
চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের এক নারী ভিক্ষুককে গ্রেফতার করেছে চুনারুঘাট থানা পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে চুনারুঘাট বাজার থেকে ভিক্ষুক শাপলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাপলা আক্তার আহম্মদাবাদ ইউনিনের থৈগাও গ্রামের মৃত হান্নান মিয়ার মেয়ে। শাপলার দেড় বছরের এক কন্যা সন্তানও রয়েছে। দরিদ্র পিতার সন্তান হওয়ায় মাধবপুরের এক প্রতিবন্ধি ছেলের সাথে বিয়ে হয় শাপলার। সেখানেও অভাব তাকে ঘ্রাস করে ফেলছিলো। প্রায়ই বাবার বাড়ি আসতে হইতো শাপলাকে। তখন একি গ্রামের আন্দুল মজিদের ছেলে আদমবেপারী তারা মিয়া শাপলাকে স্বামীর অভাবের সুযোগে বিদেশে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পার্সপোট বানানোসহ আনুসঙ্গিক খরচাধি বহন করার শর্তে তারা মিয়া ভালো বেতনে শাপলাকে প্রবাসে পাঠানোর পর বেতন পেয়ে খরচাধির টাকা পরিশোধ করলেই চলবে এমন সব কথায় শাপলাকে আশ্বস্ত করে দালাল তারা মিয়া । একপর্যায়ে শাপলা রাজি হয়। আর এই খবর স্বামী শুনে সম্মতি না দেয়ায় তারা মিয়া নিজে তালাকনামার স্বাক্ষী হয়ে শাপলার পক্ষে ডিভোর্স পাঠায়। কিন্তু কিছুদিন পর শাপলার জীবনজুড়ে এক কন্যা সন্তান আসায় প্রবাসে যাওয়ার আগ্রহ মরে যায়। যেকারণে ভিক্ষা করে সন্তানকে বাচিয়ে রাখতে শত লঘুলঞ্চনার মধ্যেও বাবার বাড়িতেই পড়ে আছে শাপলা।
এদিকে দালাল তারা মিয়া শাপলার প্রবাসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাদ দেয়ায় টাকার লোভে নিজের খোলে দেওয়া ব্যাংক একাউন্টের চেক দিয়ে শাপলার উপর মিথ্যা ২ লাখ টাকার চেক ডিসওনার মামলা দেয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় মুরব্বি, বিএনপির ইউনিয়ন সভাপতি ছালেহ আহমদ বাবরু, যুবদল নেতা সুহেল আহমেদ ও মরহুম অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন স্যার সহ আরও বেশ কজনের উপস্থিতিতে মোঃ তারা মিয়াকে ৩০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ পরিশোধ করা হয়। এবং নিজ খরচায় আপোসনামা জামা দিয়ে মামলা উত্তেলনের দায়িত্ব তারাকে দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মোঃ তারা মিয়া মামলা আপোষে প্রত্যাহারের আবেদন করলেও উকিলের সাথে যোগাযোগ না করায় উল্টো শাপলার নামে ওয়ারেন্ট ইস্যূ হয়। যেকারণে শাপলা চুনারুঘাট থানার হাতে আজ গ্রেফতার হয়।
চুনারুঘাট থানার ওসি মোঃ সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বিস্তারিত শুনার পর জানান, মোঃ তারা মিয়া কর্তৃক শাপলা আক্তার প্রতারিত কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণাধিসহ অভিযোগ করলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আমরা বাধ্য থাকিব।
দ.ক.২৬