
কালনেত্র প্রতিবেদন : যারা দেশের ভেতরে প্রকৃতির কাছাকাছি কোথাও যেতে চান তাদের জন্য হবিগঞ্জ হতে পারে একটি আদর্শ জেলা। প্রকৃতির সঙ্গে এখানে পাবেন ইতিহাস আর ঐতিহ্যের আবহ। যা আপনার সারা বছরের ক্লান্তিকে নিমিষেই দূর করে দিতে পারে। হবিগঞ্জের বানিয়াচরের লক্ষ্মীবাউর জলাবন কিভাবে সহজেই ঘুরতে পারেন তা কালনেত্র এর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—
দেশের বৃহৎ জলাবন হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলায় অবস্থিত লক্ষ্মীবাউর সোয়াম্প ফরেস্ট (জলাবন)। খড়তি নদীর দক্ষিণে ঘেঁষে এই জঙ্গলের অবস্থান হওয়ায় স্থানীয়রা এটিকে ‘খড়তির জঙ্গল’ নামে ডাকেন। হিজল, করচ, বরুণ, কাকুরা, বউল্লা, খাগড়া, চাউল্লা, নলসহ অসংখ্য গাছ ও গুল্মে পরিপূর্ণ এই জলাবন।
দুই মৌসুমে জলাবনের রূপ দুই রকম। বর্ষাকালে হাওরের মাঝখানে এই জঙ্গলকে দেখলে মনে হবে যেন পানিতে ভাসমান একটি জঙ্গল। শুকনো সবুজ ধানখেতের মাঝখানে এই জঙ্গল তার আপন রূপ ধারণ করে রাখে। বনের ভেতর দিয়ে একটি আরসিসি ঢালাই সড়ক রয়েছে। শুকনো মৌসুমে এই সড়কটি সাইক্লিস্টদের অন্যতম আকর্ষণ।
বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী জীবজন্তু যেমন- মেছোবাঘ, শিয়াল, গুইসাপ, কেউটে, লাড্ডুকা, দারাইশসহ অনেক বিষধর সাপ। শীতে এখানে অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠে অতিথি পাখিরা। বক, পানকৌড়ি ও বালিহাঁসসহ বিভিন্ন ধরনের পাখির ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়ানো যে কাউকে বিমোহিত করে।
যেভাবে যাবেন— হবিগঞ্জ শহর থেকে সিএনজি অটোরিকশা যোগে বানিয়াচং উপজেলায়। সেখান থেকে টমটম ইজিবাইক করে আপনি লক্ষ্মীবাউর চলে যেতে পারবেন। হবিগঞ্জ শহর থেকে গন্তব্যে পৌঁছাতে সবমিলিয়ে আপনার ভাড়া গুনতে হবে ৮০ থেকে ১০০ টাকার মতো।
কোথায় থাকবেন— বানিয়াচং উপজেলায় থাকার মতো ভালো হোটেল না থাকায় আপনাকে হবিগঞ্জ শহরে এসে থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে আপনি ২৫০ থেকে ৭০০ টাকায় হোটেল পেয়ে যাবেন।
বানিয়াচং ভ্রমণে এলে আপনি একসঙ্গে দেখতে পারবেন কমলাবতীর সাগরদিঘি, রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ। সবশেষে বিশ্বের সর্ববৃহৎ গ্রামও আপনার দেখা হয়ে যাবে।
দ.ক.সিআর.২৬