
চুনারুঘাট প্রতিনিধি: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সারাদেশের মত চুনারুঘাটেও জালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। ভোগান্তিতে পরেছে বুরো চাষী, ট্যাক্টার চালক ও মোটর সাইকেলের যাত্রীরা।
সরেজমিনে বাজার পরিদর্শনে গিয়ে দোকানদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার প্রায় সবকটি বাজারে জ্বালানি তেল মজুদ না থাকায় বিক্রি বন্ধ রয়েছে। তারা জানান, কয়েকদিন হলো ডিপু থেকে তেল পাওয়া যাচ্ছেনা তাই তারা তেল বিক্রি করতে পারছেনা। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে বোরো মৌসুমের চাষিরা ও ট্যাক্টার চালকরা । এছাড়া অকটেনের সরবরাহ না থাকায় অনেকে মোটর সাইকেল চালানো বন্ধ রেখেছেন।
তবে জ্বালালি তেল মজুদ করে রেখে বেশি দামে বিক্রিরও অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ট্রাক্টর চালকের সাথে কথা বলে জানা যায়. অনেকে গোপনে ডিজেল নিয়মিত দামের ১১০ টাকা লিটার থেকে বৃদ্ধি করে ১২০-১৪০ টাকা লিটার প্রতি নিচ্ছে। এবং তাও নাকি বিশ্বস্থ ছাড়া সবাইকে দেওয়া হচ্ছেনা। এছাড়া অনেক মোটর সাইকেল আরোহির অভিযোগ গোপনে ২/১ লিটার করে অকটেন পাওয়া গেলেও তা নিয়মিত দামের লিটার প্রতি ১৩০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১৪০-১৫০ করে নেওয়া হচ্ছে। তাও চাহিদা মাফিক পাওয়া যাচ্ছেনা। তাই অনেকে সাইকেল চালানো বন্ধ রেখেছেন।
তবে সূত্রগুলো— কে, কোথায় এবং কিভাবে? বিক্রি করছে তা নিশ্চিত করতে পারেননি। কারণ অনেকে পরবর্তীতে জ্বালানি তেল না পাওয়া বা নিরাপত্তার ভয়ে জেনেও মূখ খুলছে না।
মঙ্গলবার মিরাশী বাজারে সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় উপজেলার মহদিরকোণা গ্রামের বোরো ধান চাষী হেলাল মিয়ার সাথে দেখা হলে তিনি খালি তেলের বোটল দেখিয়ে বলেন, বাজারের সব দোকানে ঘুরেও কোথাও ডিজেল পাইনি। তিনি আরও জানান, তার প্রতিদিন ধান্য জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য কমপক্ষে ২ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এখন কি করবেন তিনি নিজেও বুঝতে পারছেননা। তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, অনেক দোকানদার থেকেও দিচ্ছেনা বেশি দামের আশায়। এজন্য তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে আরেক ব্যক্তি জানান,
তিনি আরও জানান, আমি গঙ্গানগর গ্রামের একজন কৃষক । আমার জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য দৈনিক ৪ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, দোকানে তেল পাওয়া যাচ্ছেনা, এদিকে জমি শুকিয়ে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে বেশি দামে হলেও এটি কিনেছি।
এদিকে রাজার বাজার, আমুরোড, আসামপাড়াসহ জারুলিয়ার বেশ কয়েকটি দোকানদারের সাথে কথা হলে, ডিপু থেকে তেলের সরবরাহ বন্ধ থাকায় তারা কয়েকদিন ধরে তেল বিক্রি করতে পারছেনা বলে জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জ্বালানি তেল অন্যায়ভাবে মজুদ রাখার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দ.ক.সিআর.২৬