
হবিগঞ্জ–সিলেট রুটে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বিরোধে অচলাবস্থা, ৭০–৮০ বাস আটকের অভিযোগ
মৌলভীবাজারে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বিরোধের জেরে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের হবিগঞ্জ–সিলেট বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাস চলাচলে ফের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে মৌলভীবাজার বাস টার্মিনাল ও ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এসব বাস আটকে রাখায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের অভিযোগ, মৌলভীবাজার জেলার এসএমএস মালিক সমিতির মালিক-শ্রমিকরা কোনো বৈধ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই পেশিশক্তি প্রয়োগ করে বিরতিহীন বাসগুলো আটকে রাখছেন। এ ঘটনায় উভয় দিকে অন্তত ৭০–৮০টি বাস আটকে থাকার দাবি করেছে সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে এসএমএস পরিবহনের একটি বাস থেকে শ্রীমঙ্গল এলাকার এক যাত্রীর নামা নিয়ে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এর জেরে মৌলভীবাজারের এসএমএস পরিবহনের মালিক-শ্রমিকরা হবিগঞ্জ–সিলেট বিরতিহীন বাসগুলোকে শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার সড়কে চলাচলে বাধা দেন।
এর ফলে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) হবিগঞ্জ থেকে শ্রীমঙ্গল–মৌলভীবাজার রুটে কোনো বিরতিহীন বাস চলাচল করেনি বলে দাবি করা হয়।
পরে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী রোববার সকাল থেকে শ্রীমঙ্গল–মৌলভীবাজার–সিলেট সড়কে পুনরায় বিরতিহীন বাস চালু করেন। তবে বাস চলাচল শুরু হওয়ার পরই মৌলভীবাজারে ফের বাস আটকের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাস মালিকদের অভিযোগ, মৌলভীবাজার ঢাকা বাসস্ট্যান্ড ও বাস টার্মিনালে বিরতিহীন বাসগুলো আটকে রেখে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেশ কয়েকজন বাসশ্রমিককেও আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে বাস আটকে রাখায় শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ রুটের যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। দীর্ঘ সময় বাসে আটকে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বিরোধের দায় সাধারণ যাত্রীদের ওপর চাপানো হচ্ছে।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ এবং হবিগঞ্জ জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে আটক বাস ও শ্রমিকদের মুক্ত করে হবিগঞ্জ–সিলেট বিরতিহীন বাস চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
পরিবহন খাতের এ বিরোধ দ্রুত নিরসনে মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী যাত্রী ও সচেতন মহল। পাশাপাশি সিলেট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন এবং যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।।
দ.ক/এনআইআর