
জিয়াউর রহমান সাজন: শায়েস্তাগঞ্জ প্রতিনিধি: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে আবারও পরিবহন মালিক সমিতির দ্বন্দ্বের জেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিভাগীয় কমিশনারের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক নির্দেশনা উপেক্ষা করে হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন এক্সপ্রেস সার্ভিসের গাড়ি আটকের অভিযোগ উঠেছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের এসএমএস (SMS) বাস মালিক সমিতির বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন হবিগঞ্জ বিরতিহীন পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকরা।
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হবিগঞ্জ মটর মালিক গ্রুপের নেতাকর্মী ও শ্রমিকরা বাস আড়াআড়িভাবে রেখে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং নারী, শিশু, রোগী ও কর্মজীবীসহ হাজারো যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট রুটে বিরতিহীন বাস চলাচলকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ বিরতিহীন পরিবহন ও মৌলভীবাজার এসএমএস বাস মালিক সমিতির মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি সমাধানে বিভাগীয় কমিশনারের সভাপতিত্বে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং সড়কে স্বাভাবিক বাস চলাচল নিশ্চিত করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর না করে আবারও পেশিশক্তির মাধ্যমে হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেসের কয়েকটি বাস আটকানো হয়।
হবিগঞ্জ বিরতিহীন পরিবহনের স্টাফ ও চালকদের দাবি, গত পাঁচ দিন ধরে চলমান সমস্যার কোনো সুষ্ঠু সমাধান না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে সড়ক অবরোধে নেমেছেন। তাদের ভাষ্য, প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
অন্যদিকে সচেতন মহল ও সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, পরিবহন মালিক সমিতিগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, রুট পারমিট ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ের বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষার নামে মহাসড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা প্রশ্ন তুলেছেন,মালিক সমিতির বিরোধের দায় কেন সাধারণ মানুষ বহন করবে? জরুরি চিকিৎসা, পরীক্ষা, চাকরি কিংবা প্রয়োজনীয় কাজে যাওয়া মানুষের পথ বন্ধ করার অধিকার কারও নেই?”
হবিগঞ্জ মটর মালিক গ্রুপের নেতৃবৃন্দ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিভাগীয় কমিশনারের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বারবার গাড়ি আটকানো প্রশাসনিক নির্দেশনার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল। তারা দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে অবরোধের খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান। পরে হবিগঞ্জ বিরতিহীন মালিক ও শ্রমিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা শেষে দুই ঘণ্টার সময় নিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, পরিবহন মালিক সমিতিগুলোর বিরোধ দ্রুত সমাধান করে মহাসড়কে স্থায়ী শান্তি ও স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করবে প্রশাসন।
দ.ক.সিআর.২৬