
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
আজ সোমবার (৮ নভেম্বর) ইউনিয়নটিতে এই চাল বিতরণকালে অত্যন্ত নিম্নমানের ও খাওয়ার অযোগ্য চাল দেওয়ায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী উপকারভোগী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। চালের মান খারাপ হওয়ার পাশাপাশি ওজনে কম দেওয়া এবং বিতরণ কার্যক্রমে তদারকি কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার)-এর অনুপস্থিতির কারণে ডিলারদের সিন্ডিকেট ও কারসাজিকেই মূল কারণ হিসেবে দায়ী করছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সোমবার সকাল থেকে আহম্মদাবাদ ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ শুরু হয়। তবে চালের বস্তা খোলার পর দেখা যায়, চালগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের, লালচে এবং চালের ভেতর প্রচুর ধুলাবালি ও পোকাযুক্ত। এই চাল দেখে উপস্থিত সাধারণ কার্ডধারী ও উপকারভোগীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক উপকারভোগী অভিযোগ করে বলেন, “সরকার আমাদের কম দামে চাল দিচ্ছে খাওয়ার জন্য, কিন্তু ডিলাররা আমাদের যে চাল দিচ্ছে তা মুখে নেওয়ার মতো নয়। এই চাল পশুকে খাওয়ানোরও অযোগ্য।”
চালের নিম্নমান ছাড়াও বিতরণকালে ওজনেও ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগীদের নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বস্তাপ্রতি ২ থেকে ৩ কেজি করে চাল কম দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সাধারণ মানুষ।
নিয়ম অনুযায়ী চাল বিতরণের সময় সরকারি তদারকি কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার) উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও আজ আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের চাল বিতরণ কেন্দ্রে কোনো ট্যাগ অফিসারকে দেখা যায়নি। এই সুযোগে ডিলাররা নিজেদের ইচ্ছেমতো নিম্নমানের চাল এবং ওজনে কম দিয়ে সাধারণ মানুষের হক আত্মসাৎ করছেন বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।
এ বিষয়ে আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জনগণের সুবিধার্থে সরকার এই কর্মসূচি চালু রাখলেও কিছু অসাধু ডিলার ও কর্মকর্তার যোগসাজশে সরকারের এই মহৎ উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে। নিম্নমানের চাল ও ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং দ্রুত তদন্তের দাবি করছি।”
এই অনিয়ম ও কারসাজির বিষয়ে জানতে ডিলারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং চালের মান ওপর থেকে যেমন এসেছে তেমনই বিতরণ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন। তবে ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতির বিষয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলার সংশ্লিষ্ট খাদ্য কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা জানান, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে হবে না। আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের চাল বিতরণে নিম্নমান, ওজনে কম এবং ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতির বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল অবিলম্বে এই চাল বিতরণ স্থগিত করে ভালো মানের চাল সরবরাহ এবং দুর্নীতিবাজ ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের জন্য প্রশাসনের জোর দাবি জানিয়েছেন।
কালনেত্র