
রেলওয়ের পাত বা শিক এবং এর যন্ত্রাংশ চুরি করা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ, যা সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহী ও জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই অপরাধের কারণে একদিকে যেমন শত শত মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হয়, অন্যদিকে রাষ্ট্রের বিশাল অংকের অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধন হয়।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী রেলের সম্পদ চুরির বিরুদ্ধে ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ১২৬ ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রেনের ক্ষতি করার বা লাইনচ্যুত করার উদ্দেশ্যে রেললাইন উপড়ে ফেলে, শিক সরায় বা ক্ষতিসাধন করে, তবে তা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। এই অপরাধের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
উল্লেখ্য, অঘোষিতভাবে হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ-বাল্লা-হবিগঞ্জ রেলপথ বন্ধ হওয়ার পর থেকেই একটি প্রভাবশালী মহল রেলের বিশাল সম্পদের দিকে নজর দেয়। পরে আবার শায়েস্তাগঞ্জ থেকে হবিগঞ্জ পর্যন্ত রেল লাইনটি উঠিয়ে বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হয়।
শুরু হয় শায়েস্তাগঞ্জ-বাল্লা রেল লাইনের প্রায় ৩৬ কিলোমিটার সড়কের রেলের শিক, পাথর, সিগন্যাল, তার, নাটবল্টু ও ওজন মাপার যন্ত্রপাতি এবং ৭টি স্টেশনের অবকাঠামোসহ কোটি কোটি টাকার মালামাল লুটপাট। সেই থেকে এ পর্যন্ত ৯৮ ভাগ লুটপাট হয়েছে। লুটপাটকারীরা অনেকেই এখন বিলাসবহুল বাড়ি ও গাড়ির মালিক। হয়েছেন মামলার আসামিও।
রেললাইনের শিক, ফিশপ্লেট ও ক্লিপ
চুরি ও লুটপাটের ফলে রাষ্ট্র সরাসরি বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে- যা পুনঃস্থাপন করতে সরকারকে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়।
একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিভিন্ন দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে এতে রাষ্ট্রের ১ হাজার ৭২৬ কোটি ৫২ লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
অর্থনৈতিক ক্ষতির চেয়েও বড় ক্ষতি হলো মানুষের জীবনের। রেলের শিক বা ক্লিপ চুরির কারণে একটি চলন্ত ট্রেন মুহূর্তের মধ্যে লাইনচ্যুত হয়ে শত শত যাত্রীর প্রাণহানি ঘটতে পারে। এটি কেবল রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির ক্ষতি নয়, বরং সাধারণ জনগণের জীবনের নিরাপত্তা সরাসরি হুমকিতে ফেলার মতো অপরাধ।
হবিগঞ্জ জেলার ইতিহাস ঐতিহ্যের প্রবাহন বাল্লা ট্রেইন ও বাল্লা রেললাইনের ক্ষতিসাধনকারী প্রত্যেক অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা জরুরী বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।