যক্তিগত সততা। রাষ্ট্র, প্রশাসন কিংবা বিচারব্যবস্থা একা সমাজকে পরিবর্তন করতে পারে না, যদি নাগরিকেরা নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন না হন। পরিবারে নৈতিক শিক্ষা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মূল্যবোধের চর্চা, সামাজিক জীবনে সততার অনুশীলন এবং আইন মানার সংস্কৃতি—এসবই একটি সুস্থ সমাজ গঠনের ভিত্তি।
একই সঙ্গে প্রয়োজন স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন, নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং অপরাধের ক্ষেত্রে আইনানুগ ও কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করা। শাস্তির উদ্দেশ্য প্রতিশোধ নয়; বরং অপরাধ প্রতিরোধ, ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যখন মানুষ বিশ্বাস করবে যে অন্যায়ের পরিণতি অনিবার্য, তখন অপরাধ প্রবণতাও অনেকাংশে কমে আসবে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, আইন শুধু বইয়ের পাতায় থাকলে তার কোনো মূল্য নেই। আইনের প্রকৃত শক্তি প্রকাশ পায় তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ প্রয়োগে। অন্যদিকে, সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি নিজের অবস্থান থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দেয়, মিথ্যা ও প্রতারণাকে প্রত্যাখ্যান করে, তবে পরিবর্তনের সূচনা সেখান থেকেই হবে।
আজ প্রয়োজন কাণ্ডের গল্প নয়, সততার গল্প। প্রয়োজন অপরাধের বিস্তার নয়, ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠা। প্রয়োজন এমন একটি সমাজ, যেখানে অপরাধী তার প্রাপ্য শাস্তি পাবে এবং নির্দোষ মানুষ ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা অনুভব করবে। কারণ দণ্ডের ভয় নয়, ন্যায়ের প্রতি মানুষের আস্থাই একটি সভ্য সমাজের প্রকৃত ভিত্তি।
আসুন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় গ্রহণ করি, যেখানে কাণ্ড নয়, সুশাসন হবে আলোচনার বিষয়; প্রতারণা নয়, সততা হবে সম্মানের পরিচয়; আর অন্যায় নয়, ন্যায়বিচারই হবে রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বজনীন অঙ্গীকার। তখনই বলা যাবে—দণ্ডের নির্বাসন শেষ হয়েছে, ফিরে এসেছে ন্যায়ের শাসন।

লেখক~ কবি কলামিস্ট ও সাংবাদিক

দ.ক/আরএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© 𝐰𝐰𝐰.𝐤𝐚𝐚𝐥𝐧𝐞𝐭𝐫𝐨.𝐜𝐨𝐦
Theme Customized BY LatestNews