বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
চুনারুঘাটে কোয়াব কমিটিতে সভাপতি শাহ নেওয়াজের সঙ্গী হলেন যারা বাহুবল মডেল থানার নতুন ওসি হিসেবে যোগদান করলেন মো. আলী আশরাফ হবিগঞ্জে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার নামে গোপন কক্ষে অশ্লীলতা: পুলিশের অভিযান বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন চুনারুঘাটের নাসির বাহুবলে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদন্ড আলোচিত শিক্ষা কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা কে কুলাউড়ায় যোগদানের নির্দেশ মানুষের নিরাপত্তা ও উন্নয়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: এমপি ফয়সল  হাবিব খোকন এর রম্য কবিতা “তোমার শিল্প, আমার কলা” ৮ ধরনের পণ্য বাজার থেকে তুলে নেওয়ার নির্দেশ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া পরিচালনা কমিটি গঠনের নির্দেশ

গুজব নির্ভর সিদ্ধান্তে ঢোলকলমি আজ বিলুপ্তির পথে

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬

 

মো: আমিনুল ইসলাম : দেশের খালবিল, নদীর তীর ও গ্রামীণ সড়কের পাশে একসময় চোখে পড়তো দৃষ্টি নন্দন ঢোলকলমি বা বনকলমি; আঞ্চলিক ভাষায় বেড়ালতা। আজ সেই ঢোলকলমির সবুজ ঝাড় প্রায় বিলুপ্তির পথে। গুজব, পরিবেশ গত পরিবর্তন এবং কুসংস্কারে আজ সেই সহজ লভ্য দেশজ উদ্ভিদ হারিয়ে যাচ্ছে।

ঢোলকলমি গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। দ্রুত বর্ধনশীল এই গাছ অল্পদিনেই ঘনঝাড়ে পরিনত হয়। গাঢ় সবুজপাতা আর পাঁচ পাপড়ির হালকা বেগুনি বা গোলাপি ফানেল আকৃতির ফুল এর সৌন্দর্য প্রকৃতিকে আরো বাড়িয়ে তোলে। একটি মঞ্জুরিতে চার থেকে আটটি ফুলফোটে। সদ্য প্রস্ফুটিত ফুলে মধুর টানে কালো ভোমরের আনা গোনা আর বাতাসে দুলতে থাকা ডালে বসে কীটপতঙ্গভুক পাখির বিচরণ সবমিলিয়ে গ্রামীণ জীববৈচিত্র্যর প্রান ছিলো এ ঝোপঝাড় ঢোলকলমি।

নদীরতীরে, খালের পাড়ে কিংবা গ্রামীণ সড়কের পাশে জন্ম মাটিকে আকড়ে ধরে রেখে ভাঙ্গন কিংবা মাটির ক্ষয়রোধে বেশ ভুমিকা রাখত। পাশাপাশি বসতভিটায় সব্জির ক্ষেতের বেড়া হিসেবেও এর ব্যাবহার ছিলো ব্যাপক। তবে নব্বইয়ের দশকে এক অদ্ভুত গুজব!! ঢোলকলমি গাছে থাকা একধরনের পোকাকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়ে আতংক। এর কামড়ে কিংবা স্পর্শে নাকি মৃত্যু অবধারিত। এই গুজবে গ্রাম থেকে শহরে ছড়িয়ে পড়ে এর ভীতি। সাধারণ মানুষ গণহারে গাছ কাটতে শুরু করে। যদিও পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞরা টেলিভিশনে সরাসরি পোকাটি হাতে নিয়ে নেড়ে চেড়ে প্রমাণকরেন। এটি মোটেও প্রানঘাতিনয়। নিরীহ এক কীট মাত্র। আতংক কেটে গেলেও ততদিনে ঢোলকলমির বিস্তর নিধনকরে মারাত্মক ভাবে কমে যায়।

গ্রামের কৃষকরা জানান, ঢোলকলমি খুবই উপকারী গাছ। এ গাছের পাতা তিতা হওয়ায় গরু-ছাগলের খায়মা বিধায় বেড়া হিসেবে এবং এক সমায় জালানি কাজে ব্যাবহার হতো। খাল কিংবা নদীর পাড়ে ভাঙ্গন রোধে এটি বেশ উপকারী।

পরিবেশ বিজ্ঞানী এবং বিশ্লেষকরা মনে করেন, গুজব নির্ভর সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনাহীন নিধন এবং গ্রামজীবনের দ্রুত পরিবর্তন সব মিলিয়ে দেশজ অনেক উদ্ভিদের মতো ঢোলকলমিও হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ পরিবেশ সংরক্ষণ, মাটির ক্ষয়রোধ ও জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে এমন উদ্ভিদের গুরুত্ব নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

প্রকৃতি ও প্রানের স্বার্থে প্রাকৃতিক বেড়া হিসেবে পরিচিত ঢোলকলমির সংরক্ষণ ও পূনরায় বিস্তারে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া এখন জরুরি নচেৎ গ্রাম বাংলার চেনা সবুজের আরেকটি অধ্যায় ঐতিহ্য হারিয়ে ইতিহাস হয়ে যাবে।

দ.ক.সিআর.২৬

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© 𝐰𝐰𝐰.𝐤𝐚𝐚𝐥𝐧𝐞𝐭𝐫𝐨.𝐜𝐨𝐦
Theme Customized By BreakingNews