আসাদ ঠাকুর: চুনারুঘাটে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের মধ্যে অতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহক সংখ্যা ৪ লক্ষ ৯০ হাজার ছাড়িয়েছে। সমিতির আওতাধীন চুনারুঘাট জোনাল অফিসের প্রায় ৭০ হাজার গ্রাহকের অনেকেই সম্প্রতি স্বাভাবিক ব্যবহারের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি বিদ্যুৎ বিল পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, প্রকৃত মিটার রিডিংয়ের পরিবর্তে অনুমাননির্ভর বিল প্রস্তুত করায় তারা আর্থিকভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে যেখানে আগে মাসিক বিদ্যুৎ বিল ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে হঠাৎ করেই ৩ থেকে ৪ হাজার টাকার বিল এসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এ ধরনের অস্বাভাবিক বিল পরিশোধ করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা জানান, অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে অভিযোগ জানাতে জোনাল অফিসে বারবার ছুটে গেলেও তারা সন্তোষজনক সমাধান পাচ্ছেন না। দিনের পর দিন অফিসে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেককে কর্মস্থল ফেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, আবার দূরবর্তী এলাকা থেকে এসে যাতায়াত খরচ বহন করতে হচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত বিলের বোঝার পাশাপাশি সময় ও অর্থের অপচয়ে গ্রাহকদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। শুধু আবাসিক গ্রাহকই নন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যিক গ্রাহকরাও একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের কারণে তাদের পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অতিরিক্ত বিল পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন, যা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারী অভিযোগ করেছেন, অধিক রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অফিসের কিছু কর্মকর্তা চাপ প্রয়োগ করছেন। তাদের দাবি, মাঠপর্যায়ে সংগ্রহ করা মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে অনেক গ্রাহকের বিলের তথ্যের অসঙ্গতি রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিলিং বিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।
অন্যদিকে এ বিষয়ে হবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন, ভুল বিল সংশোধন এবং ভোক্তাদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই ভোগান্তির দ্রুত সমাধান না হলে জনমনে অসন্তোষ আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।
দ.ক.সিআর.২৬