
হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার মোড়াকরি ইউনিয়নের মোড়াকরি গ্রামের একপাশে প্রকৃতিঘেরা পরিবেশে অবস্থিত। গ্রামবাংলার মাঝে এরকম একটা জমিদারবাড়ি সত্যিই দারুণ। বিশেষ করে এ জমিদারবাড়িটির প্রবেশ তোরণ, মূল বাড়ি, পুজো ঘর, পুকুরঘাট দেখলেই যেকোনো দর্শনার্থীর চোখ জুড়িয়ে যাবে। এবং বাড়িটির নকশা, শৈল্পিক কারুকাজ এবং শানবাঁধানো ঘাটের আদল দেখলেই মুহূর্তের মধ্যেই আপনার মন চলে যাবে সেই জমিদারির সময়কালে।
মোড়াকরি গ্রামের পূর্বদিকে অবস্থিত জমিদারবাড়িটি। নির্মাণ করেন প্রায় ১৫০ বছর আগে। রাসবিহারী সাহার তৈরি বাড়িটি। এই জমিদার বাড়িতে প্রবেশ করার জন্য প্রথম ফটক রয়েছে। ভিতরে পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো কিছু পুরাতন অট্টালিকা বা প্রাসাদ রয়েছে। মূল প্রবেশদ্বার বা প্রবেশ তোরণের বাহিরে রয়েছে। পাকা সিঁড়ি দিয়ে নেমে যেখানে জমিদার পরিবারের সদস্যরা পুকুরে গোসল করতেন। আজ থেকে প্রায় ১৫০ বছর আগে পানি পান করার জন্য কুয়া বা পুকুর ব্যবহার করতেন।
বর্তমান আধুনিকযোগে এইসব কথা যেন রূপকথার গল্পের মতো মনে হয়।
রাসবিহারী সাহা এবং লোকনাথ রায় জমিদার ছিলেন ঠিকই, কিন্তু এখন দেখলে মনে হবে রাজাবিহীন এক রাজ প্রাসাদ। আপনারা গিয়ে এক নজর দেখে আসতে পারেন। তবে বিশেষ করে বাড়িটি আজ সংস্কারের অভাবে দিন দিন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তবে যদি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রত্ন অধিদপ্তর এর দায়িত্ব নেয়, তাহলে হয়তো এই পুরোনো রাজবাড়িটি কিছুটা আগের রূপ ফিরে পাবে এবং সৌন্দর্যে ও আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। যদিও বাড়িটিতে প্রবেশে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে জমিদারবাড়ির উদ্দেশে আসলে আরও কিছু দেখতে পারবেন। যেমন- বাগানবাড়ি, বলভদ্র সেতু।
তথ্য: প্রতিদিনের বাংলাদেশ