নাজমুল ইসলাম হৃদয়: হবিগঞ্জ জেলা কারাগার পরিদর্শন করেছেন জেলার সম্মানিত জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি. এম. সরফরাজ। পরিদর্শনকালে তিনি কারাগারের সার্বিক পরিবেশ, বন্দিদের কল্যাণমূলক কার্যক্রম এবং পুনর্বাসন উদ্যোগের খোঁজখবর নেন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) জেলা কারাগারে পৌঁছে তিনি প্রথমে কারাগার প্রাঙ্গণে একটি লুকলুকি গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় তিনি সবুজায়ন কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে পরিবেশ সংরক্ষণে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক কারাগারের হাজতি ও কয়েদিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা, চাহিদা ও কল্যাণসংক্রান্ত বিষয়াদি মনোযোগ সহকারে শোনেন। তিনি বন্দিদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
এ সময় তিনি কারাগারের ডে-কেয়ার সেন্টার ও নারী প্রশিক্ষণ কক্ষ পরিদর্শন করেন। সেখানে পরিচালিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত হন এবং বন্দিদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া জেলা প্রশাসক কারাগারের রান্নাঘর পরিদর্শন করে খাদ্য প্রস্তুত প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বন্দিদের জন্য পরিবেশিত খাবারের মান ও গুণগত অবস্থা যাচাই করেন এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রেখে খাদ্য প্রস্তুতের নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে তিনি কারাগারের কয়েদিদের নিয়ে গঠিত সাংস্কৃতিক দলের পরিবেশিত সংগীতানুষ্ঠান উপভোগ করেন। এ সময় তিনি বন্দিদের মানসিক বিকাশ ও সংশোধনমূলক কর্মকাণ্ডে সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন।
পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ কারাগার প্রশাসনের গৃহীত বিভিন্ন মানবিক, সংশোধনমূলক ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বন্দিদের শুধুমাত্র শাস্তি নয়, বরং তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, মানসিক বিকাশ এবং সমাজে পুনর্বাসনের সুযোগ সৃষ্টি করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে কারাগারে পরিচালিত কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মোঃ মুজিবুর রহমান বলেন, “কারাগারকে একটি মানবিক ও সংশোধনমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। বন্দিদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি। জেলা প্রশাসকের এ পরিদর্শন আমাদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও উৎসাহিত করবে বলে আমরা আশা করছি।”
দ.ক.সিআর.২৬