1. live@kaalnetro.com : Bertemu : কালনেত্র
  2. info@www.kaalnetro.com : দৈনিক কালনেত্র :
সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:০৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
ট্রাক ভর্তি পাথরের নিচে লুকানো ভারতীয় জিরা জব্দ করেছে বিজিবি  মাঠপর্যায়ের প্রতিনিধিরাই গণমাধ্যমের মূল শক্তি- সিরাজুল মনির হবিগঞ্জে কলেজ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নির্বাচনী অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত দৈনিক বর্তমান বাংলার বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত চুনারুঘাটে গতরাতে সেনা অভিযানে গাঁজা-মদ বিক্রেতাদের আটক আয়েশা আহমেদের উপন্যাস ‘ভাঙা ঘরে চাঁদের আলো’র মোড়ক উন্মোচন ভোটাধিকার রক্ষায় খালেদা জিয়ার আন্দোলনের কথা স্মরণ করলেন আনিসুল  তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলে বিএনপির প্রস্তুতি সভা  মাধবপুরে ৩২ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার পদক্ষেপ গণপাঠাগারের “আলোর পদক্ষেপ” বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

মুক্ত গণমাধ্যমের প্রাণপুরুষ জিয়ার পাশাপাশি খালেদার অবদান

দৈনিক কালনেত্র
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫

 

ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এই ভূ-ভাগে জিয়া আবির্ভূত হয়েছিলেন এক নাক্ষত্রিক বিভায় উদ্ভাসিত হয়ে। প্রতিটি ক্রান্তিকাল, দুঃসহ-দুরধিগম্য-দুর্বিপাকের অনিশ্চয়তা যখন ঘনিয়ে এসেছে, তিনি অসম সাহসিকতায় হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়ে জাতির সমুখে ত্রাণকর্তা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। একাত্তর অথবা পঁচাত্তর-মানুষের অনিঃশেষ নির্ভরতা-আস্থা আর ভরসার বিমূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন তিনি। একাত্তরে রাজনৈতিক নেতৃত্বহীন, অপ্রস্তুত, অসংগঠিত দিকভ্রান্ত-দিশাহীন শঙ্কিত জাতি কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে যখন ভেসে আসে বজ্রকণ্ঠ ‘আই মেজর জিয়া ডু হিয়্যার বাই ডিক্লেয়ার্ড দ্য ইন্ডিপেনডেন্স অব বাংলাদেশ… তখন প্রাণ ফিরে পেয়েছিলেন। তার ‘উই রিভোল্ট’ নিনাদ ইথারে পৌঁছে যায় জনে জনে। তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন রণাঙ্গণে। অতঃপর ৯ মাসের প্রানপন যুদ্ধে হানাদার মুক্ত হলো দেশ। অভ্যূদ্যয় হলো নতুন দেশ-বাংলাদেশ। দেশ স্বাধীন হলো বটে, কিন্তু মানুষের ভাগ্যাকাশে আরো গভীর অন্ধকার নেমে এলো। শেখ মুজিব পাকিস্তান থেকে ফিরলেন। বসলেন ক্ষমতার মসনদে। দ্রুত বদলে যেতে থাকলো পরিস্থিতি-দৃশ্যপট। মানুষের সব আশা-আকাংখা, মনের গহীনে পুষে রাখা অনন্তকালের স্বপ্নগুলো ফিকে হতে থাকলো। চারদিকে নিকষ আঁধার ঘিরে নিতে থাকলো। শেখ মুজিব ও তার অলিগার্ক ‘চাটার দলদের’ বেপরোয়া লুন্ঠন, খুন গুম, রাহাজানি, উৎপীড়ন, দুর্বিনীত আমিত্ব রসাতলে ডুবিয়ে দিল দেশকে। দূর্ভিক্ষ হলো। ঘরে ঘরে ক্রন্দন রোল। ‘স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি’ হীন হলো জনজীবন। শ্বাসরুদ্ধকর জাহেলিয়াত নেমে এলো। ত্রাসের আগুন লেগে লাল হয়ে জ্বলে উঠল জনপদগুলো। মুক্তির প্রহর গুণতে শুরু করল দেশবাসী। শেখ মুজিব নিহত হলেন। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের রক্ষায় এলো ৭ নভেম্বর। সিপাহি জনতা মিলিত বিপ্লব ঘটিয়ে তাদের পরীক্ষিত নিকষিত দেশপ্রেমিক, পরম ভরসাস্থল জিয়াউর রহমানের স্কন্ধে তুলে দিলেন দেশ পরিচালনার দায়িত্বযজ্ঞ। ক্ষমতার পাদপীঠে উপবেশন তাকে অভাবনীয়-অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞে নিবিড় নিবিষ্ট করে তোলে।

বড় দ্রুত পরশ পাথরের মতো জিয়াউর রহমানের অলৌকিকতায় বদলে যেতে থাকল সবকিছু। অবাক বিস্ময়ে বিশ্ববাসী অবলোকন করতে থাকলেন একজন জিয়াউর রহমানের অভিনব হিরন্ময় দূরদর্শী পরিকল্পনার দ্রুততর বাস্তবায়নে উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার নতুন বাংলাদেশ। এরকম বাংলাদেশ দেখেনি কেউ আগে। জিয়াউর রহমান হয়ে উঠলেন গণমানুষের প্রাণভোমরা। ’তলাবিহীন ঝুড়ির’ কালিমা মুছে দিলেন।

জিয়া অচিরেই এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুললেন, যেখানে নিশ্চিত হয় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সমৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা, অন্তর্ভুক্তিমুলক ও উদার ঐক্যের রাজনৈতিক পরিবেশ এবং সামাজিক স্থিতি ও ন্যায়পরায়ণতা। দেশের উন্নতি-উন্নয়নে করতলে নিয়েছিলেন বহুমাত্রিক-বহুমুখী পদক্ষেপ। এমন কোনো বিস্তৃত ক্ষেত্রের সন্ধান মিলবে না, যেখানে জিয়ার যাদু উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। তিনি ছিলেন অনন্য উচ্চতার স্বপ্নদ্রষ্টা-ভিশনারি রাষ্ট্রনায়ক। তার মতো অন্তপ্রান, দূরদর্শী ভূমিপুত্র, দেশদরদি, অসম সাহসী, সৎ, নিষ্ঠাবান, দুর্নীতিমুক্ত, কর্মঠ রাষ্ট্রনায়ক জগতে প্রায় বিরল।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার স্থপতি। নিজের পায়ে উঠে দাঁড়াতে, নিজস্ব সংস্কৃতি নির্মাণ করতে, স্বাতন্ত্র-স্বকীয়তা অর্জন করতে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষকে পথ দেখিয়ে গেছেন। এক জীবনে একজন মানুষের পক্ষে এমন বিশাল অর্জন বিস্ময়কর। প্রেসিডেন্ট জিয়ার পক্ষে এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছিল। তিনি বাংলাদেশের আপন মৃত্তিকার সন্তান ছিলেন, গ্রাম-গ্রামান্তরের ধূলি ধূসরিত পথে, সুনীল মাঠে দোল খাওয়া ধানের আল ধরে তিনি ক্লান্তিহীন হেঁটেছিলেন, তিনি প্রাণের গহিনে বুনে নিতে পেরেছিলেন এ দেশের সাধারণ মানুষের স্বপ্ন।

ক্ষনজন্মা মহানায়ক জিয়াউর রহমানের সর্বব্যাপী সাফল্যের পালকে উজ্জ্বল হয়ে আছে গণমাধ্যমকে মুক্ত অবারিত প্রাণবন্ত রথে উত্তোলন করে দেওয়া, গণমাধ্যমকে তার আপন ঠিকানা- রাষ্ট্রের ’চতুর্থ স্তম্ভে’ পরিণত করা। এই স্বপ্নদ্রষ্টার গহিনে এই সত্য উপলব্ধি গ্রথিত করেছিল যে, গণতন্ত্র, সুশাসন ও উন্নয়নের সঙ্গে গণমাধ্যমের নিবিড়তম সম্পর্ক রয়েছে। সমাজে পরিবর্তন সাধনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যম শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হয়ে কর্মসাধন করে থাকে। মানুষের চেতনা-চিন্তা, মতামত এবং সমাজের প্রবণতাগুলো প্রভাবিত করতে গণমাধ্যমের রয়েছে অসাধারণ অতি-সক্ষমতা; এটি নীতি-নির্ধারণ এবং সামাজিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে হলে অবশ্যই সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য অনুসঙ্গ। তাই ঐকান্তিক আপন আগ্রহ থেকেই তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে গভীর প্রানময় হৃদ্যতা গড়ে তোলেন।

জিয়াউর রহমান মনে করতেন, দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নে গণমাধ্যম ব্যাপক অবদান রাখতে পারে। ১৯৭৫ সালে তিনি উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক থাকাকালে প্রথম বারের মতো তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। তখনই তিনি গণমাধ্যমের সমস্যা, সংকট, সম্ভাবনা ও করণীয় সম্পর্কে সার্বিক ধারণা লাভ করেন। রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্রসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সুদূর প্রসারী উন্নয়নের চিন্তা পরিকল্পনা তার করোটিত স্থাপিত হয়। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের কারণে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে গড়ে ওঠে নিবিড় সম্পর্ক, গভীর সখ্য।

জাতিসংঘের ১৯৪৮ সালের মানবাধিকারের সর্বজনীন যোষণাপত্রের সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করতেন জিয়াউর রহমান। যাতে বলা হয়েছে: প্রত্যেকের মতামত ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে; এই অধিকারে হস্তক্ষেপ ছাড়াই মতামত রাখা এবং কোনো গণমাধ্যমের মাধ্যমে তথ্য ও ধারণাগুলো অনুসন্ধান করা, গ্রহণ এবং গ্রহণের স্বাধীনতার সীমানা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।

গণমাধ্যম সম্পর্কে জন স্টুয়ার্ট মিলের মতের সঙ্গে একমত ছিলেন তিনি। তিনি মনে করতেন যে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিত এবং সত্য প্রকাশের মাধ্যমে সমাজের উন্নতি হয়। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আমাদের মূল গণতান্ত্রিক শক্তির মেরুদণ্ড।

গণমাধ্যম কোনো রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং আইনসভা, এই তিনটি স্তম্ভের পাশাপাশি গণমাধ্যম সমাজে জবাবদিহিতা এবং স্বাচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রতিপালন করে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশবাসীর জন্য সংবাদপত্রের মুক্তি, বাকস্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তার সময়ে, সাংবাদিকের কণ্ঠস্বর ছিল স্বাধীন। কলম ছিল খোলা।

একথা সর্বজনবিদিত যে, ’এক নেতা এক দেশ’ প্রতিষ্ঠার নীলনকশা বাস্তবায়নের অসাধু অভিপ্রায়ে পঁচাত্তর সালে শেখ মুজিবুর রহমান একদলীয় বাকশালী শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। বহু মতপ্রকাশের পথ রুদ্ধ করে দেন। একটি ফরমানের মাধ্যমে চারটি মাত্র দৈনিক পত্রিকা রেখে সব পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বেকার করে দেওয়া হয় হাজার হাজার সাংবাদিক-সংবাদকর্মীকে। পত্রিকা বন্ধ,পেশাচ্যুত ও বেকারত্বের কোপানলে তখন সাংবাদিকরা চরম হতাশার আবর্তে এক ছন্নছাড়া জীবন যাপন করছিলেন। তখন সাংবাদিকদেরও বাকশালে যোগদানে বাধ্য করা হয়েছিল। এমন ভয়ংকর পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে সাংবাদিকরাও আশান্বিত হয়ে ওঠেন। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরে সিপাহী-জনতার জাতীয় বিপ্লবের পর মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান সব দিকেই সতর্ক নজর দিতে শুরু করেন। তিনি তখন উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং তথ্য মন্ত্রণালয় ছিল তার দায়িত্বে। ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বিএফইউজে ও ডিইউজের নেতৃবৃন্দকে তিনি সেনা সদরের অফিসে আমন্ত্রণ জানান।

সাংবাদিক নির্মল সেন, কামাল লোহানী, গিয়াস কামাল চৌধুরী, রিয়াজউদ্দিন আহমেদসহ নেতৃবৃন্দ গেলেন। সাংবাদিক নেতারা একটি দাবিনামা পেশ করলেন। যেখানে ছিল বন্ধ পত্রপত্রিকাসমূহ খুলে দেওয়া, পেশাচাত সাংবাদিকদের পেশায় ফিরিয়ে আনা, বেতন বোর্ড পুনর্গঠন করা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়া প্রভৃতি। শেখ মুজিবের বাকশালী শাসনের রোষানলে বন্দি কয়েক জন সাংবাদিকের মুক্তির দাবিও করেন সাংবাদিক নেতারা। জিয়ার সঙ্গে বৈঠক শুরু হলে নির্মল সেন সাংবাদিকদের লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন। সাংবাদিকদের বক্তব্যকে জিয়া ইতিবাচক হিসেবে নেন।

তিনি সংবাদপত্র শিল্পের সার্বিক উন্নয়নের ব্যাপারে আগ্রহ প্রদর্শন করেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল সাংবাদিকদের জন্য একটি ইনসার্ভিস ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা। এরই ফলে পরবর্তী কালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট। আজকের প্রেস ইনস্টিটিউট, যেখানে সাংবাদিকরা সাংবাদিকতার ব্যাপারে উচ্চতর প্রশিক্ষণ পাচ্ছে, তা গর্ব ভরে বহন করছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানে স্মৃতি।

কিছু দিনের মধ্যেই দেখা যায় সালাদিকদের দাবিগুলো পূরণ হতে শুরু করেছে। সংবাদপত্র কর্মচারী কেতন বোর্ড আইন সংশোধন হলো। বন্ধ সংবাদপত্র খুলতে লাগল। বেকার সাংবাদিকরা আবার পেশায় ফেরেন। প্রেস ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্য তৎকালীন অবজারভার সম্পাদক ওবায়দুল হকের নেতৃত্বে কমিটি হলো।

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী গঠিত হলো ‘প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ’। সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের জন্য গড়ে ওঠা বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বহন করছে। বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট থেকে বেশুমার সাংবাদিক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, দক্ষতা ও দায়িত্বের সঙ্গে তারা এখন সাংবাদিকতার অনুশীলন করছেন-যে প্রতিষ্ঠান শহীদ জিয়া প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশের সাংবাদিকতার মান উন্নয়নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান অতুলনীয়।

১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান জাতীয় প্রেস ক্লাব পরিদর্শনে এলে সাংবাদিকরা তাকে তোপখানার জায়গাটি ক্লাবের নামে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান। তখন প্রেস ক্লাবের সভাপতি ছিলেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তার আগে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাত ব্যবসায়ী প্রিন্স করিম আগা খান প্রেস ক্লাব ভবন নির্মাণের ব্যয় বহনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ক্লাব ভবনের ভিরি স্থাপন করতে এসে জিয়াউর রহমান বিষয়টি জানতে পারেন।

সাংবাদিক নেতাদের ডেকে তিনি বলেন, প্রেস ক্লাব হচ্ছে একটি জাতীয় ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। এর উন্নয়ন মানে গণতন্ত্রের উন্নয়ন, সাংবাদিকতার প্রসার। অতএব, বিদেশি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অর্থানুকুল্যে। প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মিত হওয়া উচিত নয়। তা হলে সাংবাদিকদের মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এটা নির্মিত হবে আমাদের নিজস্ব টাকায়। তিনি জানালেন, প্রেস ক্লাব ভবন নির্মাণের সব ব্যয়ভার গ্রহণ করবে সরকার। অচিরেই সরকারের খরচে নির্মিত হলো বর্তমান প্রেস ক্লাব ভবন। প্রেস ক্লাবে ঢুকতেই চোখে পড়বে জিয়ার নামাঙ্কিত ফলক। শুধু ভিত্তিস্থাপন ও অর্থানুকল্য দিয়েই বসে থাকেননি। তিনি প্রেস ক্লাব ভবন নির্মাণকাজের অগ্রগতিও পরিদর্শন এবং পর্যবেক্ষণ করেন।

পরে বাস্তবে জিয়ার আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছিল। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রেস ক্লাব হয়ে ওঠে ‘গণতন্ত্র স্কোয়ার’। জাতীয় প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে শেরাটন হোটেলে এক ডিনার অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি করা হয় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে। ঐ অনুষ্ঠানে তিনি জায়গাটি প্রেস ক্লাবকে বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দেন। প্রথমে অর্ধেক জায়গা (৯৯ একর) প্রেস ক্লাবের নামে ৩৩ বছরের জন্য লিজ দলিল করে দেওয়া হয়। এই লিজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রেস ক্লাবের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে এসে প্রেস ক্লাবের জমি স্থায়ী লিজের ঘোষণা দেন। সে অনুযায়ী আগের ০.৯৯ একর এবং ক্লাবের দখলে থাকা ১.১ একর অর্থাৎ মোট দুই একর জায়গা জাতীয় প্রেস ক্লাবের নামে ১ লাখ ১ টাকায় স্থায়ী লিজ (৯৯ বছরের হিসেবে দলিল করে দেওয়া হয়)।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবাদকর্মীদের বেতনভাতা নির্ধারণে ওয়েজ বোর্ড গঠন করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি বেতন বোর্ড পুনরুজ্জীবিত করেন এবং ১৯৭৭ সালের ১লা মে ওয়েজ বোর্ড ঘোষনা করা হয়। একই সঙ্গে ঘোষিত বেতন স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ইমপ্লিমেন্টেশন সেলও গঠন করে দেন। তিনি সাংবাদিক, মালিক, সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠন করেন প্রেস কনসালটেটিভ কমিটি। এ কমিটির কাজ ছিল স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায়গুলো দূর করা।

শুধু প্রেস ইনস্টিটিউট, প্রেস ক্লাবই নয়, সাংবাদিকতার স্বাধীনতার জন্য প্রণীত আইনের বাস্তবায়ন করে প্রেসিডেন্ট জিয়া প্রতিষ্ঠা করে গেছেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল। সাংবাদিকদের বাসস্থান সমস্যা সমাধানেও এগিয়ে আসেন প্রেসিডেন্ট জিয়া। তিনি মিরপুরের কালশীতে সাংবাদিক আবাসিক পল্লী নির্মাণের জন্য প্রায় ২৩ বিঘা জমি বরাদ্দ করেন। এ জমিতে এরই মধ্যে দেড় শতাধিক সাংবাদিকের আবাসিক ভবন নির্মিত হয়েছে। আবাসিক এলাকাটি। এখন ঢাকা সাংবাদিক গৃহসংস্থান সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে পরিচিত। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উন্নয়নেও শহীদ জিয়া আর্থিক সমর্থন দিয়েছেন।

সংবাদপত্র বাতিল অধ্যাদেশ বলে ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন নিষিদ্ধঘোষিত সংবাদপত্রগুলোকে একে একে প্রকাশের অনুমতি প্রদান করেছিলেন। ফলে ঐ সময় নবলব্ধ গণতান্ত্রিক অধিকার মুদ্রিত মাধ্যম জগতে নয়া বিপ্লবের সূচনা হয়। সংবাদপত্র প্রকাশনায় সৃষ্টি হয় জোয়ার। বন্ধ ঘোষিত পত্রিকাগুলো প্রকাশের পাশাপাশি নতুন দৈনিক, সাপ্তাহিক, অর্ধসাপ্তাহিক, পাক্ষিক এবং মাসিক পত্রিকা বের হয়।

উত্তরাঞ্চলের জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং প্রেসিডেন্ট জিয়ার বিশেষ। আগ্রহে ‘দৈনিক বার্তা’ নামে একটি প্রথম শ্রেণির পত্রিকা প্রকাশিত হয় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায়। এ পত্রিকায় বন্ধ ঘোষিত দৈনিক পূর্বদেশসহ অনেক পত্রিকার বেকার সাংবাদিকদের চাকরি দেওয়া হয়। শিশু-কিশোরদের জন্য প্রেসিডেন্ট জিয়ার আগ্রহেই প্রকাশিত। হয় ‘কিশোর বাংলা’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা। পত্রিকাটি শিশু-কিশোরদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ছিল।

প্রেসিডেন্ট জিয়া ‘গণতন্ত্র’ নামে একটি রাজনৈতিক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশেরও উদ্যোগ নেন। তার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় ১৯৭৯ সালের ১২ জুলাই প্রকাশিত হয়েছিল ‘দৈনিক দেশ’ পত্রিকা। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই দেশব্যাপী পত্রিকাটি জনপ্রিয় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। অন্যায়, অবিচার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে পত্রিকাটি সোচ্চার ছিল। মন্ত্রী, এমপি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির খবরও পত্রিকাটিতে নিয়মিত প্রকাশিত হতো।

শুধু ঢাকা নয়, শহীদ জিয়ার আমলে বিভিন্ন জেলা এবং থানা সদর থেকেও অসংখ্য পত্রপত্রিকা বের হয়েছে। এসব পত্রিকার স্বার্থ রক্ষায় তখন বিজ্ঞাপন বণ্টনও শিথিল করা হয়েছিল। সরকারি বিজ্ঞাপনের ৪০ শতাংশ মফস্বল থেকে প্রকাশিত পত্রিকার জন্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট জিয়া দেশে-বিদেশে সফরকালে তার সঙ্গে সাংবাদিকদের নিয়ে যেতেন। একান্তে তাদের সঙ্গে দেশের সমস্যা সংকট উত্তরণের উপায় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতেন। তাদের কাছ থেকে নানা সমস্যার কথা জেনে তা সমাধান করার চেষ্টা করতেন। সংবাদপত্রের যে কোনো সমালোচনা তিনি ইতিবাচকভাবে নিতেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের খোলামেলা জবাব দিতেন।

প্রিন্ট মাধ্যম ছাড়াও অন্যান্য মাধ্যমের উন্নয়নেও প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনকে আকর্ষণীয় করার জন্য রঙিন মাধ্যমে রূপান্তর করা হয়। সংসদ কার্যক্রম দেখানোর জন্য বিটিভির দ্বিতীয় চ্যানেল চালু করা হয়। অনুষ্ঠান এবং খবরে বৈচিত্র আনা হয়। একইভাবে বাংলাদেশ বেতারেও পরিবর্তন আনা হয়। চলচ্চিত্রের উন্নয়নে প্রেসিডেন্ট জিয়ার বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল। মুক্তিযুদ্ধসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক ছবি তৈরিতে জিয়াউর রহমানের সরকার অনুদান প্রদান শুরু করে।

সাংবাদিকতার প্রতি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন গভীর শ্রদ্ধাশীল। সাংবাদিকদের তিনি ভালবাসতেন অকৃত্রিমভাবে। খবরের কাগজ পড়তেন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। অকুন্ঠ চিত্তে সাংবাদিকদের প্রশংসা করতেন। বিনয়ের সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের লেখার সমালোচনা করতেন। দৈনিক বাংলার একজন অ্যাসিসটেন্ট এডিটরের ’উত্তর-দক্ষিণ সম্পর্ক’ সংক্রান্ত একটি লেখা তার পছন্দ হয়েছিল। সেই সাংবাদিককে তিনি ডেকে পাঠিয়েছিলেন ইস্যুগুলো আলোচনার জন্য। একজন সাংবাদিকের একটি লেখা সম্পর্কে রাষ্ট্র প্রধানের এমন আগ্রহের নজির বিরল। বাংলাদেশের সাংবাদিকতা, সাংবাদিকদের অবস্থান, দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং সংবাদপত্র শিল্পের হাল-হকিকত সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট জিয়া খোঁজখবর রাখতেন। তিনি চাইতেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকরা বিশ্বের অগ্রসর দেশগুলোর সাংবাদিকদের সঙ্গে দক্ষতার সাথে মাথা উঁচু করে কাজ করুক।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাংবাদিকদের সার্বিক কল্যাণে নিরলস কাজ করেছেন। বিদেশে রাষ্ট্রীয় সফরে গেলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কেবল ঢাকা নয়, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বিভাগের সংবাদপত্র, সম্পাদক ও সাংবাদিকদের দুই-তিন জন প্রতিনিধি সবসময় সঙ্গে নিয়ে যেতেন। মানিকগঞ্জের নবগ্রামকে তিনি নিজের গ্রাম হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। স্বেচ্ছাশ্রম খাল খনন কর্মসূচির অগ্রগতি দেখানোর জন্যে তিনি তার সঙ্গে একদল সাংবাদিককে নিয়ে গিয়েছিলেন। দিনের শেষে জনসভায় একজন সম্পাদককে তিনি ভাষণ দিতে অনুরোধ জানান। সেই সম্পাদক সম্ভাবত: জনসভায় কোনো ভাষণ দিতে রাজি ছিলেন না। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাকে বলেছিলেন, ‘ঠিক আছে আমার বিরুদ্ধে, আমার কর্মসূচির বিরুদ্ধে কিছু বলার থাকলেও নির্ভয়ে বলুন।’ সেই সম্পাদক তখন জনসভায় বক্তৃতা দিয়েছিলেন।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বরাবর বলতেন, ‘আমার সমালোচনা করুন, যাতে আমি কিছু শিখতে পারি।’ বঙ্গভবনে সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক বৈঠকে একজন সম্পাদক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের তাগিদ দিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেই সম্পাদককে শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন, এই অবস্থায় সরকার কীভাবে দ্রব্যমূল্য কমাতে পারে, তা দয়া করে ব্যাখ্যা করুন। সম্পাদক সাহেব জবাব দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট জিয়া বলেছিলেন, ‘আরো গভীরে গিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিন।’ বলাবাহুল্য, সে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব সম্পাদক সাহেব দিতে পারেননি। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার স্বভাবসুলত হাসি হেসেছিলেন। তিনি সংবাদপত্রের সমালোচনাকে ভয় করতেন না। তবে তিনি চাইতেন যে, সমালোচনা যেন বস্তুনিষ্ঠ হয়। তিনি বলতেন দেখে লিখুন, সমস্যার গভীরে গিয়ে বিশ্লেষণ করুন। তিনি বলেছিলেন সাংবাদিকরা যেন বস্তুনিষ্ঠভাবে লেখে।

প্রেসিডেন্ট জিয়ার ভাষণের মর্মকথা ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্বনির্ভরতা অর্জন। তিনি বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের বিপদ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা আমার দায়িত্ব। গণমাধ্যমের মাধ্যম আমার বক্তৃতার সিকি অংশও। যদি জনগণের কাছে পৌঁছায়, তাহলেই আমি খুশি।’

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদতের পর গণতন্ত্রের পাশাপাশি গণমাধ্যমের ওপরও নেমে আসে অন্ধকার খড়গ। স্বৈরাচারী এরশাদের আমলে গণমাধ্যম আবারও স্বাধীনতা হারায়। এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে বেগম জিয়ার শাসনকালে আবার গণতান্ত্রিক শাসন ফিরে এলে ‘শত ফল ফোটার’ মতো গণমাধ্যম বিকশিত হয়। কিন্তু ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ টাইমস, সাপ্তাহিক বিচিত্রা এবং পাক্ষিক আনন্দ বিচিত্রা বন্ধ করে দিয়ে শত শত সাংবাদিককে আবারও বেকার করে দেওয়া হয়। একমুখী সাংবাদিকতায় এ শিল্প আজ ধ্বংসের পথে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই চলছে অস্থিরতা।

বিগত দেড় দশকে আওয়ামী লীগের ফৈরাসিস্ট সরকার দৈনিক আমার দেশ, চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভিসহ ভিন্নমতের সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেল আগেই বন্ধ করে দেয়। ঐসব প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকরা বেকারত্বের দুর্বিষহ জীবন যাপন করেছেন। এমনও মিডিয়া রয়েছে, যেখানে সর্বনিম্ন তিন মাস থেকে ঘোলো মাস পর্যন্ত বেতন বকেয়া পড়েছে। গণমাধ্যমের এই দুরবস্থার সময়ে বেশি মনে পড়ছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে। যিনি ছিলেন বাংলাদেশের গণমাধ্যমবান্ধব একজন রাষ্ট্রপতি। গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের কারণে তিনি ছিলেন গণমানুষের কাছে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়-গ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রনায়ক। তার উদার গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার কারণে দেশের গ্রামগঞ্জে, শহরে-বন্দরে কোটি কোটি সাধারণ মানুষ নিমেষেই ভক্ত হয়ে ওঠেন। ভালোবাসার চাদরে আঁকড়ে নেন। শহীদ জিয়ার নাম বলতে তারা আবেগাপ্লুত; চোখের কোণে চিক চিক করে ওঠে অশ্রু ফোঁটা। মৃত্যুর এত বছর পরও গণমানুষের হৃদয়ে শহীদ জিয়ার স্থান এতটুকু কমেনি, অমলিন হয়নি। বরং তা নতুন প্রজন্মের ভেতর ছড়িয়েছে আরো প্রগাঢ় ভাবে। এই জনপদে জিয়ার উত্থান এক অবিস্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে।

দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা তার অসম সাফল্যমণ্ডিত মহাপ্রানের ওপর অকাল যবনিকা টেনে না দিলে বাংলাদেশী জনগণ তার এমন দুরদর্শী নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হতো না। পরবর্তীকালে প্রেসিডেন্ট জিয়ার সহধর্মিনী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বে বিএনপির উত্থান ও বিজয় প্রমাণ করেছে, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দর্শন-আদর্শ অমর, অন্বয়, অক্ষয়। বর্তমানে শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরি ও অবিকল প্রতিচ্ছবি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অভাবনীয় হিরন্ময় নেতৃত্বে বিএনপি তৃনমূল শক্তিতে পরিণত হয়েছে। গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের প্রতি তারেক রহমানের প্রান উজাড় করা দরদ আর ভালোবাসা শহীদ জিয়ার মতোই অকৃত্রিম অকুণ্ঠ। আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে গণমাধ্যম- সংবাদপত্র- সংবাদকর্মীরা আত্মমর্যাদা, ভয়হীন পরিবেশ- মতপ্রকাশের অসংকোচ সাহস ফিরে পাওয়ার প্রতীক্ষায় প্রহর গুণছেন।

দ.ক.সিআর.২৫

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
© 𝐰𝐰𝐰.𝐤𝐚𝐚𝐥𝐧𝐞𝐭𝐫𝐨.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট