
হুমায়ুন কবীর, বাহুবল: সম্প্রতি বাহুবল উপজেলা পর্যটন কমিটি গঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায়ের উপস্থিতিতে “প্রকৃতির সম্ভাবনায় পর্যটন সমৃদ্ধ বাহুবল” স্লোগানকে সামনে রেখে পর্যটনের সম্ভাবনা ও উন্নয়ন নিয়ে একটি আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
তবে বাহুবলের পর্যটন খাতকে টেকসই ও কার্যকরভাবে বিকশিত করতে হলে সর্বপ্রথম উপজেলার বিভিন্ন ছড়া থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা প্রয়োজন।
বাহুবলের পর্যটন সম্ভাবনার প্রধান ভিত্তি এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়, ছড়া, বনাঞ্চল এবং সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ছড়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এসব প্রাকৃতিক সম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রকৃতি ধ্বংস করে পর্যটন শিল্পের বিকাশ সম্ভব নয়, বরং এটি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
পর্যটন কমিটির সদস্যরা আন্তরিক ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করলে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এ ক্ষেত্রে শুধু প্রশাসনিক অভিযানের ওপর নির্ভর না করে প্রকৃতি সংরক্ষণে সামাজিক সচেতনতা ও নৈতিক দায়বদ্ধতা জোরদার করাও জরুরি। পর্যটনের স্বার্থেই পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার দাবিতে সাংবাদিকদের কেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হবে? কেন অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর তাদের হুমকি, হয়রানি ও অপপ্রচারের মুখোমুখি হতে হবে? যারা জনস্বার্থে পরিবেশ সংরক্ষণের কথা বলেন, তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বালু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক মালিকানাধীন সম্পদ নয়, বরং এটি জনগণের সম্পদ। তাই এর সুরক্ষা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্ব।
সুতরাং, যদি সত্যিই “প্রকৃতির সম্ভাবনায় পর্যটন সমৃদ্ধ বাহুবল” গড়ে তুলতে হয়, তাহলে প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হওয়া উচিত উপজেলার বিভিন্ন ছড়া থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা। কারণ ছড়া রক্ষা পেলে প্রকৃতি রক্ষা পাবে, আর প্রকৃতি সংরক্ষিত থাকলেই বাহুবলের পর্যটন সম্ভাবনা দীর্ঘমেয়াদে বিকশিত হবে।
হুমায়ুন কবীর, বাহুবল প্রতিনিধি, দৈনিক যায়যায়দিন।
দ.ক.সিআর.২৬