বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
গাজীপুর ইউনিয়নের দুধপাতিল গ্রামে মাদক বিরোধী সভা অনুষ্ঠিত বাজারে রাসায়নিক মিশ্রিত আমে সয়লাব : বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, তদারকি না থাকায় উদ্বেগ হবিগঞ্জে ডিবির অভিযানে চোরাই মালামালসহ দুইজন গ্রেপ্তার দেশের পাঁচশটি উপজেলা হাসপাতালে দশজন করে আনসার মোতায়েন একটি নিখোঁজ সংবাদ: সন্ধ্যান চায় পরিবার একটি নিখোঁজ সংবাদ  মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদন: শায়েস্তাগঞ্জে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা চুনারুঘাটে জনতার হাতে ধৃত মাদক ব্যবসার সহযোগি পুলিশ হেফাজতে সৃজনশীলতা বিকাশে থিয়েটার মুরারিচাঁদের তিন দিনব্যাপী কর্মশালার শুভ সূচনা বাহুবলে প্রশাসনের অভিযানে ইয়াবাসেবী যুবকের ১ বছরের কারাদণ্ড

বাজারে রাসায়নিক মিশ্রিত আমে সয়লাব : বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, তদারকি না থাকায় উদ্বেগ

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬

বানিয়াচং প্রতিনিধি: বানিয়াচংসহ আশপাশের বিভিন্ন বাজারে এখন রাসায়নিক মিশ্রিত আমে সয়লাব বলে অভিযোগ উঠেছে। মৌসুমের শুরুতেই আকর্ষণীয় রঙ ও দ্রুত পাকানো এসব আমে ভরছে বাজার, তবে এর পেছনে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রাসায়নিক নিয়ে বাড়ছে জনমনে উদ্বেগ।

ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজার থেকে আম কিনে খাওয়ার পরপরই অনেকের পেটে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ডায়রিয়া, বমিভাবসহ নানা উপসর্গে ভুগছেন অনেকে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে এসব সমস্যার ঝুঁকি বেশি বলে জানিয়েছেন তারা। জামাল নামে স্থানীয় এক ক্রেতা বলেন, আম কিনে বাসায় নিয়ে খাওয়ার পরপরই পেট খারাপ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে সঙ্গে সঙ্গে টয়লেটে যেতে হয়। আগে এমনটা হতো না।

আরেকজন ক্রেতার ভাষ্য, দেখতে সুন্দর হলেও এসব আমের স্বাদ অস্বাভাবিক লাগে। খাওয়ার পর শরীর খারাপ হয়ে যায়, তাই এখন আম কিনতেই ভয় লাগে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত পাকানোর জন্য ক্যালসিয়াম কার্বাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অথচ বাজারে এসব বিষয় তদারকির দৃশ্য তেমন চোখে পড়ছে না।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বলছেন, সব বিক্রেতা এমনটি করেন না। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী লাভের আশায় অপরিপক্ব আমে রাসায়নিক প্রয়োগ করে দ্রুত বাজারজাত করছেন, যার দায় পড়ছে পুরো বাজারের ওপর। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে বাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের কার্যক্রমও চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ করেছেন সচেতন মহল।

তাদের মতে, নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি না থাকায় এমন অনিয়ম বাড়ছে। সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বাজারে নজরদারি জোরদার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি নিরাপদ ফল চেনার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা.শামীমা আক্তার বলেছেন, কৃত্রিমভাবে পাকানো আমে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রাসায়নিক মানবদেহের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে ক্যালসিয়াম কার্বাইড বা অন্যান্য বিষাক্ত উপাদান ব্যবহার করলে তা হজমতন্ত্রে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে। রাসায়নিক মিশ্রিত আম খাওয়ার পরপরই অনেকের পেটে জ্বালাপোড়া, ডায়রিয়া ও বমিভাব দেখা দিতে পারে। কারণ এসব রাসায়নিক সরাসরি পাকস্থলী ও অন্ত্রে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

তিনি আরও বলেন, শিশু, বয়স্ক ও দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের জন্য এ ধরনের আম বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে খাবার বিষক্রিয়ার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের রাসায়নিকযুক্ত ফল খেলে লিভার ও কিডনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এমনকি স্নায়ুতন্ত্রেও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ডা: শামীমা আরো বলেন, খাওয়ার পর যদি পেট ব্যথা, ডায়রিয়া বা বমির মতো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

দ.ক.সিআর.২৬

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© 𝐰𝐰𝐰.𝐤𝐚𝐚𝐥𝐧𝐞𝐭𝐫𝐨.𝐜𝐨𝐦
Theme Customized By BreakingNews