কুমারেশ চন্দ্র বিশ্বাস: জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উদ্যোগে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দেশের নির্বাচিত বেসরকারি গ্রন্থাগারের পাঠক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রমের সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠান ২২ জুন সকাল ১০.৩০টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব কানিজ মওলা। এছাড়া মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রমে বিচারকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী লেখক ও অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাউসুল হক, কথাসাহিত্যিক শাহনাজ মুন্নী এবং লেখক ও সংগঠক জনাব সাবিদিন ইব্রাহিম। অনুষ্ঠানে স্বগত বক্তব্য প্রদান করেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম।
প্রধান অতিথি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী এমপি বলেন, এক সময় সারা পৃথিবীর মানুষ ভাগ্যান্বেষণের জন্য এই আমাদের বাংলায় আসতো, কিন্তু এই বাংলার মানুষ কখনো অন্য কোথাও যায়নি। সঠিক নেতৃত্বে দিতে পারলে আবার আমাদের সেই হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসবে। আর নেতৃত্ব দিতে হলে আমাদের অবশ্যই জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তাই বইয়ের প্রতি ভালোবাসা, বইয়ের প্রতি প্রেমের কোনো বিকল্প নেই।’
অনুষ্ঠানের সভাপতি সচিব কানিজ মওলা বলেন, ‘জনসাধারণের মধ্যে পাঠভ্যাস গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আমরা যাই করি না কেন জ্ঞান অর্জনের জন্য আমাদের বইয়ের কাছে ফিরে আসতে হবে। বই আমাদের মধ্যে একটি সেতু হিসেবে কাজ করে।’
উল্লেখ্য, জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্কুল পর্যায়ের পাঠক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘ক’ বিভাগ এবং কলেজ ও তদুর্ধ্ব পর্যায়ের পাঠক-শিক্ষণার্থীদের নিয়ে ‘খ’ বিভাগ নামে দুটি পৃথক বিভাগে বিভক্ত করা হয়। ‘ক’ বিভাগের পাঠক-শিক্ষার্থীদের পাঠ পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার দজন্য হুমায়ূন আহমেদ রচিত সায়েন্স ফিকশন ‘তোমাদের জন্য ভালোবাসা’ এবং ‘খ’ বিভাগের পাঠক-শিক্ষার্থীদের জন্য জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস ‘আরেক ফাল্গুন’ বই দুটি নির্ধারণ করা হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হতে ৭২টি বেসরকারি গ্রন্থাগারের মোট ৬৪৭ জন পাঠক-শিক্ষার্থী এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। ‘ক’ ও ‘খ’ বিভাগের ৬৪৭টি খাতা মূল্যায়নকারী কর্তৃক প্রদত্ত নম্বরের ভিত্তিতে প্রতিটি গ্রন্থাগার হতে এক ও একের অধিক পাঠক-শিক্ষার্থীসহ মোট ১৪৫ জনকে চূড়ান্ত মূল্যায়নে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত ১৪৫ জন পাঠক-শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র মিলনায়তনে ৮, ৯ ও ১০ জুন ২০২৬ তিনদিনব্যাপী পাঠ-উত্তর মূল্যায়ন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
পাঠ-উত্তর মূল্যায়নে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক পাঠক-শিক্ষার্থীর অনুভূতি মৌখিক আকারে গ্রহণ করা হয়। মূল্যায়নে বিচারকমণ্ডলীর প্রদত্ত নম্বরের ভিত্তিতে প্রতিটি বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত ১০ জন করে দুটি বিভাগে মোট ২০ জন পাঠক-শিক্ষার্থীকে সেরা হিসেবে নির্বাচন করা হয়।
নির্বাচিত ২০ জন সেরা পাঠক-শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ৩,০০০/- টাকার সমমূল্যের বই, ৩,০০০/- টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড এবং একটি সনদপত্র প্রদান করা হবে। এছাড়া চূড়ান্ত মূল্যায়নে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য পাঠক-শিক্ষার্থীর প্রত্যেকে ১,০০০/- টাকা সমমূল্যের বই, ১,০০০/- টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড ও একটি সনদপত্র পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয়।
লেখক: গবেষণা কর্মকর্তা, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, ঢাকা
দ.ক.সিআর.২৬