1. live@kaalnetro.com : কালনেত্র : কালনেত্র
  2. info@www.kaalnetro.com : দৈনিক কালনেত্র :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
প্রিয়জন নাকি প্রয়োজন? বার্ধক্যের নিঃসঙ্গতা, সম্পদের মোহ ও জীবনের নির্মম বাস্তবতা চুনারুঘাটে গাজীপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসির ফল বিপর্যয়, পাসের হার ৩২.৪১ শতাংশ হযরত মুজিবুর রহমান (জলফু মিয়া) পীর সাহেবের ৯ম বার্ষিক ওরস শরিফ আগামীকাল  মনমোহিনীর অদম্য সাফল্য: সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ হতে জিপিএ-৫ অর্জন চুনারুঘাটে এইচএসসি’র ফলাফলে সেরা সাফল্য জাহানারা চৌধুরী উইমেন্স কলেজের শায়েস্তাগঞ্জে ইকরা ক্যাডেট কেয়ারের নতুন ক্যাম্পাস উদ্বোধন  মাধবপুরে ওয়ারেন্টভুক্ত শ্রমিক লীগ নেতা গ্রেপ্তার শিশুদের মধ্যে যেসব ঘাটতি দেখছেন শিক্ষকেরা সমাজ সংস্কারযোদ্ধা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মতিউরের গল্প ইতিহাসে যুদ্ধ ছাড়া কি কোনো যুগ ছিল

প্রিয়জন নাকি প্রয়োজন? বার্ধক্যের নিঃসঙ্গতা, সম্পদের মোহ ও জীবনের নির্মম বাস্তবতা

মোঃ রোকনুজ্জামান শরীফ
  • প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

মানুষের জীবন বড়ই বিচিত্র! জীবনের অধিকাংশ সময় আমরা ছুটে চলি অর্থ, সম্পদ, ক্ষমতা, সম্মান আর প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটানোর আশায়। নিজের সুখ বিসর্জন দিই, প্রিয় শখগুলোকে কবর দিই, কখনো নিজের প্রয়োজন উপেক্ষা করে পরিবার-পরিজনের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার স্বপ্ন দেখি। নিজে না খেয়ে, না পরে, নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে গড়ে তুলি সম্পদের পাহাড়। মনে মনে ভাবি, জীবনের শেষ প্রান্তে এই মানুষগুলোই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় আশ্রয়, অসুস্থতার দিনে হাতটি ধরে রাখবে, অসহায় মুহূর্তে পাশে দাঁড়াবে।

কিন্তু জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে কখনো কখনো সেই স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তবতার এমন নির্মম সংঘাত ঘটে, যা মানুষকে নিজের জীবন, সম্পর্ক এবং অর্জনের অর্থ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।

সম্পদ থাকে, হারিয়ে যায় সম্পদের স্রষ্টা~
একজন মানুষ সারা জীবন পরিশ্রম করে বাড়ি নির্মাণ করেন, জমি কেনেন, ব্যবসা গড়ে তোলেন, ব্যাংকে অর্থ জমা করেন। তাঁর প্রতিটি অর্জনের পেছনে থাকে অসংখ্য নির্ঘুম রাত, অপূর্ণ ইচ্ছা, ত্যাগ, দুশ্চিন্তা আর সংগ্রামের ইতিহাস। অথচ একসময় বার্ধক্য এসে শরীরকে দুর্বল করে দেয়, অসুস্থতা কেড়ে নেয় কর্মক্ষমতা। তখন উন্নত চিকিৎসার জন্য নিজের গড়ে তোলা সম্পদের সামান্য অংশ বিক্রি করার প্রয়োজন হলেও কখনো কখনো পরিবারের সদস্যদের অনীহা দেখা যায়।
কেউ হয়তো বলে, ‘বয়স তো অনেক হয়েছে, এখন আর এত চিকিৎসা করে কী হবে?’
কথাটি হয়তো বাস্তবতার কোনো হিসাব থেকে বলা হয়, কিন্তু যে মানুষটি সারাজীবন পরিবারের সবার ভবিষ্যতের কথা ভেবে নিজের বর্তমানকে বিসর্জন দিয়েছেন, তাঁর কাছে এমন কথা কতটা বেদনাদায়ক হতে পারে, তা কি আমরা কখনো অনুভব করি?
অবশ্য সব পরিবার এমন নয়। অনেক সন্তান ও জীবনসঙ্গী নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে অসুস্থ প্রিয়জনের সেবা করেন। কিন্তু যেখানে সম্পদের মূল্য মানুষের জীবনের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে, সেখানে সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক।

যে সম্পদ মানুষের জীবনকে নিরাপদ করার জন্য, সেই সম্পদই যদি মানুষের প্রয়োজনের সময় তাঁর অসহায়ত্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে সম্পদ অর্জনের সার্থকতা কোথায়?
উত্তরসূরিরা ভোগ করে সম্পদ, ভুলে যায় ইতিহাস~

আজ যে বাড়িতে বসে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন কাটাই, যে জমির ফসল বিক্রি করে সংসার চালাই, যে দালানের ছায়ায় দাঁড়িয়ে নিজেদের সাফল্যে গর্ববোধ করি, সেই সম্পদের পেছনে হয়তো লুকিয়ে আছে আমাদের পূর্বপুরুষের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস।

কেউ হয়তো রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, অভাবের সঙ্গে লড়াই করে এক টুকরো জমি কিনেছিলেন। কেউ সামান্য আয় থেকে অর্থ জমিয়ে একটি ঘর নির্মাণ করেছিলেন। কেউ নিজের সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য সারাজীবন কঠোর পরিশ্রম করে গেছেন।

আজ তাঁর উত্তরসূরিরা সেই সম্পদ ভোগ করছেন। কিন্তু কয়েক প্রজন্ম পেরিয়ে গেলে অনেকেই হয়তো জানেন না, সম্পদের প্রকৃত নির্মাতা কে ছিলেন, তাঁর জীবন কেমন ছিল, কতটা ত্যাগের বিনিময়ে তিনি এই ভিত্তি তৈরি করেছিলেন।

এমনকি তাঁর নামটিও একসময় বিস্মৃতির আড়ালে হারিয়ে যায়। অথচ তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদ ঠিকই বেঁচে থাকে পরবর্তী প্রজন্মের জীবনে।

মানুষের জীবনের এ এক অদ্ভুত পরিহাস—সম্পদ উত্তরাধিকার সূত্রে বেঁচে থাকে, কিন্তু সম্পদের স্রষ্টার স্মৃতি সব সময় বেঁচে থাকে না। তাঁর কষ্টের ইতিহাস হারিয়ে যায়, অথচ তাঁর অর্জনের সুবিধা ভোগ করতে থাকে উত্তরসূরিরা।

আমরা কি কখনো ভেবে দেখি, আমাদের পূর্বপুরুষদের অবদান স্মরণ করা, তাঁদের জন্য দোয়া করা এবং তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্বের অংশ?

মৃত্যুর পর মানুষ, স্মৃতি ও বাস্তবতা~
মৃত্যু মানুষের জীবনের এক অনিবার্য পরিণতি। জীবনের শেষ মুহূর্তে এসে ধনী-গরিব, ক্ষমতাবান-ক্ষমতাহীন—সবাইকে একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হয়। মৃত্যুর পর দাফন বা সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়, স্বজনেরা শোক প্রকাশ করেন, প্রিয়জনেরা স্মৃতিচারণ করেন। কিন্তু সময়ের প্রবাহে শোকের তীব্রতা কমে আসে, জীবন আবার স্বাভাবিক গতিতে চলতে শুরু করে। এটাই জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম।
তবে প্রশ্ন জাগে, যে মানুষটি জীবদ্দশায় পরিবারের জন্য এত কিছু করলেন, তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান কি শুধু মৃত্যুর আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

কখনো দেখা যায়, মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া বাড়ি, দালান কিংবা সম্পত্তির সৌন্দর্য রক্ষার জন্য তাঁর স্মৃতিচিহ্নকে আড়াল করা হয়। কোথাও তাঁর কবরের যথাযথ পরিচর্যা হয় না, কোথাও তাঁর অবদান স্মরণ করার মতো সামান্য উদ্যোগও থাকে না। আবার কোথাও মৃত্যুদিবসে নানা আয়োজন করা হলেও জীবদ্দশায় তাঁর প্রতি প্রয়োজনীয় যত্ন ও সম্মান দেখানো হয়নি।

অবশ্য সব ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে না। অনেক পরিবার গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে পূর্বপুরুষদের স্মৃতি সংরক্ষণ করে। তবু যেখানে লোকদেখানো আনুষ্ঠানিকতা আন্তরিকতার স্থান দখল করে, সেখানে আমাদের আত্মসমালোচনা করা প্রয়োজন। কারণ, মৃত মানুষের জন্য আনুষ্ঠানিক আয়োজনের চেয়েও জীবিত মানুষের প্রতি যথাসময়ে ভালোবাসা, যত্ন ও সম্মান প্রদর্শন অনেক বেশি অর্থবহ।

বার্ধক্য: জীবনের সবচেয়ে সংবেদনশীল অধ্যায়~
শৈশবে মানুষ অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকে। যৌবনে নিজের শক্তি, শ্রম ও সামর্থ্য দিয়ে পরিবার গড়ে তোলে। আর বার্ধক্যে এসে অনেকের জীবন আবার নির্ভরশীলতার বৃত্তে ফিরে আসে। শরীর দুর্বল হয়, কর্মক্ষমতা কমে যায়, চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়, কানে কম শোনা যায়। কখনো স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে, কখনো দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। যে মানুষটি একসময় পরিবারের সবার বিপদে ঢাল হয়ে দাঁড়াতেন, একসময় তিনিই হয়ে পড়েন অন্যের সাহায্যপ্রার্থী।
এখানেই সম্পর্কের মানবিকতার পরীক্ষা।

বৃদ্ধ মানুষের বারবার একই কথা বলা, ধীরে হাঁটা, অসুস্থতার কারণে কাশি দেওয়া কিংবা রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানো পরিবারের কারও কারও কাছে বিরক্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। ব্যস্ত জীবনে তাঁদের সেবা করা অনেক সময় কঠিন মনে হয়। কখনো তাঁদের উপস্থিতিকে পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাপনের প্রতিবন্ধকতা হিসেবেও দেখা হয়।

আরও বেদনাদায়ক হলো, কিছু পরিবারে অসুস্থ বৃদ্ধের কাছ থেকে শিশুদের দূরে রাখা হয়, যেন তাঁর সান্নিধ্য মানেই বিপদ। অথচ সব রোগ ছোঁয়াচে নয়; যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনেক ক্ষেত্রেই নিরাপদে সান্নিধ্য বজায় রাখা সম্ভব। একজন বৃদ্ধ মানুষের জন্য নাতি-নাতনির একটু হাসি, সামান্য গল্প কিংবা স্নেহভরা স্পর্শ হতে পারে গভীর প্রশান্তির উৎস।

বৃদ্ধ মানুষের প্রয়োজন শুধু ওষুধ, খাবার কিংবা একটি নিরাপদ ঘর নয়। তাঁর প্রয়োজন মনোযোগ, মর্যাদা, সহানুভূতি এবং এই অনুভূতি—তিনি এখনো পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

মনে রাখতে হবে, বার্ধক্য কোনো অপরাধ নয়, অসুস্থতা কোনো লজ্জা নয়, আর অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া মানুষের মর্যাদা কমিয়ে দেয় না।
আজ যে তরুণ, আগামীকাল সে-ও বৃদ্ধ হবে। আজ যে সন্তান বৃদ্ধ মা-বাবার অসহায়ত্ব বুঝতে পারছে না, একদিন তাকেও হয়তো একই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।

সম্পদ নিয়ে বিরোধ, দায় চাপানোর প্রবণতা
মানুষের জীবনে সম্পদ যেমন নিরাপত্তা এনে দিতে পারে, তেমনি সম্পদের প্রতি অতিরিক্ত মোহ পরিবারে বিভেদও সৃষ্টি করতে পারে। উত্তরাধিকার নিয়ে বিরোধ, জমিজমা ভাগাভাগি, মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব কিংবা পুরোনো সম্পত্তির জটিলতা কখনো সম্পর্কের মধ্যে তিক্ততা বাড়িয়ে তোলে।

কখনো উত্তরসূরিরা এমনও বলেন, ‘এত ঝামেলার সম্পত্তি আমাদের জন্য রেখে যাওয়ার কী দরকার ছিল?’ কিন্তু তাঁরা হয়তো ভুলে যান, এই সম্পত্তি গড়ে তোলার পেছনে একজন মানুষের কত বছরের পরিশ্রম, ত্যাগ ও স্বপ্ন জড়িয়ে ছিল।

অবশ্য উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির সঙ্গে আইনি জটিলতা বা আর্থিক দায়ও থাকতে পারে। সেসব সমস্যার সমাধান করা জরুরি। কিন্তু সমস্যার কারণে সম্পদের স্রষ্টাকে দোষারোপ করা কিংবা তাঁর অবদান অস্বীকার করা কোনোভাবেই ন্যায়সংগত নয়।

সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য দূরদর্শিতা প্রয়োজন, আর সম্পর্ক রক্ষার জন্য প্রয়োজন কৃতজ্ঞতা ও সহমর্মিতা।
প্রিয়জন নাকি প্রয়োজন—সম্পর্কের কঠিন প্রশ্ন‘ প্রিয়জন’ এবং ‘প্রয়োজন’—শব্দ দুটি উচ্চারণে কাছাকাছি না হলেও জীবনের বাস্তবতায় কখনো কখনো একে অপরের সঙ্গে অদ্ভুতভাবে জড়িয়ে যায়।

যত দিন একজন মানুষ উপার্জন করতে পারেন, পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারেন, অন্যের প্রয়োজনে অর্থ ব্যয় করতে পারেন, তত দিন তাঁর গুরুত্ব অনেকের কাছে স্পষ্ট থাকে। কিন্তু যখন তাঁর নিজেরই সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তখন কোনো কোনো সম্পর্কের প্রকৃত চেহারা প্রকাশ পায়। তবে সব সম্পর্ককে স্বার্থের মাপকাঠিতে বিচার করাও ঠিক নয়। পৃথিবীতে এমন অসংখ্য মানুষ আছেন, যাঁরা কোনো প্রতিদানের প্রত্যাশা ছাড়াই মা-বাবার সেবা করেন, অসুস্থ জীবনসঙ্গীর পাশে থাকেন, আত্মীয়স্বজনের বিপদে এগিয়ে আসেন এবং অপরিচিত মানুষের দুঃখেও সাড়া দেন। তাঁরাই প্রমাণ করেন, মানুষ কেবল স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ নয়; ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ, বিবেক ও মানবিকতাও মানুষের সম্পর্কের শক্তিশালী ভিত্তি।
তাই প্রশ্নটি শুধু এই নয়—কে আমার প্রিয়জন, আর কে আমার প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ায়? প্রশ্নটি আরও গভীর: আমি নিজে অন্যের প্রয়োজনে কতটা প্রিয়জন হয়ে উঠতে পেরেছি?
আমরা অন্যের কাছ থেকে যে ভালোবাসা আশা করি, সেই ভালোবাসা কি নিজের আচরণে প্রকাশ করি? মা-বাবা বৃদ্ধ হলে তাঁদের সময় দিই কি? জীবনসঙ্গী অসুস্থ হলে তাঁর কষ্ট অনুভব করি কি? পরিবারের কোনো সদস্য উপার্জনক্ষমতা হারালে তাঁর প্রতি আমাদের সম্মান অটুট থাকে কি?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই আমাদের মানবিকতার প্রকৃত পরিচয় বহন করে।

সম্পদ নয়, মানুষের পাশে মানুষ~
জীবন ক্ষণস্থায়ী। অর্থ, সম্পদ, ক্ষমতা, পদমর্যাদা, সৌন্দর্য, অহংকার—সবকিছুই সময়ের কাছে একদিন ম্লান হয়ে যায়। যে বাড়ি নির্মাণ করতে মানুষ সারাজীবন ব্যয় করে, একসময় সেই বাড়িতেই নতুন প্রজন্মের নতুন গল্প শুরু হয়। যে সম্পদকে মানুষ নিজের অস্তিত্বের অংশ মনে করে, মৃত্যুর পর তা অন্যের হাতে চলে যায়। যে সম্পর্ককে চিরস্থায়ী মনে হয়, সময়ের পরিবর্তনে তার রূপও বদলে যেতে পারে। কিন্তু মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, ত্যাগের স্বীকৃতি এবং বিপদের দিনে পাশে দাঁড়ানোর স্মৃতি অনেক সময় প্রজন্মের পর প্রজন্ম বেঁচে থাকে।
তাই সম্পদ অর্জন করুন, ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করুন, পরিবারকে নিরাপদ রাখুন—কিন্তু নিজের জীবনকে শুধু সম্পদ আহরণের যন্ত্রে পরিণত করবেন না। নিজের স্বাস্থ্য, মানসিক শান্তি ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনের প্রতিও যত্নশীল হোন। সন্তানদের জন্য সম্পদ রেখে যাওয়ার পাশাপাশি তাঁদের মানবিক মূল্যবোধ শেখান। বৃদ্ধ মা-বাবাকে বোঝা নয়, জীবনের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে দেখুন। আর পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করুন, যেখানে তাঁরা অসুস্থ হলেও অবহেলিত বোধ করবেন না, দুর্বল হলেও অসম্মানিত হবেন না।
মনে রাখতে হবে, মানুষকে শেষ পর্যন্ত শুধু তার সম্পদের পরিমাণ দিয়ে বিচার করা যায় না। তার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পায় সে অন্য মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করেছে, কতটা ভালোবাসা দিয়েছে এবং অসহায়ের পাশে কতটা দাঁড়িয়েছে, তার মধ্য দিয়ে।
জীবনের শেষ প্রান্তে একজন মানুষের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়তো বিশাল অট্টালিকা কিংবা ব্যাংকভর্তি অর্থ নয়; বরং এমন কয়েকজন মানুষ, যাঁরা তাঁর অসহায় মুহূর্তেও হাতটি ছেড়ে দেন না।
কারণ, সম্পদ মানুষকে সাময়িক নিরাপত্তা দিতে পারে, কিন্তু ভালোবাসা তাকে বেঁচে থাকার সাহস জোগায়। প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো মানুষই সম্পর্কের প্রকৃত অর্থ বুঝিয়ে দেয়।
হায়রে জীবন! আমরা সারাজীবন আপনজনদের জন্য সম্পদ গড়ি, অথচ কখনো কখনো ভুলে যাই—সম্পদের চেয়েও বড় সম্পদ হলো আপনজনের আন্তরিকতা। মৃত্যুর পর আমাদের অর্জিত সম্পদ অন্যের হয়ে যাবে, কিন্তু জীবদ্দশায় কাউকে দেওয়া ভালোবাসা, সম্মান ও সহমর্মিতাই হয়ে উঠতে পারে আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান উত্তরাধিকার। তাই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কত সম্পদ রেখে গেলাম, তা নয়; বরং কত মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসার জায়গা করে নিতে পারলাম।

লেখক~ সাংবাদিক ও কলামিস্ট

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
© 𝐰𝐰𝐰.𝐤𝐚𝐚𝐥𝐧𝐞𝐭𝐫𝐨.𝐜𝐨𝐦
Theme Customized BY LatestNews