1. live@kaalnetro.com : Bertemu : কালনেত্র
  2. info@www.kaalnetro.com : দৈনিক কালনেত্র :
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৩:১১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
আমার দেখা চুনারুঘাট উপজেলার ক্রিকেট : মোস্তফা মোরশেদ শুধু ‘ব্র্যান্ড’ লেখকেই ভরসা—তাহলে নতুন কলামিস্ট জন্ম নেবে কোথায়? চুনারুঘাট পৌরসভার মেয়র হিসেবে রুমনকে দেখতে চান স্থানীয় জনগন অস্তিত্বসংকটে হবিগঞ্জের অসংখ্য খাল-বিল ও নদী চুনারুঘাট বান্নি পার্ক এন্ড রেষ্টুরেন্টে ছাত্র নেতার হামলা হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন  তারেক রহমানের কারাবন্দি দিবস আজ: বিএনপিনেত্রী শাম্মীকে এমপি হিসেবে দেখতে চান তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে হবিগঞ্জ জেলার অবস্থা পর্যালোচনা মানুষের সেবা করাই আমাদের মুল উদ্দেশ্য : শিল্পপতি সৈয়দ ইশতিয়াক

আমার দেখা চুনারুঘাট উপজেলার ক্রিকেট : মোস্তফা মোরশেদ

দৈনিক কালনেত্র
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬

 

মোস্তফা মোরশেদ : বর্তমান বাংলাদেশে ক্রিকেট এক চেতনার নাম। ক্রিকেট শুধু আমাদের প্রধান খেলাই নয় জাতীয় জীবনের এক আলোকিত অধ্যায়। হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলা বাংলাদেশ কোন বিখ্যাত স্থান না হলেও আমার জন্য বিখ্যাত কারণ আমি এ এলাকার সন্তান। যে বিষয়টা নিয়ে লেখার চেষ্টা করছি তা কোন গল্প কিংবা সাহিত্য নয় সত্যিকার অর্থে একটা উপজেলার ক্রিকেট ইতিহাস। কোন ধরণের কাব্য আর ভনিতা ছাড়া আমার উপজেলার ক্রিকেটর ইতিহাসের শুরুর অংশটি বর্ণনা করছি যেখানে আমার উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল। আজতো দেশের যে কোন প্রান্তে এক টুকরো কাঠ আর একটা বল হলেই লোকে ক্রিকেট খেলতে নেমে পড়ে কিন্তু আমি যখন প্রথম খেলা শুরু করি তখন অবস্থা সম্পূর্ন বিপরীত।

চুনারুঘাট উপজেলার প্রায় সূচনা লগ্নে এবং আমার সমসাময়িক চুনারুঘাট ক্রিকেটের একটা বড় অংশ জুড়ে আমি ছিলাম। পুরো বর্ণনায় অনেকের নাম এসেছে; গভীর শ্রদ্ধার সাথে বলছি কাউকে ছোট করার জন্য একটা শব্দও লিখিনি। প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে চেয়েছি। অনেকের নাম মনে করতে পারিনি যদিও হয়তো স্মৃতিপটে তাঁর অস্তিত্ব দৃশ্যমান আছে। যাঁদের নাম মনে আসেনি তাঁদের প্রতি নিঃর্শত দুঃখ প্রকাশ করছি। যতদূর মনে পড়ে শিশু নিকেতন কিন্ডার গার্টেনে (বর্তমানে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল) প্রাথমিক পর্যায়ে পড়াকালীন একদল সুশৃঙ্খল, সুশ্রী যুবকদের উপজেলা পরিষদ মাঠে সফেদ পোষাক পড়ে ক্রিকেট খেলতে দেখেছি। সময় ১৯৮৬-৮৭ সাল; তখন আমি ৩য়/৪র্থ শ্রেণীতে পড়ি। আমার এক প্রিয় মানুষ মাযহারুল ইসলাম রুবেল ভাই এর কাছ থেকে জানতে পারি সে বড় ভাইদের দলে যারা ছিলেন তাঁরা হলেন রফিকুল ইসলাম সোহেল ভাই, প্রয়াত বিদ্যুৎ দা, সালেহ ভাই, কোকিল ভাই, আব্দুল হাই ভাই, আব্দুল কুদ্দুস ভাই, আব্দুল হান্নান ভাই, হেলাল ভাই, রিপন ভাই, রুবেল ভাইসহ আরও অনেকে। সম্ভবত সে থেকে শুরু, আমাদের উপজেলার ক্রিকেট ইতিহাস। তারপর মানিক কাকা (আমাদের বাসা থেকে রাস্তা পার হলেই তাঁর বাড়ি) এর হাত ধরে আমার বাসার পাশে girls school এর মাঠে গুটি কয়েক ছেলেদের নিয়ে আমরা ক্রিকেট খেলা শুরু করি। সবাই ফুটবল খেলতে চাইতো, আমরাও ফুটবলে যোগ দিতাম কিন্তু এর মাঝেই চলল ক্রিকেট। আমাদের নিজেদের বানানো ব্যাট, ১০-১২ টাকা দামের টেনিস বল আর গুটি তিনেক বাঁশের লাঠি দিয়েই আমার ক্রিকেট জীবনের পথচলা শুরু।
Girls school এর মাঠে তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে নো বল। কার্যত কেউই ভালো করে বল করতে পারত না, রীতিমত ১০০ গজ দৌড়ে এসে একেবারে দাঁড়িয়ে থেকে ঢিল ছুড়তো। বোলার হিসেবে কারোই এর চেয়ে ভালো অভিজ্ঞতা নেই। মানিক কাকা তখন অনার্স এ পড়েন; তিনিই একমাত্র বোলার যিনি নিয়ম মেনে বল করতে পারেন। আমরা তাঁর কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করি। ক্রমে লোকজন বাড়তে থাকে। ক্রিকেট ব্যাকরণের বাইরে অনেক কিছু যোগ হয়। lbw নিয়ে প্রতিদিনই কথা কাটাকাটি, ঝগড়া হতে লাগালো। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত হলো বাম পায়ে লাগলে lbw হবে না, ভাগ্যিস left-handed batsman রা আপত্তি করেনি। কি আর করার; আমরা সব (ভুল) মেনে নিয়েই খেলতে থাকি।
অনেক মজার বিষয়ও ঘটতে থাকে। কিছু দর্শকও মাঠে দেখা যায়, হঠাৎ বয়স্ক একজন বলে উঠেন, “তোমরা কি আর খেল, একটা জোরে শট মারলে ১০০ রান করা যায়।” আমরা স্তম্ভিত হই। তাঁকে ব্যাট করতে পাঠাই। তিনি একটি বলও তাঁর ব্যাটে লাগাতে পারেন না। সবাই মজা পায় কিন্তু তিনি তাঁর কথায় অনঢ়। আজ হয়নি, আগামী দিন হবে। পরদিন তিনি কি করেছিলেন মনে পড়ে না। তবে এরকম যত চ্যালেঞ্জ ছিল কেউই বল সীমানা পার করতে পারেনি। হয়তো ব্যাটে শুধু বল লাগাতে পেরেছেন, তাও অন্তত তিন-চার বারের চেষ্টায়।
সময় ১৯৮৭-৮৮ সাল। আমরা যে মাঠে খেলতাম, মানে girls school এর মাঠ, সেটার leg-side এ ধান ক্ষেত আর মানুষের বাসা। আপনি বল মারবেন তো ক্ষেতে পড়বে আর আনতে গেলে নানা বকাঝকা। সুতরাং leg-side এ girls school এর তিন ফুট উঁচু সীমানা প্রাচীর পর্যন্ত সব ঠিক আছে, উড়ে গিয়ে পড়লে ৬ রানও পাবেন কিন্তু বল যদি বাউন্ডারি দেয়ালের বাইরে চলে যায় তাহলে out। সে সময় একটা বিষয় আমাদের জানা ছিল না। শুনেছি পৃথিবীর অনেক দেশে (যেমন Australia তে) এরকম হয় যে, আপনি six মারলে out হবেন ঠিকই কিন্তু সাথে আপনি রানও পাবেন। মানে six & out; আমরা বোধ হয় অতিরিক্ত কঠোর ছিলাম! Leg-side এ ব্যাট করাটা দুরহ ছিল এবং মাঠের আয়তন অনুযায়ী off-side অনেক কম ছিল বলে আমি শুধু off-side এ খেলতে লাগলাম। এমনকি Leg-side দিয়ে বের হয়ে যাওয়া বল back foot এ গিয়ে off-side এ cut, square-cut খেলতে লাগলাম। কার্যত আমার খেলাটা নষ্ট হয়ে গেল। তবে ঈশ্বর আর সৌরভ গাঙ্গুলীর পর আমি off-side এ শট খেলায় পারদর্শী হয়ে পড়লাম। আমার ঠিক immediate ছোট ভাই শাওন, আমার চেয়ে তিন বছরের ছোট। সেও girls school এর মাঠে আমার নিয়মিত খেলার সঙ্গী।
এর মধ্য খেলার ঝামেলা এড়ানোর জন্য আমরা নিজেরা অনেক নিয়ম বানিয়ে ফেলি। যেমন, যে বল হারাবে সে খোঁজে আনবে, অনেক সময় বল পেতে দেরি হলে বল পাওয়ার পুরস্কার স্বরুপ রানও দেয়া হয়, মাগরিবের আজান দিলে খেলা শেষ, ইত্যাদি। আর টস জেতা মানেই ব্যাটিং, তা flat batting উইকেট হোক আর bounce উইকেট হোক। যদিও আমাদের উইকেট এ প্রচুর ঘাস ছিল তবে তা ব্যাটিং না বোলিং উপযোগী ছিল আমরা জানতে চাইনি, চেষ্টাও করিনি। কেউ কেউ দুধভাত হয়ে খেলতে থাকে। সে দুই দলের fielding, batting দুইটাই করবে। আরো কতো কী? ব্যাটিং টিম সবসময় umpiring করবে এবং last batsman কে অনেক সময়ই একা ব্যাট করতে দেওয়া হতো। তার কি দোষ, সে ব্যাট করতে নামলো, ওভার শেষ হলো আর অন্য প্রান্তের ব্যাটসম্যান out । তবে কি সে ব্যাট করবে না?
সময় ১৯৮৯-৯০ সাল। এরই মাঝে আমার প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্ব শেষ। আমাদের খেলার নতুন platform তৈরি হয়েছে। DCP High School এ বিভিন্ন বয়সী ছেলেদের সাথে খেলা চললো। এরই মাঝে ক্রিকেট ছড়িয়ে পড়েছে অনেক জায়গায়। বাল্লা রোডের কাছে ধানক্ষেতে শীতের বিকেল খেলা চলতে লাগলো। আমার বয়স তখন ১২/১৩ বছর। গালর্স স্কুলের মাঠ পেরিয়ে আমি DCP High School, অগ্রনী হাই স্কুল, আমার ফেলে আসা কিন্ডার গার্টেনে খেলতে যাই। ততদিনে আমার বোলিং action প্রায় ঠিক হয়ে গেছে। পেস বোলার, অনেক wide, by রান হলেও উইকেট পড়ে যায়। হয়তো নিজের দলের মোট রান ১০ ওভারে ৪৬। এর মধ্যে অতিরিক্ত থেকে এসেছে অর্ধেকের বেশি। আমরা বিপক্ষ দলকে ৪৬ রানের মধ্যে আটকাতে গিয়ে অতিরিক্ত দিয়ে ফেলেছি ৩০ রান। তারপরও পেস বোলিংয়ের শক্তি দিয়ে দুমড়ে মুচড়ে বিজয় আসে।
সবকিছুর পাশাপাশি গালর্স স্কুলে নিয়মিত খেলা চলতে থাকে। আমাদের নিজেদের তৈরি ব্যাট, নিজেদের তৈরি তিনটি কাঠের স্ট্যাম্প আর টেনিস বল। অনেক সময় বল ফেটে যায়, মানিক কাকার বাড়ির টয়লেটের নোংরা পানিতে পড়ে যায়। আমরা খুজতে থাকি, কারণ নতুন বল কেনাটা অনেক ঝামেলার, কেউ টাকা দিতে চায় না। টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে ৭/৮ টাকা হয়; ৫/৬ টাকার জন্য ফাটা বল দিয়ে খেলি। হয়তো খেলা বন্ধও থাকে। বাসা থেকে বলা কেনার জন্য টাকা বরাদ্দ নেই। তারপর কারো কাছ থেকে ১/২ টাকা নিয়ে দোকানদারকে manage করে ২ টাকা কম দিয়ে বল কিনে আনি। সে সময় পর্যন্ত আমরা টেনিস বল দিয়েই খেলেছি। এরপর আমার হাই স্কুলের (DCP High School) মাঠে ক্রিকেট বল (টেনিস বল নয়) দিতে একদল খেলা শুরু করে।

সময় ১৯৯১ সাল। চুনারুঘাট উপজেলার ক্রিকেটে যে কজন পথিকৃত ছিলেন তাঁদের নাম না নিলেই নয়। বিদ্যুৎ দা তখনও ক্রিকেটের সাথে ছিলেন। এছাড়া আমাদের বেশ কয়েক বছর সিনিয়ররা হলেন মানিক কাকা, সুমন ভাই, দুলাল ভাই, এবং আরও কজন যারা মূলত বিদ্যুৎ দাদাদের সমসাময়িক। যাঁদের নাম লিখতে পারলাম না তাঁদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী। আমাদের খুব কাছাকাছি সিনিয়র যারা ছিলেন তাঁরা হলেন অঞ্জন দা, আশিষ দা, মরহুম আবদাল ভাই, শিবলী ভাই, রাসেল ভাই, লিপু ভাই, সোহেল ভাই আরও অনেকে। আবদাল ভাইকে একটু special চরিত্রই বলতে হবে কারণ অনেক সিনিয়র থেকে অনেক জুনিয়র অবধি তাঁর বিচরণ। তাঁর আরও একটা খেলোয়াড়ি বৈশিষ্ট্য ছিল – third-man এ fielding তাঁর বিকল্প ছিল না বললেই চলে। আমাদের এ অভিজ্ঞতা আর তারুন্য মিশ্রিত যে দল তাদের মূল প্রতিপক্ষ ছিল চাঁন্দপুর চা বাগান আর আমু চা বাগান একাদশ। তখন আমি ক্লাস নাইন এ পড়ি (১৯৯২ সাল); যতটুকু মনে পড়ে ক্রিকেট বলে ২৫ ওভারের খেলায় জীবনের প্রথম ম্যাচে চাঁন্দপুর চা বাগান একাদশের বিপক্ষে বল হাতে ৭ রানে ৪ উইকেট পেয়েছিলাম। আমরা খুব কষ্টার্জিত জয়ও পাই। আমার সেই বাল্যকালের গুরু মানিক কাকাও সেই টিমের সদস্য ছিলেন। প্রতিটি উইকেট পাওয়ার পর তাঁর সাথেই আমার প্রথমে high-five হয়। বাকি খেলোয়াড়রা তখন উচ্ছসিত কিন্তু এক ব্যক্তির সাথে কেন high-five তা জানতে চায়। বিষয়টি সবার চোখে পড়ে কারণ উইকেট পাওয়ার পরপর mid-wicket এ দাঁড়িয়ে থাকা মানিক কাকার দিকেই আমি বারবার ছুটে যাই। তারপর নিয়মিত বিরতিতে আমাদের এই দ্বৈরথ চলতে থাকে। চুনারুঘাট বাজার একাদশ বনাম চাঁন্দপুর চা বাগান একাদশ।
আমি নিয়মিত ভালো পেস বল আর লোয়ার অর্ডারে ৬/৭ এ ব্যাট হাতে রান করি। মনে পড়ে বেশ কদিন ভাল batting করার পর একদিন one-down এ খেলতে গিয়ে ২৫ ওভারের শেষ ওভার পর্যন্ত ২৯ রানে অপরাজিত থাকি। চাঁন্দপুর দলে বেশ ভালো ক’জন বোলার ছিল, এর মধ্যে আমার classmate শফিক, মাসুদ, আরও অনেকে। তাদের pace, off-cutter, off-spin এ আমরা সবাই রীতিমত নাকানি-চুবানি খাই।
এরই মাঝে চুনারুঘাটে “দুরন্ত সাথী” নামে নতুন সংগঠনের উদ্ভব হয় (সম্ভবত সময় ১৯৯৫-৯৬ সাল)। সপ্তাহে অন্তত তিনদিন চুনারুঘাট বাজার একাদশ বনাম বনাম দুরন্ত সাথী একাদশ খেলা চলতে থাকে। চুনারুঘাটে আড্ডার একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে; অনেকটাই SSC ব্যাচভিত্তিক। আপনি ঈদ এর আগের রাতে বাজারে গেলে দেখবেন সবাই ব্যাচভিত্তিক আড্ডা দিচ্ছে। আমাদের দুই ব্যাচ senior দেব নেতৃত্বে গড়ে ওঠে দুরন্ত সাথী নামের এই সংগঠন। সোহেল ভাই, আশিষ দা, অঞ্জন দা, রাসেল ভাই, লিপু ভাই, আরও অনেকে। আমার বয়স তখন ১৪/১৫ বছর। চুনারুঘাট বাজার একাদশ এক বৈচিত্র্যময় টিম; ৩০ উর্ধ্ব বিদ্যুৎ দা, মানিক কাকা, দুলাল ভাই, সুমন ভাই, আবদাল ভাই (বয়স ৩০ বছরের কম), অন্যদিকে আমার বন্ধু শাহিদ (যদিও অনেকটাই অনিয়মিত), জুনিয়র থেকে পরিমল, রঞ্জন, রাজন, আমার নিয়মিত খেলার সঙ্গী ছোট ভাই শাওন – ভালো একটা combination । আমার পেস আক্রমনে অনেক উইকেট পড়ে গেলেও keeping এর দুর্বলতা আর আমার অতিরিক্ত wide এর কারণে ওভার প্রতি রান হয়ে যায় ৬/৭। দুলাল ভাই এসে রান control করেন। বিধ্বংসী স্পিনার, বল অনেকটা টার্ন করে। তাঁর এই টার্ন করার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, “ঘুরাইলেই ঘুরে”। আমরা এই বিষয়টা নিয়ে অনেক মজা করি। মানিক কাকা প্রায় প্রতি ম্যাচেই ভুল সিদ্ধান্তে out হন। হয়তো bump catch, কিংবা মাথায় লেগে ক্যাচ, leg-side এর প্রায় অনেক বাইরে lbw। সুমন ভাই খেলার অনেক বিষয় জানতেন। ভালো ইংরেজি জানতেন। উনি আমার শিক্ষকও। চার মারলে ক্রিজের মাঝখানে এসে বলতেন, “What a Shot!”
আরও একটা বিষয় বলা জরুরী। আমরা টেনিস বল বাদ দিয়ে মূল ক্রিকেট বল দিয়ে খেলা শুরু করি; কিন্তু আমাদের প্রয়োজনীয় ক্রিকেট সামগ্রী নেই। দুরন্ত সাথীর লিপু ভাই (উইকেট কিপিং করতেন) এর কাছে ২ জোড়া প্যাড ছিল। এক জোড়া keeping এর জন্য আর এক জোড়া batting-pad; যার একটা একটা করে দু’ব্যাটসম্যানের পায়ে। guard নেই, thai-pad নেই; দুই ব্যাটসম্যান একটা করে gloves পড়ে খেলি, এখন মনে হলে শিহরিত হই! কি দুঃসাহস! আমাদের কোন ভালো ব্যাটও নেই। Metro নামে একটা practice ব্যাট ছিল, অনেক ভারী, Timing হয় না। কিন্তু কী করার আছে? একটা ভালো ব্যাটের দাম প্রায় ৮০০/- টাকা। একটা ক্রিকেট বল কিনতে গিয়ে দোকানদারের (তখন মধ্য বাজারের মেইকারের দোকানেই শুধু ক্রিকেট বল পাওয়া যেত) কাছে অপমানিত হই, দাম প্রায় ১২০-১৩০/- টাকা। সবমিলিয়ে হয়তো ১০৮/- টাকা জোগায় হয় কিন্তু তাতে ইনিংস ব্রেকে অভুক্ত থাকতে হয়। একজন একটা আইসক্রিম কিনলে তিনজনে মিলে খাই, তবু আমাদের খেলা চলতে থাকে। চা বাগান একাদশের অনেক ভালো ব্যাট ছিল। Ihsan, CA নামে ব্যাট ছিল; এক কথায় অসাধারণ।
টেনিস বল দিয়ে আমাদের গালর্স স্কুলের মাঠে খেলাও চলতে থাকে। এরই মাঝে চুনারুঘাটের অনেক মাঠে খেলা হয়। ঈশ্বর পালের মাঠ, ০৪ নং ইউনিয়নে একটি মাঠ, অগ্রনী হাই স্কুল মাঠ, কলেজ মাঠ এবং আরও অনেক। আমার বন্ধু ফারুক মাঝে মাঝেই আমতলী একাদশ আর চুনারুঘাটের খেলা ঠিক করে। ফারুক খুব ভালো ক্রিকেট না খেলেও সংগঠক হিসেবে অনেক ভালো। আপনি যে অবস্থাই থাকুন না কেন সে আপনাকে মাঠ পর্যন্ত নিয়ে যাবেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই venue অগ্রনী হাই স্কুল মাঠ। মাঠটি বেশ ভালোও ছিল। সমস্যা হলো চুনারুঘাট হতে আমতলী যাওয়া। বাসই একমাত্র ভরসা, ভাড়া জনপ্রতি ১ টাকা কিন্তু আমরা প্রায় ১৫/১৬ জন ছাদে বসে ৫ টাকা ভাড়া দেই। conductor হাউকাউ করে। কিছু করারও নাই। আমাদের বল কেনার টাকা নাই, ভাড়া দেব কোথা থেকে?
ক্রিকেট বলে দুরন্ত সাথীদের সাথেও আমাদের নিয়মিত খেলা চলতে থাকে। batting-pad, gloves, guard ছাড়া আমাদের খেলায় অনেকেই ব্যাথা পায় তবুও প্রায় প্রতিদিন ১১.০০ থেকে ০২.৩০ আমাদের ভালো সময় কাটে। এরই মাঝে আবদাল ভাই হঠাৎ করে তাঁর innovative বুদ্ধি থেকে batsman দের জন্য batting-pad বানিয়ে আনেন। দোকান থেকে নেওয়া সাবানের বাক্স দিয়ে তৈরি করা pad, উপরে সাদা কাপড় দিয়ে মোড়া। আমাদের বিস্ময় আর আনন্দ মিলে এক অদ্ভুত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আবদাল ভাইয়ের কথা যেহেতু আসলো সেহেতু তাঁর batting নিয়ে বলতে হয়। ব্যাটে কখনোই stroke ছিল না। তাঁকে শুধু উইকেটে থাকার জন্য অনুরোধ করা হতো কারণ wide, no আর bye রান থেকে extra রান আসবেই। আবদাল ভাই অন্তুত দুপা সামনে এসে প্রতি বলে forward defence করতেন। তাঁর দলীয় মেইটেরা খুশি হয়, তালি দেয়।
Girls school বা কলেজ মাঠে টেনিস বল কিংবা নতুন করে scotch tape মোড়ানো টেনিস বল দিয়ে বৈকালিক খেলাও চলতে থাকে। এরই মাঝে অনেক বয়সী ক্রিকেটারদের মিলন মেলা তৈরি হয়। আমার পড়ালেখার সূত্র ধরে আমি তখন সিলেটে, HSC পড়ছি। ছুটিতে বাড়িতে আসলে কেবল খেলা হয়। বিশেষ করে ঈদের মৌসুমে সকাল বিকাল ম্যাচ চলতে থাকে। সাথে দুরেও খেলতে যাই, ক্ষ্যাপ মারতে। ক্ষ্যাপ মারা মানে হলো আসা যাওয়ার ভাড়া আর ইনিংস ব্রেকে দুটা সিঙ্গাড়া আর পেয়াজ-মরিচ। এত সস্তা ক্রিকেটার হিসেবে নাম লিখালেও ততদিনে আমার বোলিং action পুরো ঠিক হয়েছে। ১০/১২ হাত দৌড়ে এসে South Africa এর Allan Donald মতো খানিকটা লাফ দিয়ে বল করছি।
তবে এর মাঝে DCP High School মাঠে খেলাকে কেন্দ্র করে অনেক ঝামেলাও হয়। কেউ কেউ কোদাল দিয়ে পিচ নষ্ট করে রাখে। বলতে দ্বিধা করছি না, পিচে পায়খানাও পাওয়া যায়। ক্রিকেট যেহেতু খেলতে হবে, তাই সবাই মিলে এসব পরিষ্কার করি, মাঠ ঠিক করি। সবকিছু ছাপিয়ে আকর্ষণীয় হয়ে উঠে আমাদের উত্তর বাজার বনাম দক্ষিণ বাজার খেলা। প্রতি ঈদের দিন অথবা এর পরদিন, এবং অবশ্যই ক্রিকেট বল দিয়ে। উত্তর বাজারের পক্ষে লিপু ভাই, ব্যারিস্টার সুমন; আমাদের দক্ষিণ বাজারের পক্ষে আমরা তিন ভাই, মানিক কাকা, আবদাল ভাই, অঞ্জন দা, পরিমল, নোবেল, সোহেল ভাই আরও অনেকে। দর্শক হিসেবে সব সময়ের জন্য আমাদের অনুপ্রেরণা জার্নেল (বর্তমানে একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যান্ড দলের সদস্য), মানবেন্দ্র দেব লিটন, আমরা বন্ধু নাসির উদ্দিন প্রমুখ। সুমনকে নিয়ে বলতে হয়, সে ভালো ব্যাট করত; বিশেষ করে straight drive, down the wicket এসে খেলা। তবে তাকে out করতে হলে long-on ও long-off এ দুজন ভালো fielder রেখে দিলে সে ৩/৪ টি চার-ছয় মেরে catch দিয়ে back to pavilion। তবে তার পেস বোলিং ও ব্যাটিং আমাদের অনেক ঝামেলায়ও ফেলেছে।
খেলা শুরুর আগে আমাদের বাসার পরামর্শ হতো, ফলাফল নিয়ে আলোচনা হতো। যেহেতু আমরা তিন ভাই ও মানিক কাকা একসাথে যেতাম তাই যাওয়ার সময় বলে যেতাম যে এই চার জন মিলেই তো ১০০ রান! সময়টা ১৯৯৭ থেকে ২০০২; উত্তর বাজার বনাম দক্ষিণ বাজার অনেক ম্যাচ হয়েছে। একটি ম্যাচ বেশ স্মরনীয়। উত্তর বাজার প্রথমে ব্যাট করে ১৫ ওভারে ১০৫ রান সংগ্রহ করে। আমরা chase করে শেষ বলে ০১ উইকেটে জয়লাভ করি। আমি ২৭ রান করেছিলাম। শেষে আবদাল ভাইয়ের সেই forward defence ই আমাদের জয়ে সাহায্য করেছে।
এ সময়টাতে চুনারুঘাট ক্রিকেট একটা জায়গায় পৌছেছে। প্রায় প্রতিটি চা বাগানে আলাদা ক্রিকেট দল। বিশেষ করে আমু বা চাগান, চান্দুপুর চা বাগান, চাকলা পুঞ্জি চা বাগান, চন্ডিছড়া চা বাগান, নালুয়া চা বাগান এবং আরও অনেক। প্রায় প্রতিটি বাগানে অসম্ভব সুন্দর আর গোছানো খেলার মাঠ আমাদের এলাকার সৌন্দর্যকে অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছে। এরই মাঝে চুনারুঘাট বাজার ক্রিকেট একাদশ বলতে কাদেরকে বুঝাবে তা নিয়ে মতানৈক্য তৈরি হয়। আমি তখন সিলেটে, বাসায় গেলে খেলি। পেস বোলার হিসেবে আমাকে team এর বাইরে রাখার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু চুনারুঘাট বাজার একাদশ আমাকে ছাড়াই হবিগঞ্জ প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলতে নাম লেখায়।
সময় ১৯৯৬-৯৭ সাল। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে যে ক্রিকেটকে ধরে রেখেছি, নিজের টিফিনের টাকা দিয়ে বল কিনেছি, দুপুরে একটা সিঙ্গাড়া কিনে ভাগ করে খেয়েছি সেই সব লোকেরা আমাকে না নিয়েই team তৈরি করে। খুবই কষ্টে সময় কাটে। সে সময় আমার MC College এর year-mate তানভীর তার team BKCC-তে আমাকে খেলতে বলে। BKCC মানে ‘বসন্ত কলি ক্রিকেট ক্লাব’। মজার বিষয় হলো BKCC এর সাথে আমাদের চুনারুঘাট একাদশের খেলা পড়ে যায়। ৩৫ ওভারের খেলায় আমার BKCC দলের একজন অপরাজিত ১১৭ রান করে। আমরা ঠিক কত রানে জিতেছিলাম মনে নেই তবে ঐদিন আমার আরও একটা জয় হয়েছিল। যদিও টুর্নামেন্টের একটা নিয়মের কারণে আমাদের জয়টা চুনারুঘাটকে দিয়ে দেওয়া হয়। তবুও আমি খুশি ছিলাম ঐ ম্যাচে খেলতে পেরে। ব্যাট হাতে তিনবল খেলার পর lbw হই। বল করতে হয়নি, কিন্তু দারুন fielding করেছিলাম।

সময়ের স্রোতে চুনারুঘাটের অনেক খেলোয়াড়দের সুনাম সবার জানা হয়ে যায়। কেউ কেউ ভালো পেস বল, স্পিন বল করতে পারে। তবে ব্যাটিংয়ে বেশ ভালো কজন নতুন ক্রিকেটার পাওয়া যায়। আমার সব ছোট ভাই শাকী, জেমস, নোবেল, রঞ্জন, রেন্টি সহ উদীয়মান ব্যাটসম্যান তৈরি হয়। শাকী batsman হিসেবে ভালো করতে থাকে, উইকেটের চারপাশে শট খেলতে পারে। তারই সমসাময়িক জেমস নামে একটা ছেলে দারুন ব্যাট করে। আমাদের সবার শ্রদ্বেয় দুলাল ভাই তাঁর অফস্পিনে তখনো সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন।
এরই মাঝে সিনিয়র-জুনিয়রদের খেলাও হয়। একদিন DCP High School মাঠে scotch tape মোড়ানো টেনিস বল দিয়ে senior vs junior খেলা হয়। সম্ভবত আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটিতে বাড়িতে ছিলাম (সময় ১৯৯৮ সাল)। ২৫ ওভারের ম্যাচে আমি চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৪২ রান করি। যদিও পরে শুনেছি রান চুরি করে বাড়ানো হয়েছিল! ঘটনাটি এজন্য লিখলাম যে, শেষ বলে জুনিয়রদের জয়ের জন্য ৪ রান দরকার ছিল। আমার বোলিং quota তখন শেষ। ব্যাট হাতে আমার ছোট ভাই শাওন আর senior দের দলের বল হতে আমার বন্ধু শাহিদ (বর্তমানে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ)। বলটা লেগ স্ট্যাম্পের সামান্য বাইরে ছিল, আর deep fine-leg এ fielder না থাকায় half glance-half pool করার পর বল সীমানার বাইরে চলে যায়। খেলা শেষে সবাই একসাথে ফিরে আসি। জুনিয়ররা মিছিল দেয়, আমারা মনে মনে দুঃখ পেলেও তাদেরকে বুঝতে দেই না।

১৯৯৮-৯৯ সালের দিকে চুনারুঘাটে একটা ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হয়। হবিগঞ্জসহ অনেক জায়গা থেকে team আসে। তখন আমাদের একটা সামাজিক সংগঠন ছিল, নাম The Miracle। সমাজকে ভেঙ্গে নতুন করে সাজাতে চেয়েছিলাম। তবে শেষ পর্যন্ত The Miracle ই ভেঙ্গে যায়। যাই হোক, The Miracle team এর entry fee দেয়া হয়। আমরা বাইরে থেকে দুজন পেসার নিয়ে আসি। আমি ঐদিন ইনিংসের প্রথম বলে caught & bowled করে উইকেট পাই। কিন্তু একটা out নিয়ে খেলা আর হয়নি; third-man এর বল থাকার পর বল ডেড হবার আগেই আমাদের দলের batsman ব্যাট দিয়ে পিচ ঠিক করতে ক্রিজ ছেড়ে সামনে চলে যায়। তারপর বল আসলে উইকেট কিপার স্ট্যাম্প ভেঙ্গেঁ দেয়। ব্যাটসম্যান বাইরে ছিল কিন্তু রান নেওয়ার উদ্দ্যেশে নয়। Umpire সঠিক নিয়মেই বল ডেড না হবার কারণে আউট দিয় দেন। আমাদের বন্ধুরা হৈহুল্লুড় শুরু করে ফলে খেলা আর চালানো যায়নি।
আমাদের বাসার কাছেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব আর মেলা হতো। প্রতি বছর সম্ভবত পৌষ মাসের প্রথম ৭-১০ দিন। একদিন আমরা ঐ মেলা থেকে টেনিস বল কিনে আনি। কি কারণে জানি পরদিন আমার বাবা গালর্স স্কুলের মাঠে যান। বাবাকে কখনোই ভালো ক্রিকেটার মনে হয়নি যদিও তিনি অফিস বাদ দিয়ে সারাজীবনই ক্রিকেট খেলা দেখেছেন। বিধিবাম; তাঁর এক শটে আমাদের বল ফেটে যায়। একটা উপলব্ধি হয়, ১৯৮৮ সালে যে টেনিস বল দিয়ে ছয় মাস খেলেছি ১৯৯৮ তে এসে সে বল আর টেকসই থাকেনি। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো আমরাও টেনিস বলকে scotch tape পেছিয়ে বলের স্থায়ীত্ত বাড়াই। লক্ষনীয় যে, scotch tape মোড়ানো টেনিস বল পেসারদের জন্যও ভালো, ব্যাটসম্যানদের জন্যও ভালো – একটা win-win situation.
১৯৯৯-২০০০ সালের দিকে ক্রিকেট মাঠে আমরাই সিনিয়র। বয়সের সাথে ব্যাটিংয়ে সামান্য ধার বাড়লেও বোলিং পড়তির দিকে। লাইন ঠিক থাকলেও লেংথ খারাপ হয়ে যাওয়ায় জুনিয়ররাও চার-ছয় মারতে থাকে। অগ্রণী হাই স্কুলের আলী স্যার আমাদেরকে বিশাল বিশাল ছয় মারেন। তবুও DCP High School, কলেজের মাঠ, গালর্স স্কুলের মাঠে দিনের প্রায় দুই ভাগেই খেলা চলতে থাকে। আর ইনিংস ব্রেক এ আমাদের খাবার হল সিঙ্গারা, বন রুটি-চা, কিংবা ঝাল মুড়ি। সাথে ৩/৪ জন ভাগ করে খাওয়া আইসক্রিম!
ততদিনে আমাদের সিনিয়ররা ক্রিকেট মাঠ ত্যাগ করেছেন। তবে মজার বিষয় হলো ফুটবল খেলোয়াড়রা ক্রিকেট মাঠে আসতে শুরু করে। বিশেষকরে, আমার বন্ধু আকসির, বাচ্ছু এবং আরো অনেকে। বাচ্ছু ভালো স্পিন করতো যদিও নো বল হবার সম্ভাবনাই বেশি। একটা বিষয় উল্লেখ করা দরকার, সে সময় প্রায় সকল খেলাই ক্রিকেট বলে হয়েছে। কারণ ততদিনে আমরা দুপায়ে batting-pad, দুহাতে gloves, guard পড়তে পারি। এক পায়ে batting-pad ও একহাতে gloves পড়া দিনগুলো তখন দুঃসহ অতীত।
ক্রিকেট sense ও তখন ভালো। বল পুরাতন হলে স্পিনের ওভার বেড়ে যায় কারণ বল শুধু ছেড়ে দিলেও স্পিন হয়। DCP High School এর মরা পিচে বল হঠাৎ low হয়ে সরাসরি উইকেট ভেঙ্গেঁ দেয়। তবে আমার জন্য সব সময়ই চাঁন্দপুর চা বাগানের মাঠটি সবচেয়ে ভালো ছিল। টিলার লালচে শক্ত মাটির পিচ একজন পেস বোলারের জন্য দারুন আনন্দের। Australia আর South Africa তে খেলছি বলে মনে হতো। এর সাথে চা বাগানের ফ্যাক্টরি থেকে ভেসে আসা কচি চা-পাতার মিষ্টি গন্ধ আমাকে এখনো নষ্টালজিক করে তোলে। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন ২০০৪ সাল পর্যন্তই মোটামুটি খেলা হয়েছে। তারপর খুবই বিশেষ উপলক্ষে; হয়তো ছুটিতে বাড়ি আসলে, ঈদে কিংবা বিশেষ occasion এ খেলা হয়েছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চুনারুঘাট কলেজ মাঠ আর DCP High School মাঠে আমাদের সেই উত্তর বাজার বনাম দক্ষিণ বাজার ম্যাচ – যথারীতি ঈদ অথবা এরপর দিন।
ক্রিকেট আজ জীবন থেকে অনেক দূরে, তবে ক্রিকেট থেকে অর্জন হলো আমি ক্রিকেটকে বুঝি। নিজে ভালো না খেলতে পারলেও ক্রিকেট sense টা develop করেছে। মুস্তাফিজের মতো অনেক মেধাবী তরুন/তরুনী বিশ্ব ক্রিকেটে আমাদেরকে পরিচিত করে তুলেছে। দর্শকদের আন্তরিকতায় বাংলাদেশ ক্রিকেট এক স্বপ্নীল জগতে বিচরণ করছে। বর্তমান ক্রিকেট নিয়ে আমার একটা অভিযোগ রয়েছে। অনেকক্ষেত্রে মূল ধারার ব্যাকরণ ভিত্তিক ক্রিকেট বাদ দিয়ে দেশ জুড়ে আমরা short boundary, এক side off রেখে নানা ধরণের ক্রিকেট খেলছি। আমাদের সকল প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের বিশ্ব ক্রিকেটে পরিচিত করার জন্য সত্যিকার অর্থে দেশজুড়ে অনেক ভালো মাঠ দরকার। আমি কোন নামকরা ক্রিকেটার না হলেও একটা উপজেলার ক্রিকেটের ঊষালগ্নে নিজের সম্পৃক্ততা ছিল, এটাই আমার জন্য গৌরবের। কে জানে আমার উপজেলা থেকেও কেউ একদিন হয়তো বিশ্ব ক্রিকেটে জায়গা করে নিবে। তবে সূচনা লগ্নের একজন ক্রিকেট প্রেমিক হিসেবে আমি শুধু তার কাছে পরিচিত হতে চাইব – এ প্রত্যাশা করি।

দ.ক.সিআর.২৬

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© 𝐰𝐰𝐰.𝐤𝐚𝐚𝐥𝐧𝐞𝐭𝐫𝐨.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট