
আজিজুল হক নাসির: চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নস্থ ঐতিহ্যবাহী আমুরোড গরুর বাজারটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থয় চলে আসছে । সপ্তাহে ২দিন সোম ও বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাগণ এই বাজারে এসে ব্যবসা বানিজ্য করছেন বেহাল দশার মধ্য দিয়েই।
বাজারটি থেকে প্রতি বছর ৮০/৯০ লাখ টাকা সরকারের রাজস্ব খাতে জমা পড়লেও এর উন্নয়ন মূলক কোনো কিছুই করা হয়নি এখন পর্যন্ত । বাজারের ছাউনি না থাকা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকা , বৃষ্টির মৌসুমে কাদা লেগে থাকা ইত্যাদি কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতা ও অবলা পশুদের। বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো হতাশ ক্রেতা-বিক্রেতা ও স্থানীয়রা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারটি থেকে সরকার প্রতি এতো টাকা রাজস্ব আদায় করছে অথচ এর অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। নির্দিষ্ট কোনো জমি ছাড়াই বাজারটি চলছে যুগের পর যুগ ধরে। বাজারের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ বার জায়গা পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে আমুরোড পরিত্যক্ত রেলস্টেশনে যেখানে বাজারটি বসছে সেখানে পশুদের বৃষ্টিতে ভিজা আর রোদে শুকাতে হচ্ছে প্রায়ই। সামান্য
বৃষ্টিতেই কাদায় বাজারে হাঁটা চলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তারা যত দ্রুত সম্ভব এই বাজারের একটি স্থানী জায়গা এবং অবকাঠামো গত উন্নয়ন চান।
আজ সোমবার পবিত্র ঈদুল আজহার বাজারে হাজার হাজার গরু অন্তত ২ ঘন্টা বৃষ্টিতে ভিজে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা ও স্থানীয়দের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে, স্থানীয় চেয়ারম্যান জাকির হোসেন পলাশ বলেন, বাজারের নির্ধারিত জমি না থাকায় এর কোনো উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বিষয়টি নিয়ে উপজেলা কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করবেন।
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি সদ্য যোগদান করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
একই বিষয়ে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ডঃ জি এম সরফরাজ এর সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে এবং খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অর্ধশত বছরের অধিক সময় ধরে চলে আসা আমুরোড গরুর বাজারকে অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতা ও স্থানীয়দের।
দ.ক.সিআর.২৬