হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: এক মাদক ব্যবসায়ীকে অপর মাদক ব্যবসায়ী অপহরণ করে নেওয়ার অভিযোগে অশান্ত হয়ে উঠে এলাকা। ক্ষোব্ধ লোকজন ওই মাদককারবারিদের বাড়ি-ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে গতকাল সোমবার দুপুরে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম সোয়াবই ও রাজেন্দ্রপুর এলাকায়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে অপহরণের শিকার মাদক কারবারিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এখনো।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সোয়াবই গ্রামের বাসিন্দা সাকিব ও রাজেন্দ্রপুর গ্রামের মাহফুজ মিয়া ও একই এলাকার কাজলের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে এলাকাবাসীর। তাঁরা সীমান্ত এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। সম্প্রতি এ মাদক ব্যবসার আধিক্য নিয়ে সাকিব ও মাহফুজের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। গত শনিবার রাত ৯ টার দিকে মাহফুজ মিয়ার নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল উপজেলার গন্ধবপুর এলাকায় অবস্থিত সাকিবের মাছের খামারে হামলা চালায়। এ সময় সাকিবকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয় সাকিবের পরিবার থেকে।
এ নিয়ে সাকিবের স্বজন ও গ্রামবাসী রোববার রাতে বৈঠক করেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আজ সোমবার সকালে তাঁরা রাজেন্দ্রপুর গ্রামে অবস্থিত মাহফুজের বাড়িতে হানা করবেন। সেই অনুযায়ী গতকাল সোমবার দুপুরে একদল গ্রামবাসী রাজেন্দ্রপুর গ্রামের দিকে রওয়ানা হন।
এদিকে দুই পক্ষের কর্মকান্ডে ক্ষোব্ধ হয়ে উঠেন দুই গ্রামের সাধারণ মানুষ। তাঁদের দাবি মাদক ব্যবসায়ীদের দ্বন্ধের কারণে দুই গ্রামে অশান্ত হয়ে উঠেছে। তাই উত্তেজিত এলাকাবাসী সোমবার দুপুরে ক্ষোব্ধ হয়ে মাদক ব্যবসায়ী সাকিব, মাহফুজ ও কাজলের বাড়িঘরে পালা করে প্রথমে হামলা এবং পরে অগ্নিসংযোগ করে জ্বালিয়ে দেন। এতে ৩ থেকে ৪টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে।
ঘটনার খবর পেয়ে মাধবপুর থানার এক দল পুলিশ দুপুর ১ টার দিকে ঘটনাস্থয়ে যায়। বেলা ৩ টার দিকে পুলিশ এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
সোয়াবই গ্রামের বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম নামে এক বাসিন্দা ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, “সাকিবকে অপহরণের ঘটনায় পুরো গ্রামে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাকে উদ্ধারের জন্যই এলাকাবাসী রাজেন্দ্রপুরে গিয়েছিল। তবে সেখানে উত্তেজিত লোকজন প্রথমে মাদক ব্যবসায়ী মাহফুজের বাড়িতে আগুন দেয়। পরে এলাকাবাসী একে একে সাকিব ও কাজলের বাড়িতেও আগুন দেন।”
এদিকে অপহরণের দাবিতে সাকিবের বাবা সিরাজুল ইসলাম মাধবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি দাবি করে মাহফুজ তাঁর ছেলেকে অপহরণ করেছে।
মাহফুজ মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, সাকিব অপহরণের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেনা। আজ উত্তেজিত লোকজন তার বাড়িতে হামলা ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছেন অযথাই।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, যে তিনটি বাড়ি উত্তেজিত এলাকাবাসী পুড়িয়েছেন। তিনটি বাড়ির মালিকের ওপর এলাকাবাসীর অভিযোগ তাঁরা এলাকার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন। তাঁরা নিজেদের মধ্যে ব্যবসায়ীক দ্বন্ধে জড়িয়ে এলাকাকে অশান্ত করে তোলেছেন। যে কারণে ক্ষোব্ধ লোকজন তাঁদের বাড়ি-ঘরে হামলা ও অগ্নিসংয়োক করেন। এখনো কোন পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষোব্ধ লোকজনকে নিয়ন্ত্রণ করে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান ওসি।
দ.ক.সিআর.২৬