
একজন অসুস্থ মানুষ যখন রাতের অন্ধকারে যন্ত্রণায় কাতর হন, তখন তাঁর কাছে চিকিৎসাব্যবস্থার পরিসংখ্যানের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে একজন চিকিৎসাসেবাদানকারীর উপস্থিতি। দূরবর্তী কোনো গ্রামের দরিদ্র কৃষক, নদীবেষ্টিত জনপদের জেলে কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় মা যখন অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন, তখন তাঁদের একটাই প্রশ্ন—কোথায় গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা পাব?
দেশে চিকিৎসক কতজন, কতটি হাসপাতাল নির্মিত হয়েছে, কত কোটি টাকা স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ হয়েছে—এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, প্রয়োজনের সময় একজন সাধারণ মানুষ তাঁর দোরগোড়ায় কতটুকু চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন?
চিকিৎসাসেবা যদি মানুষের নাগালের বাইরে থেকে যায়, তাহলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনবলের পরিসংখ্যান সাধারণ মানুষের কাছে কতটা অর্থবহ হয়ে উঠবে?
পরিসংখ্যানের বাইরে বাস্তবতার বাংলাদেশ: দেশে চিকিৎসকের সংখ্যা, তাঁদের কর্মস্থল এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাস্তবতা অনেক সময় এসব আলোচনার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।
অনেক এলাকায় অসুস্থ রোগীকে প্রাথমিক সেবা দেওয়ার মতো প্রশিক্ষিত জনবল পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। কোথাও জরুরি সময়ে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই উপযুক্ত সহায়তার অভাবে স্বজনদের উদ্বেগ বাড়ে। আবার কোথাও স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও পর্যাপ্ত জনবল, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও কার্যকর সেবাব্যবস্থার অভাব মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়।
প্রশ্ন হলো, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করার পরও যদি সেখানে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য কতটা সফল হচ্ছে? বিশেষ করে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের কর্মস্থল নির্বাচনের বাস্তবতা, বদলি, পদায়ন এবং জনবল বণ্টনের নীতিমালা—সবকিছুই এখানে বিবেচনায় নিতে হবে। তবে এ সমস্যার দায় কোনো একটি পেশার মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুক্তিসংগত নয়। প্রয়োজন এমন একটি ব্যবস্থাপনা, যেখানে চিকিৎসকের কর্মপরিবেশ, পেশাগত নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসার অধিকারও সমান গুরুত্ব পাবে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে, সেবা কোথায়?
একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র কেবল একটি সরকারি ভবনের নাম নয়। এটি হাজারো মানুষের ভরসার জায়গা। সেখানে একজন অসুস্থ মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা পাবেন, গর্ভবতী মা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সেবা পাবেন, শিশুর অসুস্থতায় পরিবারটি সঠিক দিকনির্দেশনা পাবে—এটাই প্রত্যাশা।
কিন্তু বাস্তবে কোথাও জনবলসংকট, কোথাও সেবার সীমাবদ্ধতা, আবার কোথাও চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এই প্রত্যাশাকে বাধাগ্রস্ত করে।
যে মানুষটি সামান্য চিকিৎসার জন্য কয়েক ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা কিংবা জেলা শহরে যেতে বাধ্য হন, তাঁর কাছে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন তখনই দৃশ্যমান হবে, যখন নিজ এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কার্যকরভাবে সেবা দিতে পারবে।
এ জন্য প্রয়োজন নিয়মিত তদারকি, শূন্য পদ পূরণ, জনবলের যথাযথ বণ্টন, কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং রোগীদের অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা।
স্বাস্থ্যসেবা কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি মানুষের মৌলিক চাহিদার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি জনসেবা।
ম্যাটস শিক্ষা ও ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের প্রশ্ন
বাংলাদেশে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল—ম্যাটস—থেকে ডিপ্লোমা পর্যায়ে চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট শিক্ষা গ্রহণ করেন বহু শিক্ষার্থী। তাঁদের অনেকে দীর্ঘ সময় ও অর্থ ব্যয় করে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। তাঁদের প্রত্যাশা থাকে, অর্জিত শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করবেন এবং দেশের মানুষের সেবায় ভূমিকা রাখবেন।
কিন্তু প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর যদি কর্মসংস্থান, পেশাগত পরিচয়, নিবন্ধন কিংবা কাজের পরিধি নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তাহলে তা শুধু ব্যক্তিগত হতাশার কারণ নয়; এটি জনবল পরিকল্পনা ও শিক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।
রাষ্ট্র যদি কোনো শিক্ষাব্যবস্থাকে অনুমোদন দেয়, তাহলে সেই শিক্ষার উদ্দেশ্য, উত্তীর্ণদের কর্মক্ষেত্র, নিয়োগের সুযোগ এবং পেশাগত সীমারেখা সম্পর্কেও সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার—ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং এমবিবিএস চিকিৎসকের শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দায়িত্ব এক নয়। তাঁদের এক করে দেখা যেমন যথার্থ নয়, তেমনি প্রশিক্ষিত ডিপ্লোমাধারীদের সম্ভাব্য অবদান উপেক্ষা করাও জনস্বাস্থ্যের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
প্রয়োজন যোগ্যতা অনুযায়ী দায়িত্ব নির্ধারণ, উপযুক্ত কর্মসংস্থান এবং প্রয়োজনীয় তদারকির মাধ্যমে তাঁদের দক্ষতাকে জনসেবায় কাজে লাগানো।
আইন, স্বীকৃতি ও পেশাগত মর্যাদার প্রশ্ন
ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের পেশাগত অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। এ আলোচনায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের ১৯৮০ সালের আইন, পরবর্তী আইনগত পরিবর্তন, ১৯৮৫ সালের সরকারি প্রজ্ঞাপন এবং ২০০৭ সালের বিজ্ঞপ্তির প্রসঙ্গ উঠে আসে।
উত্থাপিত দাবিতে বলা হয়, ১৯৮০ সালের আইনের ১৪(২), ২০(৩), ২০(৫) ও ২৮(২) ধারা এবং ১৯৮৫ সালের সরকারি প্রজ্ঞাপন ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের নিবন্ধন ও নির্দিষ্ট পরিসরে পেশাগত কার্যক্রমের স্বীকৃতির ভিত্তি তৈরি করেছিল। পাশাপাশি ২০১০ সালের আইনের ১৫(৪) ও ২৯ ধারার ব্যাখ্যা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এসব বিধানের প্রকৃত আইনি তাৎপর্য নির্ধারণ করতে হলে মূল আইন, সংশোধনী, প্রজ্ঞাপনের পূর্ণাঙ্গ পাঠ এবং প্রযোজ্য আদালতের রায় একসঙ্গে পর্যালোচনা করা জরুরি।
২০২৫ সালের হাইকোর্টের রায় এবং ডিপ্লোমাধারীদের পেশাগত পরিচয় ও উপযুক্ত প্রিফিক্স নির্ধারণের বিষয়ে আদালতের নির্দেশনার যে দাবি আলোচনায় এসেছে, তার সঠিক পরিধি, প্রযোজ্যতা এবং বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বিচারিক নথি থেকে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কারণ, কোনো রায়ের একটি অংশ বা কোনো আইনের বিচ্ছিন্ন ধারা দিয়ে পুরো পেশাগত অধিকার নির্ধারণ করা যায় না। একইভাবে নিবন্ধন বা নির্দিষ্ট পেশাগত স্বীকৃতি থাকলেই সব ধরনের চিকিৎসা, স্বাধীনভাবে ওষুধ ব্যবস্থাপত্র প্রদান কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার অনুমতি পাওয়া যায়—এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো উচিত নয়।
তবে আইনগত ব্যাখ্যা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে তার সমাধান ঝুলিয়ে রাখাও কাম্য নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত আইন ও আদালতের নির্দেশনা পর্যালোচনা করে পেশাগত পরিচয়, নিবন্ধন, কাজের সীমা এবং দায়বদ্ধতা সম্পর্কে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো।
প্রতিশ্রুতি, প্রত্যাশা ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব
যাঁরা সরকারি অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে নির্দিষ্ট পেশায় প্রবেশের প্রত্যাশা নিয়ে জীবন গড়েছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাষ্ট্রের সুস্পষ্ট অবস্থান থাকা প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে প্রমিসরি এস্টোপেল (Promissory Estoppel) এবং বৈধ প্রত্যাশা (Legitimate Expectation) নীতির কথাও আলোচনায় আসে। তবে এসব নীতির প্রয়োগ নির্ভর করে নির্দিষ্ট তথ্য, প্রযোজ্য আইন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতির প্রকৃতি এবং বিচারিক ব্যাখ্যার ওপর।
তাই শুধু অতীতের কোনো বিজ্ঞপ্তি বা প্রচারিত বক্তব্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত—রাষ্ট্রের নীতিমালা ও বাস্তবায়নের মধ্যে কোনো অসংগতি থাকলে তা কীভাবে আইনসম্মত ও ন্যায়সংগতভাবে দূর করা যায়?
হাজারো প্রশিক্ষিত মানুষের কর্মজীবন অনিশ্চয়তায় আটকে থাকলে তার প্রভাব তাঁদের পরিবারেও পড়ে। অন্যদিকে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ উপযুক্ত প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হলে তার প্রভাব পড়ে পুরো সমাজের ওপর।
এই দুই বাস্তবতাকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর পরিবর্তে সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়াই হবে দায়িত্বশীল রাষ্ট্র পরিচালনার পরিচয়।
বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রের বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন: সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় সেবার ঘাটতি থাকলে মানুষ বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এতে অনেক ক্ষেত্রে সেবার সুযোগ বাড়লেও চিকিৎসাব্যয়ের চাপ সাধারণ মানুষের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান, অযোগ্য ব্যক্তির চিকিৎসা কার্যক্রম কিংবা প্রয়োজনীয় তদারকির অভাব থাকলে রোগীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। তাই সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন, চিকিৎসাসেবাদানকারীর যোগ্যতা যাচাই, রোগীর অধিকার সংরক্ষণ এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
শুধু নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করলেই হবে না; কোথায় কী ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে এবং সেই সেবা নিরাপদ কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
সমাধান কোথায়?
সমাধানের জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি।
প্রথমত, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে শূন্য পদ পূরণ এবং নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, ম্যাটস থেকে উত্তীর্ণ ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও প্রযোজ্য আইন বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের কর্মক্ষেত্র ও দায়িত্বের সীমা স্পষ্ট করতে হবে।
তৃতীয়ত, আইনগত স্বীকৃতি, নিবন্ধন, পেশাগত পরিচয় এবং আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
চতুর্থত, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার জন্য প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন, রেফারেল ব্যবস্থা এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানের কার্যকর কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
পঞ্চমত, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম তদারকির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিএমডিসি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সমন্বিত ভূমিকা অপরিহার্য।
শেষ কথা: মানুষের জীবনই হোক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু
স্বাস্থ্যসেবার প্রশ্নে কোনো পেশার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—এ দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয় নয়। বরং সঠিক প্রশিক্ষণ, আইনসম্মত দায়িত্ব বণ্টন, উপযুক্ত তদারকি এবং জবাবদিহির মাধ্যমে দুটিই নিশ্চিত করা সম্ভব।
একজন এমবিবিএস চিকিৎসক তাঁর বিশেষায়িত জ্ঞান দিয়ে রোগীর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একইভাবে যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীও তাঁদের নির্ধারিত দায়িত্বের মধ্যে থেকে মানুষের সেবায় কার্যকর অবদান রাখতে পারেন। প্রয়োজন কে কোন কাজ করবেন, কোন সীমার মধ্যে করবেন এবং প্রয়োজনে রোগীকে কোথায় পাঠাবেন—তার সুস্পষ্ট কাঠামো।
আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রত্যন্ত গ্রামের অসুস্থ মানুষটি কোনো পেশাগত বিতর্কের পক্ষ নন। তিনি চান সময়মতো সঠিক চিকিৎসা, নিরাপদ সেবা এবং মানবিক আচরণ। তাঁর কাছে চিকিৎসক, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট কিংবা অন্য কোনো স্বাস্থ্যকর্মীর পরিচয়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো—কে তাঁর কষ্ট লাঘব করতে পারছেন এবং কে তাঁকে নিরাপদ চিকিৎসার পথে এগিয়ে দিচ্ছেন।
তাই প্রশ্নটি শুধু ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের নিয়োগ বা মর্যাদার নয়; এটি দেশের সামগ্রিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার কার্যকারিতা, ন্যায়সংগত কর্মসংস্থান এবং মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তির অধিকারের প্রশ্ন।
রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যাশা—আইনের অস্পষ্টতা দূর হোক, যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন হোক, প্রশিক্ষিত জনবলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হোক এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো সত্যিকার অর্থেই মানুষের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠুক।
কারণ, একজন অসুস্থ মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা কোনো পরিসংখ্যান নয়, কোনো প্রতিশ্রুতিও নয়—সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা হলো, বিপদের মুহূর্তে তিনি যেন চিকিৎসাসেবা পান।
স্বাস্থ্যসেবা হোক মানুষের অধিকার, পেশাগত স্বীকৃতি হোক আইনসম্মত, আর রাষ্ট্রের প্রতিটি সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে থাকুক মানুষের জীবন।
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট
দ.ক.২৬