
স্টাফ রিপোর্টার: ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দূসর হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্ত আরেক ফ্যাসিস্ট ছাত্রলীগ নেতা, চুনারুঘাটের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় দীর্ঘদিন হাজতবাসকারী, চুনারুঘাটের ভূইপুর সংগঠন মেধাবিকাশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাইফুর রহমান রাব্বিকে হবিগঞ্জ জেলার জন্য বরাদ্দকৃত সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অর্থ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা পেয়ে দিয়ে সহযোগিতা করেছেন অভিযোগ রয়েছে।
কে এই সাইফুর রহমান রাব্বি? এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। খুঁজ নিয়ে জানা যায়, এই রাব্বি দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ প্রতারণার ফাঁদ করে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে নানানরকম সুবিধা নিয়ে আসছে। নিষিদ্ধ সংগঠন চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যডভোকেট আকবর হোসাইন জিতুর পিএস থাকাকালীন বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা নিয়েছে।
রাব্বির ফেসবুক পোস্টে দেখা যায়, বিগত আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কটুক্তি করে নানাভাবে প্রচার করেছে।
এক পোস্টে সাইফুর রাব্বি লিখেছেন, “আমরা যারা আওয়ামী লীগ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি, আমরা মেজর জিয়াকে বঙ্গবন্ধুর খুনি হিসেবেই চিনি। তার কুলাঙ্গার সন্তান তারেক রহমানকেও গ্রেনেড হামলাকীরী হিসেবে জানি। অবৈধ প্রেসিডেন্ট জিয়ার শাসন আমলে তৈরি করা বিকৃত ইতিহাস দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস মুছে দেয়া যাবেনা।”
অনুসন্ধানে জানা যায়, হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির অফিস সহায়ক বিকাশ পালের সহযোগিতায় তার ঘনিষ্ঠজন আওয়ামী লীগের ধূসর, আবু জাহির এমপির পিএস সুদীপ রায়ের আত্নীয় অজয় রায় ও গৌরী রায়ের সংগঠন চারুকণ্ঠ শিল্প সংস্থা অনুদানের টাকা ভাগিয়ে নিয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই সংগঠন একাধিক বার অনুদান পেয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, হবিগঞ্জে বেশ কয়েকটি আওয়ামী ধারার সংগঠনকে অনুদান পেতে অর্থের বিনিময়ে সহযোগিতা করেছেন কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্ত ও তার সহযোগী বিকাশ পাল।
এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আহম্মাদ ফারুক লিপু লিখেছেন, “বৈষম্য বিরোধী জুলাই আন্দোলনের হামলার অভিযোগের মামলায় জেল খাটা আসামী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার প্রতিষ্ঠিত সংগঠন কিভাবে সরকারি বরাদ্দ পায় তার জবাব দিতে হবে হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির এডহক কমিটিকে। কাদের সুপারিশে এই বরাদ্দ মঞ্জুর হলো!”
হবিগঞ্জ জেলা জাসাসের সাবেক সভাপতি, নাট্যব্যক্তিত্ব শাহ আলম চৌধুরী মিন্টু লিখেছেন, “এই সংগঠন ছাড়াও ১৭ বছর আওয়ামী লীগের পদপদবী ওয়ালাদের সংগঠন পেয়েছিল তারাই এবারও সরকারি অনুদান পেয়েছে। তাদের সুপারিশ দাতাদের চিহ্নিত করা দরকার।এছাড়াও ব্যক্তিগত অনুদান আওয়ামী পদবীবহনকারী ও সুবিধাবাদিরা অনুদান পেয়েছে। তারজন্য বিএনপির লোক দায়ী। আমি চিনি তাদের।”
এই বিষয়ে কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্ত বলেন, “আমি বা আমরা অনুদান পেতে কাউকে সহযোগিতা করার সুযোগ নেই। যাচাই-বাছাই কমিটি যে সংগঠনের নাম প্রস্তাব করেন, তাদের তালিকা আমরা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে থাকি।” অনৈতিক লেনদেনের কথা জানতে চাইলে তিনি আমতাআমতা করে অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে সাইফুর রাব্বি বলেন, আমি বর্তমানে এই সংগঠনের কোন দায়িত্বে নেই। শুধুমাত্র সদস্য হিসেবেই আছি। কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি দ্বীপ পাল চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ইবতি খান আদিত্য দুজনই জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং এ সংক্রান্ত কমিটিরও পদধারী। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় যদি কোন অনুদান দিয়ে থাকে এটি সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও গতিশীলতা বিবেচনা করে দিয়েছে। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমল থেকে অনুদানের জিও জারি হচ্ছে। আমরা এখনো পর্যন্ত অনুদানের বিষয়ে অবগত নই। ফেসবুকে একটি ফেক স্কিনশর্ট ছড়িয়ে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে একজন আমাকে বলেছিলেন। আমি পাত্তা দেইনি। দেওয়ারও মনে করিনা।
দ.ক.সিআর.২৬