শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ন

সৈয়দ আবু নাঈম হালিম; রাজনীতিতে তারুণ্যের উজ্জল দ্যূতি ছড়াচ্ছেন

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

আসাদ ঠাকুর: চুনারুঘাট উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত এক নাম সৈয়দ আবু নাঈম হালীম। ৩নং দেওরগাছ ইউনিয়নের বাসিন্দা ও একাধিক বারের চেয়ারম্যান প্রতিযোগী। যাকে উপজেলার প্রতিটি মানুষই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সংগ্রামী ও নির্যাতিত নেতা হিসাবেই চিনেন-জানেন।

আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যার অধিকাংশ দিন কেটেছে কারাগারে। মামলা হামলার ভয়ে জাতিয়তাবাদী দলের অনেক নেতাকর্মী যখন দলীয় পরিচয় গুটিয়ে নিচ্ছিলেন, তখনও আবু নাঈম হালিমকে দেখা যেতো রাজনীতির মাঠে দাপরে বেড়াতে! তাকে যেমন পাওয়া গেছে জেলে, তেমনি পাওয়া গেছে দলিয় কর্মীদের নিয়ে মিছিল মিটিং এ। ঢাকায় ১ দফা আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করে যিনি দীর্ঘ তিন মাস কারাগারে রাজবন্ধী ছিলেন।

সৈয়দ আবু নাঈম হালিমের রাজনৈতিক জীবন শুরু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যোগদানের মধ্যে দিয়ে। তার পরপরই রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেন হালিম। দলিয় কার্যক্রমে কখনো উপজেলা গেইট, থানার মুখ, পার্টি অফিস সর্বত্রই ব্যতিব্যস্ত থাকতে দেখা যেত তাকে। যেকারণে তিনি অল্পদিনেই উপজেলা ছাত্রদলের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্টিত হন, পরবর্তীতে আহবায়কের দায়িত্বেও ছিলেন বেশ কিছু দিন। যার হাত ধরে চুনারুঘাট উপজেলার বিভিন্ন পাড়া মহল্লা থেকে শুরু করে হাজার হাজার রাজপথের লড়াকু সৈনিক ছাত্রদলের পতাকা তলে আসে।

সৈয়দ আবু নাঈম হালিমের রাজনৈতিক পরিচয় এমন পর্যায়ে পৌছায় একপর্যায়ে তার গ্রেফতারের প্রতিবাদে উপজেলার সর্বস্তরের জনগন চুনারুঘাট বাজারে অর্ধবেলা দোকান পাঠ বন্ধ রেখে হরতাল পালন করে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।মোটকথা সময়ের সাহসী এক রাজনৈতিক যোদ্ধার নাম সৈয়দ আবু নাঈম হালীম। যাকে রাজপথের নেতা এবং স্লোগান মাস্টার হিসেবেই মানুষ অধিক চিনেন। আবু নাঈম হালিম বর্তমানে উপজেলা যুবদলের ১ম যুগ্নআহ্বায়ক। যার রক্ত আর ঘামে ভিজে আছে চুনারুঘাটের রাজপথ।

সৈয়দ আবু নাঈম হালীমের রাজনৈতিক সক্রীয়তা তাকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহনেও উদ্বুদ্ধ করে তোলে। চুনারুঘাট উপজেলার ৩নং দেওরগাছ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হালিম প্রথম চেয়ারম্যান প্রার্থী হয় ২০১১ সাথে। বাংলাদেশের প্রথম মহিলা ইউপি চেয়ারম্যান সদ্য প্রয়াত আলহাজ বেগম শামছুন্নাহার চৌধুরীর সাথে দুই বার প্রতিদ্বন্দীতা হয়।

সাম্প্রতিক এই তরুণ নেতৃত্বের সম্পৃক্ততা আরও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কাজ করে যাচ্ছেন দেওরগাছ ইউনিয়নের মানুষের জন্য। চলতি পথে তীব্র তাপদাহে ক্লান্ত হয়েছেন। কিন্তু হেরে যাননি। দমে যাননি। সম্পর্কগুলো শক্ত করে আঁকড়ে ধরে আছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি দুইবার উপজেলা ছাত্রদলের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি চুনারুঘাট উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং উপজেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার কারণে তিনি ইউনিয়নের মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ, জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম এবং দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে একজন জনপ্রিয় জননেতা হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।

এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং উন্নয়নমুখী চিন্তাধারার কারণে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সৈয়দ আবু নাঈম হালিমকে নিয়ে ইতোমধ্যেই ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাঁর সমর্থকরা আশা করছেন, জনগণের সেবা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় তিনি আগামী দিনে আরও বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ পাবেন।

সৈয়দ আবু হাঈম হালিম জানান, “রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার বিষয় নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি মাধ্যম। জনগণের ভালোবাসা আর সমর্থন থাকলে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।”

তবে সৈয়দ আবু নাঈম হালিম শুধু একটি নাম নয়, ২৭ বছরের এক রাজনৈতিক ইতিহাস, শত শত হামলা মামলার ইতিহাস, শতশত দিন কারাবরণের ইতিহাস, ফ্যাসিবাদ কর্তৃক ১৭ বছর জেল জুলুমের করুণ এক ইতিহাস! সর্বোপরি ছাত্রনেতা থেকে জননেতা হয়ে উঠার ইতিহাস-

দ.ক./এ.টি

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© 𝐰𝐰𝐰.𝐤𝐚𝐚𝐥𝐧𝐞𝐭𝐫𝐨.𝐜𝐨𝐦
Theme Customized By BreakingNews