1. live@kaalnetro.com : কালনেত্র : কালনেত্র
  2. info@www.kaalnetro.com : দৈনিক কালনেত্র :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
আমু চা বাগান মাঠে প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হস্তান্তরের আগেই হেলে পড়েছে গাদিশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন এমপি ফয়সলকে শুভেচ্ছা জানালেন আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ বাহুবল উপজেলা শাখার সভা অনুষ্ঠিত হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ৬ মাস ১৩ দিনে কোরআনের হাফেজ ওসমান গনিকে জেলা প্রশাসকের আর্থিক সহায়তা ও সম্মাননা ন্যায়বিচার ও আধুনিক সুবিধার অঙ্গীকার নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী শামছুল আলম উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে রাশিয়ার পথে গাজীপুর ইউনিয়নের শাকিব চুনারুঘাট মিডিয়া এসোসিয়েটের নতুন কমিটি গঠন হবিগঞ্জে বন্যা দুর্গতদের মাঝে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ

ইতিহাসের পাতায় স্বরণীয় স্তনশুল্ক বিরোধি প্রথা ভঙ্গকারী “নাঙ্গেলী”

আসাদ ঠাকুর
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৪

বিশেষ নিবন্ধ, আসাদ ঠাকুর◾

১৮০৩ সালে একটি কু প্রথা চালু ছিল ভারতের কেরলা অঙ্গরাজ্যে। ত্রিবাঙ্কুর রাজা এ রাজ্যের নিচু হিন্দু জাতের মধ্যে একপ্রকার শুল্ক বা করারোপ করেছিল। এ করটির নাম ‘স্তনশুল্ক’ । স্থানীয় ভাষায় নাম ‘মুলাক্করম’।

 

সে সময় ওই রাজ্যে নিয়ম ছিল শুধু ব্রাহ্মণ ছাড়া অন্য কোনো হিন্দু নারী তাদের স্তনকে কাপড় দ্বারা আবৃত করে রাখতে পারবে না। এখানে শুধুমাত্র ব্রাহ্মণ শ্রেণির হিন্দু নারীরাই তাদের স্তনকে এক টুকরো সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে পারত। এছাড়া বাকি হিন্দু শ্রেণির নারীদের প্রকাশ্যে স্তন উন্মুক্ত করে রাখার আইন প্রচলন ছিল ত্রিবাঙ্কুর রাজার এই রাজ্যে। তবে যদি কোনো নারী যদি তার স্তনকে কাপড় দ্বারা আবৃত করতে চাইত, তাহলে তাকে স্তনের মাপের উপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট হারে ট্যাক্স বা কর দিতে হত।

 

‘মুলাক্করম’ বা ‘স্তনশুল্ক’র বড় অংশই যেত ত্রিবাঙ্কুরের রাজাদের কুলদেবতা পদ্মনাভ মন্দিরে। দলিতদের আজীবন ঋণের নিগড়ে বেঁধে রাখার এই ব্রাহ্মণ্যবাদী প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন আলাপুঝার এঝাওয়া সম্প্রদায়ের নারী নাঙ্গেলি । ১৮০৩ সালে এই সাহসিনী নারী রাজার ওই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তার স্তনকে আবৃত করে রাখে।

 

নাঙ্গেলি তার স্তন আবৃত করে রাখায় গ্রামের শুল্ক সংগ্রাহক তার কাছ থেকে ‘মুলাক্করম’ বা ‘স্তনশুল্ক’ দাবি করেন। তবে ‘মুলাক্করম’ বা ‘স্তনশুল্ক’র প্রতিবাদে নাঙ্গেলি ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের দুটি স্তন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে কলাপাতায় মুড়ে ওই শুল্ক সংগ্রাহকের হাতে তুলে দেন। কাটা স্তন দেখে শুল্ক সংগ্রাহক হতবাক হয়ে যায়। স্তন কেটে ফেলার কিছুক্ষণ পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয় নাঙ্গেলির। শেষকৃত্যের সময় নাঙ্গেলির স্বামী নিজেও ঝাঁপিয়ে পড়েন জ্বলন্ত চিতায়। এই ঘটনার পর থেকেই ‘মুলাক্করম’ বা ‘স্তনশুল্ক’ রোহিত হয়। তবে ‘মুলাক্করম’ বা ‘স্তনশুল্ক’ রোহিত হলেও দক্ষিণ ভারতে নারীদের স্তন আবৃত করার জন্য বহু সংগ্রাম করতে হয়েছে। এমনকি এ নিয়ে রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা পর্যন্ত হয়েছে।

 

উনিশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে এসে কিছু হিন্দু নারী তাদের শরীরের উপরের স্তন আবৃত করার অধিকার দাবি করেন, তখন হিন্দু পুরোহিতরা স্পষ্ট করে বলে দেন, নিচু বর্ণের নারীদের শরীরের উপরের অংশ আবৃত করা ধর্মবিরোধী। এ বিষয়টি নিয়ে ১৮৫৯ সালে দক্ষিণ ভারতে দাঙ্গা পর্যন্ত হয়েছিল। এই দাঙ্গার উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু নারীদের শরীরের উপরের অংশ আবৃত করার অধিকার আদায় করা। ভারতে এই দাঙ্গা ‘কাপড়ের দাঙ্গা’ হিসাবেও পরিচিত। ইতিহাসের পাতায় স্বরণীয় হয়ে আছে “নাঙ্গেলী”।

স্তনশুল্ক মুক্তকরণ আন্দোলনে বিপ্লবী মহিয়সী নারী নাঙ্গেলীর প্রতি বিনম্রশ্রদ্ধা শ্রদ্ধা।

 

দ.ক.সিআর.২৪

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
© 𝐰𝐰𝐰.𝐤𝐚𝐚𝐥𝐧𝐞𝐭𝐫𝐨.𝐜𝐨𝐦
Theme Customized BY LatestNews