
চুনারুঘাট প্রতিনিধি: চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের বগাডুবি গ্রামে বিদেশ পাঠানোর নামে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতারক আইয়ুব খাঁনের বিরুদ্ধে। মোটা অংকের অর্থ প্রতারণার শিকার পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। পথে বসার উপক্রম হয়েছে অনেকের পরিবার। এমনটাই দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা এ ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে প্রতিকার দাবি করেছেন এক পত্রের মাধ্যমে। লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, বগাডুবি গ্রামের জলফু খাঁনের ছেলে আইয়ুব খাঁন ধূর্ত প্রতারক ও অর্থ আত্মসাতকারী।
উল্লেখিত ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে ও তারিখে আমাদের সাথে সশরীরে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ পূর্বক বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নানাভাবে প্রলুদ্ধ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে আমরা ভালো ভিসার প্রত্যাশায় তার চটকদার কথার প্রতি সরল বিশ্বাসে নগদ ৪,৩০,০০০ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, উক্ত ব্যক্তি সৌদির যে ভিসার কাগজপত্র তাদের দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ ভুয়া ও জালজালিয়াতিমূলক। পরবর্তিতে ভুয়া ৯০ দিনের ভিসায় আমরা সৌদি যেতে রাজি নাহলে আমাদেরকে রাষ্ট্রয়ত্ব পূবালী ব্যাংকের ৪,৩০,০০০ টাকার ভুয়া ব্যাংক চেকের মাধ্যমে প্রতারণামূলক ও ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন সমোদয় অর্থ।
অভিযোগকারী কাউসার মিয়া আরও জানান, প্রতারণার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার এক পর্যায়ে প্রতারক আইয়ুব খাঁন প্রথমে গাঢাকা দেন। এ পর্যায়ে আমরা তার পরিবারে গিয়ে তার নিকট আমাদের প্রদত্ত টাকা ফেরত চাইলে তিনি নানা অজুহাত, টালবাহানা ও ছলচাতুরির আশ্রয় নেন।
এমতাবস্থায় আমরা তাকে দেওয়া আমাদের পাওনা টাকা ফেরত পেতে সশরীরে ও তার আত্মীয়-স্বজনকে বহুবার অবহিতপূর্বক অনুনয়, বিনয়, আবেদন নিবেদন করি। কিন্তু তার মন গলেনি। আমাদের টাকা ফেরত দিতে সে কেবল অস্বীকারই করিনি উল্টো হামলা মামলার ভয় ভীতি প্রদর্শণ করতে থাকে।
তার এসব অভিনব প্রতারণায় আমরা হয়রানি, দিশেহারা ও অনন্যোপায় হয়ে পড়েছি। অতঃপর আমাদের প্রাপ্য টাকা ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক বিচারসহ বিভিন্নভাবে দেনদরবার করে আসছি। কিন্তু,অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে,অদ্যবধি আমাদের পাওনা টাকা ফেরত পাইনি। উপরন্ত আমাদের পাওনা টাকা চাইতে গেলে প্রতারক আইয়ুব খাঁন আমাদেরকে খুন জখমের হুমকি দিয়ে আসছেন। এমতাবস্থায় আমরা আমাদের প্রাপ্য টাকা ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
প্রতারিতদের মধ্যে উপজেলার দেওরগাছ ইউনিয়নের বাঘারুক গ্রামের আনছব উল্লার ছেলে উসমান মিয়ার অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা ও বাসুল্লা গ্রামের জালাল মিয়ার স্ত্রী মাহমুদা খাতুনের কাছ থেকে ৬৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এমনকি একসাথে স্বামী-স্ত্রী পাঠানোর নামেও আইয়ুব খানের নামে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দাবি করা হয়, অনেকেই বিদেশ যাওয়া সংক্রান্তে উভয় পক্ষের মধ্যে শর্তসাপেক্ষে নন জুডিশিয়াল স্টাম্পে চুক্তিনামা যা নোটারি পাবলিক (হবিগঞ্জ) কার্যালয়ের মাধ্যমে এফিডেভিট করা আছে। যা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরা হয়।
এ ব্যাপারে আইয়ুব খানের সাথে তার মুঠোফোনে ০১৭৪১০৮৯৬২৯ নাম্বারে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সংযোগ পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ যে, দালাল ও আদমপাচারকারী আইয়ুব খাঁন প্রতারণার অর্থ দিয়ে বাড়িতে বিলাশ বহুল অট্রালিকা নির্মাণসহ নাবালক ছেলেকে দামী মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছেন।
দ.ক.সিআর.২৬