
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে জনবল সংকট। উপজেলার ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৯টিতেই নেই নিয়মিত প্রধান শিক্ষক। এর মধ্যে ৩২টি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে এবং ৪৭টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এ ছাড়া ছয়টি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন। ফলে বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত তদারকি ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনায় দেখা দিয়েছে সংকট। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ছয়টি অফিস সহকারীর পদের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র একজন।
এমন পরিস্থিতিতে গত রোববার মাধবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছেন শেখ মো. রফিকুল ইসলাম। দায়িত্ব গ্রহণের পর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিদ্যমান জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা মোকাবিলা করাই তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নতুন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “উপজেলায় ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিপুলসংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী রয়েছে। একজন কর্মকর্তার পক্ষে উপজেলার এক প্রান্তে গেলে অন্য প্রান্তের সবকিছু একই সময়ে তদারকি করা সম্ভব নয়। কোন বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা যথাসময়ে উপস্থিত হচ্ছেন, কোথায় হচ্ছেন না এসব বিষয় শতভাগ তদারকি করা একার পক্ষে কঠিন।”
তিনি বলেন, “উপজেলায় ছয়টি ক্লাস্টারে ছয়জন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করলে বিদ্যালয়গুলো আরও কার্যকরভাবে তদারকি করা সম্ভব হতো। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতি প্রয়োজনীয় জনবল দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানাচ্ছি।
জনবল সংকট থাকলে প্রাথমিক শিক্ষায় শতভাগ সাফল্য অর্জন করা কঠিন।”
শেখ মো. রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। আপনারা সবাই আমাদের সহযোগী। সামনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করতে হবে।”
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, দেখার বিষয়, বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার মধ্যেই নতুন শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. রফিকুল ইসলাম কীভাবে মাধবপুরের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেন এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক সমস্যাগুলো সমাধানে কী ধরনের উদ্যোগ নেন।
ছবি: উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো: রফিকুল ইসলাম
দ.ক/এনএইচ