রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
চুনারুঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনে দিনভর অভিযান চুনারুঘাটে ৫ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, থানায় মামলা শ্রমিক কল্যাণে বিশেষ অবদানের জন্য শ্রেষ্ঠ চা বাগানের সম্মাননা পেয়েছে মির্জাপুর চা বাগান চুনারুঘাটে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধানে চলছে পরিক্ষামূলক কাজ  বানিয়াচংয়ে জেলা তথ্য অফিসের জনসচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম অনুষ্ঠিত বানািয়াচংয়ে র‍্যাব এর অভিযানে ‘জীবন মিয়া হত্যা মামলা’র ৯ আসামি গ্রেফতার মাদক প্রতিরোধে চুনারুঘাটে জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত গণমাধ্যমের কাজ গণমাধ্যমই করুক | মতামত  বাহুবলে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান: মেশিন ধ্বংস ও অর্থদণ্ড পুরুষের বেশে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন যে বীর নারী

সরকারি ধান কেনা শুরু, প্রান্তিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

 

কালনেত্র ডেস্ক: সরকারি ভাবে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হলেও মাঠপর্যায়ে তথ্যের অভাব ও বাজার দরের বৈষম্যের কারণে প্রান্তিক কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। নির্ধারিত মূল্য সম্পর্কে কৃষকরা অবগত নন বলে জানা যায়।

জেলার হাজারো কৃষকের ক্ষেত্রেও একই চিত্র বিদ্যমান, যেখানে সরকারি ক্রয়মূল্য প্রতি মণ ১৪৪০ টাকা নির্ধারিত হলেও তা সাধারণ কৃষকের কাছে পৌঁছায়নি। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৈরী আবহাওয়া ও হাওরের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১০ দিন আগেই ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

গত রোববার থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কেনা শুরু হয়। তবে মাঠপর্যায়ে কৃষকরা এখনো সরকারি দামের বিষয়ে অজ্ঞ থাকায় তারা বাধ্য হয়ে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করছেন।

মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় দেখা যায়, মধ্যস্বত্বভোগী ও ফড়িয়ারা কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মণ ধান ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় ক্রয় করছে। ভেজা ও আর্দ্র ধানের অজুহাতে দাম কমিয়ে দেওয়ায় কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সময়ে হাওরাঞ্চলের অনেক এলাকায় পানি প্রবেশ ও বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় পাকা ধান কাটা ও শুকানোর কাজও ব্যাহত হচ্ছে। হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা সম্ভব না হওয়ায় শ্রমিকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, ফলে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে গেছে।

হাওর পাড়ের কৃষকরা জানান, খলায় এসে ফড়িয়ারা কম দামে ধান কিনে নিচ্ছে এবং রোদ না থাকায় ধান শুকানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তার মতে সরকারি নির্ধারিত মূল্য সম্পর্কে কৃষকদের অনেকেই জানেন না, ফলে তারা বাধ্য হয়ে নামমাত্র দামে ফসল বিক্রি করছেন। অনেক কৃষক আগাম ঋণ বা অগ্রিম অর্থের কারণে আগেই ধান বিক্রি করে দিয়েছেন বলেও জানা যায়।

কৃষকদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে সরকারি দামের তথ্য ও প্রচারণা যথাযথভাবে পৌঁছায়নি। পাশাপাশি সরকারি গুদামে ধান দিতে গেলে নানা জটিলতার সম্মুখীন হতে হয় বলেও তারা জানান। এতে সরাসরি সরকারি ক্রয় কার্যক্রম কৃষকের কাছে সহজলভ্য না হওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীরা সুযোগ নিচ্ছে বলে তাদের দাবি।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা জানান, প্রতি মণ ১৪৪০ টাকা দরে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে এবং কৃষকদের অবগত করতে মাইকিংসহ বিভিন্ন প্রচারণা চালানো হয়েছে। ৩ মে থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।

উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা জানান, ১৪ শতাংশ আর্দ্রতা বজায় রেখে ধান সরবরাহ করতে হবে এবং মান যাচাইয়ের জন্য স্যাম্পল পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এলএসডিতে ধান শুকিয়ে জমা দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব থেকে কৃষকদের রক্ষা করতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে এবং প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকেই সরকারি নির্ধারিত মূল্যে ধান সংগ্রহ নিশ্চিত করা হবে।

দ.ক.সিআর.২৬

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© 𝐰𝐰𝐰.𝐤𝐚𝐚𝐥𝐧𝐞𝐭𝐫𝐨.𝐜𝐨𝐦
Theme Customized By BreakingNews