1. live@kaalnetro.com : কালনেত্র : কালনেত্র
  2. info@www.kaalnetro.com : দৈনিক কালনেত্র :
শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন

হ‌বিগঞ্জে প‌রিবহন ধর্মঘ‌টের ষষ্ঠ দিন আজ

Reporter Name
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

 

হাফিজুর রহমান নিয়ন: মৌলভীবাজার জেলার পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে বিরোধের জেরে হবিগঞ্জে টানা ছয় দিন ধরে চলছে অনির্দিষ্টকালের সর্বাত্মক পরিবহন ধর্মঘট। গত ১২ মে থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির কারণে জেলার অভ্যন্তরীণ সব রুটসহ সিলেট ও ঢাকার সঙ্গে বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। আকস্মিক এই অচলাবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী, অফিসগামী মানুষ ও দূরপাল্লার ভ্রমণকারীরা।

সোমবার সকালে হবিগঞ্জ বাস টার্মিনাল ও বিভিন্ন আঞ্চলিক স্ট্যান্ড ঘুরে দেখা যায়, যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় অনেকেই বিকল্প যানবাহনের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন। বিশেষ করে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা রোগী, পরীক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।

হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ মে মৌলভীবাজারের শেরপুর এলাকায় হবিগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া কয়েকটি বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাস আটকে দেন স্থানীয় শ্রমিকেরা। এ সময় কয়েকটি বাসে ভাঙচুর চালানো হয় এবং হবিগঞ্জের পরিবহন শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে এবং ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের দাবিতে গত ১২ মে প্রথম দফায় ধর্মঘট পালন করেন হবিগঞ্জের পরিবহন মালিক-শ্রমিকেরা। পরে গত শনিবার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসনের আশ্বাসে দুই দফাতেই আন্দোলন প্রত্যাহার করা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় রোববার সকাল থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।

বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সুযোগ নিচ্ছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও অন্যান্য ছোট যানবাহন। যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিরুপায় হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন অনেকে।

হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকার বাসিন্দা রুবেল আহমেদ জানান, চিকিৎসার জন্য তাঁর মাকে নিয়ে সিলেটে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস না থাকায় সকাল থেকে কয়েক দফা চেষ্টা করেও কোনো যানবাহন পাননি। পরে বাধ্য হয়ে কয়েক গুণ বেশি ভাড়ায় একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করতে হয়েছে শায়েস্তাগঞ্জে যেতে।

আরেক ভুক্তভোগী বানিয়াচং উপজেলার মন্দরী গ্রামের প্রীতি দাস বলেন, পারিবারিক এক জরুরি কাজে ঢাকায় রওনা হওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সময়মতো যেতে পারেননি। এতে তাঁর কাজে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সদস্যসচিব আবু মঈন চৌধুরী সোহেল বলেন, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে একাধিক দফা বৈঠক হলেও মৌলভীবাজার পক্ষের অসহযোগিতার কারণে কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ঘটনার স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক জি এম সরফরাজ বলেন, দুই জেলার মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা করে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। আশা করায় এ সমস্যা কাটবে।

এদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি ১৯ মে থেকে বিভাগজুড়ে যে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল, প্রশাসনের আশ্বাসে তা আগামী ৬ জুন পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। তবে হবিগঞ্জ জেলা মোটর মালিক গ্রুপের চলমান আঞ্চলিক ধর্মঘট এখনো বহাল রয়েছে।

দ.ক.সিআর.২৬

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
© 𝐰𝐰𝐰.𝐤𝐚𝐚𝐥𝐧𝐞𝐭𝐫𝐨.𝐜𝐨𝐦
Theme Customized BY LatestNews