1. live@kaalnetro.com : Bertemu : কালনেত্র
  2. info@www.kaalnetro.com : দৈনিক কালনেত্র :
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০৬:১২ অপরাহ্ন

উন্নয়ন ব্যয়ে নতুন যুগে বাংলাদেশ- কালনেত্র

দৈনিক কালনেত্র
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

 

কালনেত্র ডেস্ক: দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন ইতিহাস গড়ল সরকার। প্রথমবারের মতো বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার তিন লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকার মূল এডিপি। স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর উন্নয়ন ব্যয় যোগ করলে সামগ্রিক এডিপির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভা শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের সামনে নতুন এডিপির নানা দিক তুলে ধরেন।

এবারের এডিপিতে সবচেয়ে বড় বার্তা এসেছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে। অতীতে বড় উন্নয়ন বাজেট মানেই ছিল অবকাঠামো ও যোগাযোগকেন্দ্রিক ব্যয়; তবে এবার সামাজিক খাতেও বড় বিনিয়োগের ইঙ্গিত মিলেছে। বরাদ্দের তালিকায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় উঠে এসেছে শীর্ষ পর্যায়ে।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এডিপির ৩ লাখ কোটি টাকার মধ্যে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা আসবে দেশীয় উৎস থেকে। বাকি ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা আসবে উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ ও অনুদান হিসেবে। নতুন এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ১ হাজার ১০৫টি প্রকল্প।

চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির তুলনায় নতুন কর্মসূচির আকার প্রায় ৫০ শতাংশ বড়। সরকারের ব্যাখ্যা হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামোগত ঘাটতি পূরণে বড় বিনিয়োগ ছাড়া বিকল্প নেই। বিশেষ করে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগ স্থবিরতার প্রেক্ষাপটে সরকার উন্নয়ন ব্যয়কে অর্থনীতির গতি ফেরানোর অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।

বরাদ্দের হিসাবে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ—৩৩ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, যার বরাদ্দ ৩০ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ পেয়েছে ২৬ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পেয়েছে ১৯ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বরাদ্দ কাঠামো থেকে স্পষ্ট যে সরকার একদিকে অবকাঠামো উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে চাইছে, অন্যদিকে মানবসম্পদ উন্নয়নকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বাড়তি বরাদ্দ দীর্ঘমেয়াদে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে বড় এডিপির সঙ্গে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অতীতে বহু প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি, দীর্ঘসূত্রতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল নিয়মিত ঘটনা। সেই বাস্তবতায় এবার প্রকল্প বাস্তবায়নে কড়াকড়ির ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য ড্যাশবোর্ড চালু করা হবে। কোনো প্রকল্পের অগ্রগতি সন্তোষজনক না হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দিতে পর্যালোচনা চলছে বলেও জানান তিনি। প্রকল্প পরিচালক নিয়োগেও আনা হচ্ছে কঠোরতা। প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা ছাড়া কাউকে প্রকল্প পরিচালক করা হবে না। অতীতে প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এডিপির আকার নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সরকার এটিকে প্রয়োজনীয় উচ্চাভিলাষ বলেই ব্যাখ্যা করছে। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ভাষায়, “রাজনৈতিক সরকারের উচ্চাভিলাষ থাকতে হবে। ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন, তাই বড় এডিপি নেওয়া হয়েছে।”

সরকারের দাবি, এটি শুধু উন্নয়ন ব্যয়ের বার্ষিক তালিকা নয়; বরং আগামী পাঁচ বছরের সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনার ভিত্তি। একই এনইসি সভায় পাঁচ বছর মেয়াদি সংস্কার ও উন্নয়ন কৌশলকাঠামোও অনুমোদন করা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, তিন লাখ কোটি টাকার এডিপি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় একটি বড় মাইলফলক। তবে এর প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন সক্ষমতা, ঋণ ব্যবস্থাপনা, প্রকল্পের গুণগত মান এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের ওপর। কারণ অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বড় বাজেট ঘোষণা সহজ হলেও সময়মতো প্রকল্প শেষ করা এবং কাঙ্ক্ষিত সুফল নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

দ.ক.সিআর.২৬

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
© 𝐰𝐰𝐰.𝐤𝐚𝐚𝐥𝐧𝐞𝐭𝐫𝐨.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট