
খালিদ হাসান: অতীতে কখনো হবিগঞ্জ নদীভাঙনের কথা খুব কমই শোনা যেতো। বর্তমান সময়ে প্রতিবছর বর্ষা এলেই হবিগঞ্জে বন্যা, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার খবর শিরোনাম হয়। মানুষ ঘরবাড়ি হারায়, ফসল নষ্ট হয়, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। তখন আমরা সবাই ত্রাণ ও সহায়তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাই। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন খুব কমই করি, এই পরিস্থিতি বারবার কেন সৃষ্টি হচ্ছে?
একসময় হবিগঞ্জ ছিল নদী-খালসমৃদ্ধ জনপদ। জেলার ৪০টিরও বেশি নদী ছিলো। তাছড়া অসংখ্য খাল-বিল বর্ষার অতিরিক্ত পানি সহজেই বহন করত। আজ সেই নদী-খালগুলোর অনেকই দখল, ভরাট, দূষণ ও অব্যবস্থাপনার কারণে তাদের স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়েছে। কোথাও নদী সংকুচিত হয়েছে, কোথাও খাল বিলীন হয়ে গেছে। ফলে সামান্য অতিবৃষ্টিতেই পানি আটকে গিয়ে বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, রাস্তার পাশের পানি নিষ্কাশনের অনেক খাল অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে। নদী ও খাল ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে। আবার কোথাও নদীর তীর কেটে রাস্তা ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড শুধু পরিবেশের জন্য নয়, মানুষের জীবন ও সম্পদের জন্যও বড় হুমকি।
প্রকৃতিকে অবহেলা করে উন্নয়ন কখনো টেকসই হতে পারে না। নদী, খাল ও জলাভূমি রক্ষা করা মানে শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়; এটি মানুষের জীবন, কৃষি, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এখনই সময় অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নদী ও খালের নাব্যতা পুনরুদ্ধার, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পানি প্রবাহের স্বাভাবিক পথ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের। পাশাপাশি নদী ও খাল রক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।
আমরা যদি আজও উদাসীন থাকি, তাহলে ভবিষ্যতে বন্যা ও নদীভাঙনের ভয়াবহতা আরও বাড়বে। তাই বিপদের সময় শুধু সহায়তা নয়, বিপদের কারণ দূর করাই হোক আমাদের প্রধান অঙ্গীকার। নদী বাঁচলে হবিগঞ্জ বাঁচবে, আর হবিগঞ্জ বাঁচলে নিরাপদ থাকবে এখানকার মানুষ।
দ.ক/কে.এইচ