চুনারুঘাট প্রতিনিধি: সামাজিক অসংগতি রোধে সামাজিক সচেতনতা ও নজরদারি বৃদ্ধি যেখানে মুখ্য, সেখানে একশ্রেণীর কথিত সাংবাদিক হুটহাট মোবাইল ফোনের ক্যামেরা চালু করে যখন-তখন সাধারণ মানুষের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।
সম্প্রতি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও গ্রামে অবস্থিত গ্রীনল্যান্ড পার্কে ঘুরতে এসে এমনই এক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এক তরুণী। অভিযোগ অনুযায়ী, নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনের ক্যামেরা তার দিকে তাক করে একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকেন। প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পরও তাকে “মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন” বলে ধমক দেওয়া হয় এবং পুরো সময়জুড়ে নানা ধরনের অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
সাধারণ মানুষ পার্কে যান প্রাকৃতিক পরিবেশে কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটাতে, পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে কিছু আনন্দঘন মুহূর্ত উপভোগ করতে। অথচ রানীগাঁওয়ের গ্রীনল্যান্ড পার্ককে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে এমন অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ সামনে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব ঘটনা প্রতিরোধে পার্ক কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আশপাশের মানুষকেও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, অনুমতি ছাড়া কারও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তার পরিবারের ওপর মারাত্মক মানসিক ও সামাজিক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে পারিবারিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। অপমান, সামাজিক চাপ ও মানসিক বিষণ্নতা অনেক সময় মানুষকে চরম হতাশার দিকে ঠেলে দেয়, এমনকি আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটতে পারে।
আইন সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রচলিত সাইবার সিকিউরিটি আইন (সংশোধিত) অনুযায়ী, কারও অনুমতি ছাড়া ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে যদি তার অধিকার, সম্মান বা গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অনধিক ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
সচেতন নাগরিকদের অভিমত, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা যেমন গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তেমনি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সম্মান ও মানবিক মর্যাদা রক্ষাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা কখনোই সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা অপমান করার মাধ্যম হতে পারে না।
দ.ক.সিআর.২৬