হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা নির্বাচন অফিসে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন, স্মার্ট কার্ড বিতরণ ও নতুন ভোটার নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেবাপ্রার্থীরা—এমন অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও অতিরিক্ত অর্থ দাবি, দীর্ঘসূত্রতা, তথ্যগত ভুল এবং অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এনআইডি সংশোধনের জন্য সরকারি ফি জমা দেওয়ার পরও বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একাধিক সেবাপ্রার্থী জানান, এক হাজার থেকে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে বাধ্য হয়েছেন। বিশেষ করে প্রবাসী বা বিদেশফেরত আবেদনকারীদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি অর্থ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
নতুন ভোটার নিবন্ধন ও স্মার্ট কার্ড সংক্রান্ত সেবায়ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তথ্য সংগ্রহ ও এন্ট্রির সময় অসাবধানতার কারণে নাম, পিতার নাম, মাতার নাম কিংবা জন্মতারিখে ভুল থেকে যাচ্ছে। পরে এসব ভুল সংশোধনের জন্য আবার দীর্ঘ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হচ্ছে এবং অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে।
এছাড়া কয়েকজন সেবাপ্রার্থী অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে অফিস থেকেই সমস্যার সমাধান না করে নির্দিষ্ট কিছু কম্পিউটার দোকানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে নির্বাচন অফিসের কিছু ব্যক্তি ও স্থানীয় কম্পিউটার ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগসাজশ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
সেবাপ্রার্থীদের আরও অভিযোগ, কোনো অনিয়ম বা হয়রানির বিষয় জানাতে গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয় না। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মেহেরের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মেহেরের বক্তব্য জানতে তার সরকারি ও ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সুশাসন ও জনসেবা নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নির্বাচন অফিসে সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম বা হয়রানির অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও তারা মত দেন।
দ.ক.সিআর.২৬